জুলাইয়ে ধর্ষণের শিকার ৩২ শিশু

31

জুলাই মাসে ৮০ নারী ও শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। যার ৩২ জনই শিশু। আর ধর্ষণের পর হত্যার শিকার হয়েছে ৩ জন। এ ছাড়া জুলাই মাসে পিতা-মাতার নৃশংসতার শিকার হয়ে মারা গেছে ৫ শিশু। যৌতুকের কারণে প্রাণ দিতে হয়েছে ৬ গৃহবধূকে। অন্যদিকে সন্ত্রাসীদের হাতে নিহত হয়েছেন ৭৩ জন। গতকাল এ তথ্য দিয়েছে বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা (বিএমবিএস)। দেশের শীর্ষস্থানীয় কয়েকটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত সংবাদ ও সংস্থাটির বিভিন্ন জেলা, উপজেলা ও পৌরসভার স্থানীয় প্রতিনিধিদের সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে তারা চিত্র তুলে ধরে। সংস্থাটি বলছে, জুলাই মাসে দেশের সামগ্রিক মানবাধিকার পরিস্থিতির ইতিবাচক কোনো পরিবর্তন হয়নি। পারিবারিক ও সামাজিক নৃশংসতার ঘটনা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।
জানা যায়, গত রোববার বিকালের দিকে এক শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা করে এক পাষণ্ড। ৪ বছরের ওই শিশুটিকে খাবার দেয়ার লোভ দেখিয়ে নৃশংস এ ঘটনা ঘটায়। এর এর আগে বগুড়ায় এক কলেজছাত্রীকে ধর্ষণ করে পরে তাকে ও তার মাকে মাথা ন্যাড়া করে নির্যাতনের ঘটনায় দেশজুড়ে আলোচনা শুরু হয়। বিএমবিএস-এর দেয়া তথ্যমতে, জুলাই মাসে ধর্ষণের শিকার হয়েছে ৮০ জন নারী ও শিশু। এদের মধ্যে শিশু ৩২ জন। বাকি ৩৭ জন নারী। ৮ জন নারী গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে ৩ জনকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। সংস্থাটির মতে, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও রাজশাহীতে ধর্ষণের ঘটনা তুলনামূলক বেশি। অন্যদিকে জুলাই মাসে হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে ৩৪ শিশু। স্বয়ং পিতা-মাতার হাতে খুন হয়েছে ৫ শিশু। এর মধ্যে নীলফামারীতে দশ মাসের শিশু কন্যাকে কুপিয়ে হত্যা করে পাষণ্ড পিতা। ঝালকাঠিতে ৮ হাজার টাকা চুরির অপরাধে চতুর্থ শ্রেণির এক ছাত্রকে হাত পা বেঁধে নির্যাতন করা হয়। ঢাকা ও রাজশাহী বিভাগে শিশু হত্যার সংখ্যা বেশি। গতমাসে যৌতুকের কারণে প্রাণ দিতে হয়েছে ৬ জন নারীকে। নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ৫ জন। উল্লখযোগ্য ঘটনাগুলোর মধ্যে রংপুরে এক গৃহবধূকে যৌতুকের জন্য মারধর করে মাথার চুল কেটে দিয়েছে স্বামী ও শ্বশুর বাড়ির লোকজন। এক্ষেত্রে এগিয়ে ঢাকা ও রাজশাহী বিভাগ। জুলাই মাসে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ক্রসফায়ারে নিহত হয়েছেন ১৪ জন। পুলিশের ক্রসফায়ারে ১২ জন, র‌্যাবের ক্রসফায়ারে ২ জন। ক্রসফায়ারের ঘটনা সবচেয়ে বেশি ঘটেছে চট্টগ্রাম ও খুলনা বিভাগে। গেলো মাসে পারিবারিক কলহে নিহত হয়েছেন ৩৭ জন। এদের মধ্যে ১১ জন পুরুষ ও ২৬ জন নারী। এদের মধ্যে স্বামীর হাতে নিহত হন ২৩ জন নারী। আর স্ত্রীর হাতে নিহত হয়েছেন ২ জন স্বামী। সংস্থাটি বলছে, এসব মৃত্যুর পেছনে পারিবারিক সদস্যদের মধ্যে দ্বন্দ্ব, রাগ, পরকীয়াসহ বিভিন্ন পারিবারিক কারণ রয়েছে। এক্ষেত্রে সবচেয়ে মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে কুমিল্লায়। সেখানে গর্ভে কন্যা সন্তান আসায় স্ত্রীকে হত্যা করে এক স্বামী। সামাজিক দ্বন্দ্বে নিহত হয়েছেন ১৩ জন। আহত হয়েছেন ৩১২ জন। সামাজিক সহিংসতায় আহত ও নিহতের ঘটনা এ মাসে আগের চেয়ে বৃদ্ধি পেয়েছে। জুলাই মাসে দেশে সন্ত্রাসীদের হাতে নিহতের সংখ্যা ৭৩। আহত হয়েছে আরো ৩৩ জন। অন্যদিকে জুলাই মাসে সারা দেশে আত্মহত্যা করেছে ৫৯ জন। এদের মধ্যে ২০ জন পুরুষ, ৩৮ জন নারী ও ১ জন শিশু রয়েছে। পারিবারিক দ্বন্দ্ব, প্রেমে ব্যর্থতা, অভিমান, রাগ ও যৌন হয়রানি, পরীক্ষায় খারাপ ফল এর পেছনে দায়ী। ঢাকা বিভাগে আত্মহত্যার ঘটনা সবচেয়ে বেশি। এর মধ্যে ঢাকা, ফরিদপুর ও নারায়ণগঞ্জে আত্মহত্যার হার বেশি। এ ছাড়া দেশজুড়ে অন্যান্য সহিংসতা যেমন- মাদকের প্রভাবে বিভিন্নভাবে নিহত হয়েছে ৩ জন, আহত হয়েছে ৫ জন। পানিতে ডুবে, অসাবধানতাবশত, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে, বজ্রপাতে এবং পাহাড় ধসে মারা গেছেন ৭৮ জন। গণপিটুনিতে নিহত হয়েছে ৩ জন। চিকিৎসকের ভুল চিকিৎসায় ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। রাজনৈতিক সহিংসতায় আহত হয় ১৪৯ জন। বিভিন্ন স্থান থেকে অজ্ঞাত লাশ উদ্ধার হয়েছে ২৬টি।