ঝিনাইগাতীতে স্ত্রীর অধিকার চায় কামরুন্নাহার

193

হারুন অর রশিদ দুদু : শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতী উপজেলার ধানশাইল ইউনিয়নের চকপাড়া গ্রামের আকাব্বর আলীর ছেলে ও পানবর ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষক রফিকুল ইসলাম গত প্রায় ৭ বছর পূর্বে দিনাজপুর জেলার ঘোড়াঘাট উপজেলার ইসলামপুর গ্রামের কামরুন্নাহার (৩১) কে ইসলামি শরিহা মোতাবেক মুন্সি দাড়ায় বিবাহ করে। স্বামী-স্ত্রী রূপে ঘর সংসার করে আসছে।

কামরুন্নাহার জানায়, শিক্ষক রফিকুল ইসলাম এর ছোট বোন আলেয়া বেগম ঢাকায় গার্মেন্টসে চাকুরী করত। ওই গার্মেন্টসে কামরুন্নাহারও চাকুরীরত ছিল। ওই সুবাদে শিক্ষক রফিকুল ইসলাম ঢাকায় তার বোনের বাসায় যাতায়াত এক পর্যায়ে কামরুন্নাহারের সাথে পরিচয় হয়। এরই সূত্র ধরে শিক্ষক রফিকুল ইসলাম মাঝে মধ্যেই কামরুন্নাহারের বাসায় গিয়ে দেখা সাক্ষাৎ করত। ওই সময় শিক্ষক রফিকুল ইসলাম তার স্ত্রী সন্তানের বিষয় গোপন করে প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে কামরুন্নাহারের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে এবং বিবাহ করার কথা বলে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করে। এভাবে শিক্ষক রফিকুল ইসলাম দীর্ঘ সাত বৎসর স্বামী-স্ত্রী হিসেবে ঘর সংসার করার পর কামরুন্নাহারের চাকুরীর বেতন ভাতার টাকাও মাঝে মধ্যে নিয়ে আত্মসাত করেন। বার বার কামরুন্নাহার রফিকুলকে বিবাহ রেজিষ্ট্রি করার চাপ দিলে ওই সময়ের মধ্যে ঢাকা হতে ময়মনসিংহ সদরে শিক্ষক রফিকুলের এক আত্মীয়ের বাসায় নিয়ে তাকে একজন মৌলভী দাড়ায় বিবাহ করে একটি ভূয়া নোটারী পাবলিক এর এফিডেফিট তৈরি করে এক লক্ষ টাকা মোহরানা লিখে কামরুন্নাহারের হাতে ধরিয়ে দেয়। এদিকে ওই রাতে তার সাথে রাত্রি যাপন করে পরদিন পুনরায় ঢাকায় রেখে আসে কামরুন্নাহারকে। পরবর্তীতে বেশ কিছুদিন ধরে রফিকুল দেখা সাক্ষাৎ বন্ধ করে দেয়।

এঅবস্থায় গত ৩ জুন বৃহস্পতিবার কামরুন্নাহার রফিকুলের গ্রামের বাড়ী ঝিনাইগাতীর চকপাড়া গ্রামে গিয়ে জানতে পায় তার স্ত্রী সন্তান রয়েছে। তার পরেও কামরুন্নাহার রফিকুলের কাছে স্ত্রীর মর্যাদা চায়। রফিকুল বিভিন্ন তাল বাহনা করে কামরুন্নাহারকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে খুন করার হুমকি দেয়। পরে রফিকুলের বোন আলেয়া কামরুন্নাহারকে তার বাড়ীতে রেখে দেয়।

অবশেষে কামরুন্নাহার বিচার চেয়ে ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও থানার অফিসার ইনচার্জ বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দেন।

এব্যাপারে শিক্ষক রফিকুল ইসলামের সহোদর ২ ভাই-বোন আলেয়া বেগম ও তরিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, মৌলভী দারা বিবাহের বিষয়টি সত্যতা রয়েছে। দীর্ঘদিন ঘর সংসার করেছে বলে তারা উভয়ই এমনটাই জানিয়েছেন।

অপরদিকে প্রতারক রফিকুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনার বিষয়ে অস্বীকার করেন।