জঙ্গি সন্দেহে ভারতে গ্রেপ্তার এক বাংলাদেশী

24

ভারতের মুজাফফরনগর থেকে জঙ্গি সন্দেহে আবদুল্লাহ আল মামুন নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে উত্তর প্রদেশের সন্ত্রাস বিরোধী স্কোয়াড (এটিএস)। রোববার সকালে মুজাফফরনগর জেলার কুটিসারা গ্রাম থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ভুয়া আইডি তৈরিতে ব্যবহৃত গ্রাম প্রধান, জেলা নির্বাচন অফিসার ও প্রশাসনের অন্যান্য কর্তৃপক্ষের ভুয়া স্ট্যাম্প। পরে এ বিষয়ে বিবৃতি দিয়েছে এটিএস। তাতে বলা হয়েছে, গ্রেপ্তার করা আবদুল্লাহর মূল বাড়ি বাংলাদেশের ময়মনসিংহ জেলায়। তিনি বাংলাদেশে নিষিদ্ধ ঘোষিত সন্ত্রাসী সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের (এবিটি) সঙ্গে যুক্ত। ২০১১ সাল থেকে ওই এলাকায় অবস্থান করছিলেন আবদুল্লাহ। এ সময়ে তিনি ঘন ঘন যাতায়াত করতেন সাহারানপুর ও দেওবন্দে। জিজ্ঞাসাবাদে আবদুল্লাহ জানিয়েছেন, তার প্রধান কাজ ছিল ভুয়া আধার কার্ড ও অন্যান্য ডকুমেন্ট তৈরি করে ভারতে আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সদস্যদের পুনর্বাসন করা। তার সন্ধান পাওয়ার পর ওই অঞ্চল ও এর আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় গুপ্ত অবস্থায় সক্রিয় থাকা আরও জঙ্গির সন্ধানে নেমেছে পুলিশ। এতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন সাহারানপুর রেঞ্জের ডিআইজি। তার সঙ্গে আছেন সাহারানপুর, মুজাফফরনগর ও শ্যামলি জেলার পুলিশ। টেরোরিজম, রিসার্চ অ্যান্ড এনালাইসিস কনসোর্টিয়াম (টিআরএসি) প্রদত্ত তথ্যে বলা হয়েছে, আনসারুল্লাহ বাংলা টিম হলো আল কায়েদার আদর্শে উদ্বুদ্ধ বাংলাদেশের ইসলামপন্থি উগ্র গ্রুপ। তাদের লক্ষ্য হলো বাংলাদেশের যুব শ্রেণিকে মৌলবাদী করে তোলা। স্থানীয় পর্যায়ে জিহাদে সক্রিয় করা। বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকার নিয়ন্ত্রণ নেয়া। টিআরএসি’র ওয়েবসাইট অনুযায়ী, এই গ্রুপটি জিহাদি আদর্শ প্রচার ও সন্ত্রাসী হামলার দিকনির্দেশনামুলক প্রশিক্ষণে ব্যাপকভাবে ব্যবহার করে সাইবার স্পেস বা ইন্টারনেট। এ ছাড়া আনসারুল্লাহ বাংলা টিম তাদের আদর্শ প্রচারের জন্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানও ব্যবহার করে। একটি মসজিদ থেকে জিহাদি আদর্শ ছড়িয়ে দেয়ার অভিযোগে ২০১৩ সালের ১২ই আগস্ট আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের নেতা মুফতি জসিমুদ্দিন রহমানিকে বরগুনা থেকে ৩০ সদস্যসহ গ্রেপ্তার করে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ।