জঙ্গি অর্থায়ন হবিগঞ্জে প্রবাসী গ্রেপ্তার

40

জঙ্গি সংগঠনকে অর্থায়ন ও দেশবিরোধী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকার অভিযোগে তুরস্ক ফেরত মোস্তাক আহমেদকে গ্রেপ্তারের পর ১০ দিনের রিমান্ড চেয়েছে পুলিশের অপরাধ ও তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গতকাল মঙ্গলবার হবিগঞ্জের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. সোলায়মানের আদালতে তাকে সোপর্দ করে এ আবেদন জানানো হয়। এরআগে সোমবার বিকালে হবিগঞ্জ শহর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ব্যাপারে সিআইডির পুলিশ পরিদর্শক সফি আহমেদ বাদী হয়ে সদর থানায় একটি মামলা করেন। গ্রেপ্তারকৃত মোস্তাক আহমদ খাঁ (৩৫) বানিয়াচং উপজেলার তকবাজখানী মহল্লার মনোয়ার আহমেদ খাঁ’র পুত্র। তাকে নিয়ে সারা জেলায় তোলপাড় চলছে।
এদিকে, গতকাল সিআইডির মালিবাগ কার্যালয়ে মোশতাককে গ্রেপ্তার নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। বিশেষ পুলিশ সুপার মোল্লা নজরুল ইসলাম বলেন, ২০১৪ সালে জামায়াত-বিএনপির রাজনৈতিক সহিংসতার সময় মোস্তাক আহমেদ খাঁর প্রায় দুই কোটি টাকা আর্থিক লেনদেনের প্রমাণ পেয়েছে সিআইডি। এ সময় তুরস্ক থেকে প্রায় ১ কোটি ৮৬ লাখ টাকা তার অ্যাকাউন্টে আসে। সেই টাকা মোস্তাক দেশ বিরোধী বিভিন্ন সংগঠনে বিনিয়োগ করেন। নজরুল ইসলাম জানান, প্রায় ১০ বছর আগে মোস্তাক অবৈধভাবে তুরস্ক যান। সেখানে তিনি বিভিন্ন সন্ত্রাসী ও জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তুলেন। সেখান থেকেই দেশের বিভিন্ন গার্মেন্টস, এনজিও ও ব্যক্তির নামে টাকা পাঠান। দেশে আসার পরও তিনি বাংলাদেশের জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে জড়িয়ে যান। তার নিজস্ব এনজিও আল কাওছার ও রোহিঙ্গা মুসলিম নামের অ্যাকাউন্টে তুরস্ক থেকে আসা টাকা লেনদেন করেন। জঙ্গি তৎপরতা বৃদ্ধি ও দেশ বিরোধী কর্মকাণ্ড ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে এবং রোহিঙ্গা মুসলিম ও বেআইনি এনজিওর বিভিন্ন অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থের লেনদেন করেন। তিনি বলেন, তদন্তে জানা যায় ২০১৪ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত তার নামে বিস্ফোরকদ্রব্য, মারামারি ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে আরো ৫টি মামলা রয়েছে। তবে মোস্তাক এসব টাকা তুরস্কের বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে মুসলিমদের কল্যাণে দান ও মসজিদ মাদরাসার জন্য এনেছেন বলে সিআইডির কাছে বলেছেন। মোল্যা নজরুল ইসলাম আরো জানান, মোস্তাক দেশে জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তার ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টের বন্ধুদের তালিকায় তুরস্কের ও সিরিয়ার একাধিক নাগরিক রয়েছেন এবং তাদের সঙ্গে মোস্তাকের নিয়মিত যোগাযোগের বিষয়টি ধরা পড়েছে। এমনকি ২০১৫ সালে সন্ত্রাস বিরোধী একটি মামলার তদন্তে সন্দেহজনক বিপুল অর্থ লেনদেনের বিষয়টি বের হয়ে আসে।
মামলা সূত্রে প্রকাশ, গ্রেপ্তারকৃত মোস্তাক ১০/১১ বছর আগে অবৈধভাবে তুরস্ক যান। সেখানে ৫/৬ বছর অবস্থান করেন। সেখানে তিনি জঙ্গি সংগঠন ও ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলেন। দেশে ফেরার পর তিনি জঙ্গি তৎপরতা বৃদ্ধি ও দেশবিরোধী কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য অর্থ সংগ্রহ করেন। ইসলামী ব্যাংক হবিগঞ্জ শাখায় তার নামীয় হিসাবে দেশ ও দেশের বাইরে থেকে ৯২ লাখ ৭২ হাজার টাকা জমা হয় এবং ৯২ লাখ ৬৮ হাজার টাকা উত্তোলন হয়। ওই হিসাবে গত ২ বছরে ৪৮ লাখ ৪৫ হাজার টাকা বিদেশি রেমিটেন্স জমা হয়। এ ছাড়াও চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজারের বিভিন্ন ব্যাংকে বিপুল অঙ্কের টাকা জমা হয়। মোস্তাকের মালিকানাধীন এমকে এন্টারপ্রাইজের নামে একই ব্যাংক শাখায় অপর একটি হিসাবে ১১ জুন ২০১৪ থেকে ২৭শে ডিসেম্বর ২০১৬ পর্যন্ত ১৯ লাখ ৩০ হাজার টাকা জমা এবং ১৯ লাখ ১০ হাজার টাকা উত্তোলন হয়। উক্ত অর্থের সঠিক উৎস ও ব্যয়ের সঠিক কোনো তথ্য কেউ দিতে পারেনি। ওই হিসাবগুলো থেকে ৫টি অ্যাকাউন্টে বিপুল পরিমাণ অর্থ স্থানান্তর করা হয়েছে। অপরদিকে ব্র্যাক ব্যাংক বানিয়াচং শাখায় মোস্তাকের সহযোগী কাউছার মিয়া ও তার শাশুড়ি হামিদা খাতুনের নামে সঞ্চয়ী হিসাবে দেশের অভ্যন্তরে ও বিদেশ থেকে অর্থ সংগ্রহ করে বাংলাদেশের জঙ্গি সংগঠনগুলোকে অর্থ সহায়তা করছেন। এর প্রেক্ষিতে তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনসহ মানি লন্ডারিং আইন ২০১২ সংশোধিত ২০১৫ এর ৪(২) ধারায় হবিগঞ্জ সদর থানায় মামলা করা হয়েছে। উক্ত মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করে ১০ দিনের রিমান্ডা প্রার্থনা করা হয়। সিআইডির পুলিশ পরিদর্শক শফি আহমদ জানান, মোস্তাককে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তার অ্যাকাউন্টে কারা কারা টাকা জমা করে এদের ব্যাপারেও খোঁজ খবর নেয়া হচ্ছে। তার ব্যাংক হিসাবে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্রসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে হুন্ডির মাধ্যমে টাকা লেনদেন করছে।