জাতিসংঘ নেতৃত্বাধীন যাচাইকরণ প্রক্রিয়ার প্রস্তাব

27

রাখাইনে সহিংসতা থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের যাচাইকরণে জাতিসংঘ নেতৃত্বাধীন প্রক্রিয়া চালুর প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ। মিয়ানমারের ডি ফ্যাক্টো নেতা অং সান সুচি ১৯শে সেপ্টেম্বর এক বিবৃতিতে বলেছিলেন, তার দেশ যাচাইকরণের পর নিজেদের নাগরিকদের ফেরত নিতে প্রস্তুত। এরপরই জাতিসংঘ নেতৃত্বাধীন যাচাইকরণ প্রক্রিয়ার প্রস্তাব দিলো বাংলাদেশ।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলরের কার্যালয়ের মন্ত্রী কিয়াও টিন্ট সোয়ে আগামী সপ্তাহে বাংলাদেশে আসতে পারেন। তবে, সফরের সম্ভাব্য দিনক্ষণ এখনো ঠিক হয় নি। ওই কর্মকর্তা আরো জানান, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের দুর্দশা দেখানোর জন্য তারা চেষ্টা করবেন মিয়ানমারের মন্ত্রীকে কক্সবাজার নিয়ে যেতে।
সুচির বিবৃতি নতুন এক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। সেটা হলো- জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করা যেসব মানুষ বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিয়েছে তাদের পরিচয় কিভাবে যাচাই করা হবে?
কূটনীতিকরা বলছেন, নাগরিকত্ব যাচাই করার আন্তর্জাতিক নানা প্রক্রিয়া রয়েছে। কিন্তু, এসব প্রক্রিয়া প্রধানত তাদের জন্য যাদের নাগরিকত্ব রয়েছে। আর রোহিঙ্গারা রাষ্ট্রহীন এক জনগোষ্ঠী যাদের নাগরিকত্ব দশকের পর দশক ধরে অস্বীকার করে আসছে বার্মা।
পরিচয় গোপন রাখার শর্তে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেছেন, ‘আমরা জাতিসংঘ নেতৃত্বাধীন একটি প্রক্রিয়ার প্রস্তাব করছি।’
সুচি বলেছেন, যাচাইকরণ পদ্ধতিটা ওইসব নীতির ওপর ভিত্তি করে করা হবে যেগুলোতে উভয় দেশ সম্মত হয়েছিল ১৯৯২ সালে। সেবার দুদেশ একটি সমঝোতায় স্বাক্ষর করেছিল আর বার্মা আনুমানিক ২ লাখ ৫০ হাজার রোহিঙ্গাকে মিয়ানমার সমাজের সদস্য হিসেবে ফেরত নিয়েছিল। সে সময় মিয়ানমার তাদের ফেরত নিতে সম্মত হয়েছিল যারা মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ ইস্যুকৃত কোনো না কোনো পরিচয়পত্র দেখাতে পেরেছিল এবং যারা মিয়ানমারে তাদের থাকার ঠিকানা বা সংশ্লিষ্ট তথ্যাদি দিতে সক্ষম হয়েছিল।
তবে, এবার যারা পালিয়ে এসেছেন তাদের কাছে কোনো প্রকার পরিচয়পত্র থাকার সম্ভাবনা কম বলে উল্লেখ করেছেন এক কূটনীতিক। তিনি বলেন, ‘তারা শুধু প্রাণ নিয়ে পালিয়েছে। তাছাড়া, এক বছর আগেই তাদের কাছে থাকা সকল প্রকার কাগজপত্র বাতিল করে দিয়েছে বার্মিজ সরকার।’
তারপরও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় রোহিঙ্গাদের যাচাইকরণে কিছু প্রক্রিয়া নির্ধারণ করতে পারে বলে উল্লেখ করেন ওই কূটনীতিক।
বাংলাদেশ সরকার ইতিমধ্যে নতুন আসা রোহিঙ্গাদের বায়োমেট্রিক নিবন্ধন শুরু করেছে। জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর বলেছে, রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে এটা কাজে আসবে।

 

 

 

সূত্র : মানবজমিন অনলাইন পত্রিকা