জলে ডুবে গেছে মেধাবী শিক্ষার্থী তৃপ্তির স্বপ্ন

84

সানী ইসলাম, নালিতাবাড়ী  (শেরপুর): ২০১৭-১৮ শিক্ষা বর্ষের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের চলছে নির্বাচনী (টেস্ট) পরিক্ষা। শেরপুরের নালিতাবাড়ীর শিক্ষার্থী ফাতেমা জান্নাত তৃপ্তিও (১৫) রুটিন মাফিক নির্বাচনী পরিক্ষা দিচ্ছিলো। শিক্ষার্থী হিসেবেও ছিলো মেধাবী। বাবা মা ও তৃপ্তির  স্বপ্ন এসএসসিতে জিপিএ-৫ পাওয়া। কিন্তু পুকুরের জলে ডুবে সেই স্বপ্ন গেছে।

জানা গেছে, উপজেলার পলাশিকুড়া গ্রামের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক আবদুল কুদ্দুসের মেয়ে ফাতেমা জান্নাত তৃপ্তি। তৃপ্তি  পলাশিকুড়া জনতা উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণি থেকে নির্বাচনী পরিক্ষা দিচ্ছিলো। যথারীতি গত ১৬ সোমবার তৃপ্তি বাংলা দ্বিতীয় পত্রের টেষ্ট পরীক্ষা দিয়ে বাড়িতে আসে। পরে সে বাড়ির পাশে একটি পুকুরে গোসল করতে যায়। কিন্তু দীর্ঘক্ষণ অতিবাহিত হয়ে গেলেও ঘরে ফিরে না আসায় তার মা মনোয়ারা বেগম পুকুর ঘাটে খোঁজ নিতে যায়। এসময় দেখে তার মেয়ে তৃপ্তির লাশ পানিতে ভেসে আছে।

সরেজমিনে নিহত তৃপ্তির পরিবারের সাথে কথা বলে জানা যায়, তৃপ্তি ২০১৪ সালে হঠাৎ অসুস্থ্য হয়ে পড়ে। পরে চিকিৎসকরা তার নার্ভে সমস্যার ( দ্রুত চলা ফেরা করতে না পারা) কথা জানান। তবে দেশে চিকিৎসায় তেমন ফল পাওয়া যাচ্ছিল না। তাই তৃপ্তিকে ভারতে নিয়ে উন্নত চিকিৎসা দেওয়ার প্রক্রিয়াও চলছিল। কিন্তু গত সোমবার পুকুরে গোসল করতে গিয়ে তার মৃত্যু হয়। পরে ১৭ অক্টোবর মঙ্গলবার সকাল ১০টায় তৃপ্তির জানাযা শেষে তার মা‘র অনুরোধে বাড়ির আঙিণায়  মেয়ের কবর দেওয়া হয়েছে। তৃপ্তির এমন অকাল মৃত্যুতে তার পরিবার ও এলাকার মানুষের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

পলাশিকুড়া জনতা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নেছার উদ্দিন বলেন, তৃপ্তি খুব মেধাবী শিক্ষার্থী ছিল। সোমবার বাংলা দি¦তীয় পত্র পরিক্ষা দিয়েছে সে ভালো ভাবে। কিন্তু বিকেলে শুনি তৃপ্তি আর নেই। তার অকাল মৃতে্যু বিদ্যালয়ে শোকের ছায়া নেমে এসছে।

তৃপ্তির বাবা আব্দুল কুদ্দুস  বলেন, আমার মেয়ে পরিক্ষা দিয়ে এসে মা‘কে ডিম ভাজতে বলে। গোসল করে এসে খাবে তাই। কিন্তু আমার মেয়ে সবাইকে না বলে চলে গেলো বলে কাঁদতে থাকেন তিনি।