টসের ভুল সিদ্ধান্তেই এমন বিপর্যয়

38

দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রথম টেস্টে ৩৩৩ রানে হার। তাই দ্বিতীয় টেস্টে ছিল ঘুরে দাঁড়ানোর প্রতিজ্ঞা। কিন্তু এবারো বোলিং-ব্যাটিং ব্যর্থতার নির্লজ্জ নজির স্থাপন করে ইনিংস ব্যবধানে হারতে হয়েছে বাংলাদেশ দলকে। ২০০২ ও ২০০৮ সালেও বাংলাদেশ দল দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে ইনিংস হার দিয়েই সিরিজ শুরু ও শেষ করেছিল। কিন্তু সদ্য ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়াকে টেস্টে হারানো টাইগারদের নিয়ে প্রত্যাশাটা ছিল অন্যরকম বাংলাদেশ দলের সাবেক অধিনায়ক, জাতীয় দলের ম্যানেজার ও বিসিবি পরিচালক খালেদ মাহমুদ সুজন এমন হার  মেনেই নিতে পারছেন না। তার আশা ছিল দল না জিতলেও দক্ষিণ আফ্রিকাতে দারুণ লড়াইয়ের মানসিকতা দেখাবে। এবার বিসিবির নির্বাচন সংক্রান্ত জটিলতায় তিনি জাতীয় দলের ম্যানেজার হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকাতে যেতে পারেননি। তাই দেশে বসেই খেলা দেখে চরম হতাশ তিনি। জানতে চাইলে গতকাল মানবজমিনকে খালেদ মাহমুদ বলেন, ‘কি বলবো, এমন বাজে কেন খেলছে বলা খুব কঠিন। এ দলটি কিন্তু টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জিতেছে, ইংল্যান্ডকে হারিয়ে দারুণ পারফরম্যান্স করছিল। হ্যাঁ এটি সত্যি দক্ষিণ আফ্রিকায় যেকোনো দেশের তুলনায় খেলা অনেক কঠিন। উপমহাদেশের সব বড় দলই সেখানে বেশ ভোগে। কিন্তু আমাদের আশা ছিল জিততে না পারলেও এমন লড়াই করা যেন ওরা সহজে জিততে না পারে। জয় যেন অনেক ভালো খেলে ছিনিয়ে নিতে হয়। কিন্তু এমন ব্যাটিং সত্যি দুঃখজনক। আমার কাছে মনে হয়েছে আমাদের যতটা সক্ষমতা ছিল সেটা প্রয়োগই করতে পারিনি।’
পচেফস্ট্রম টেস্টের প্রথম ইনিংসে ৩শ’ ছাড়ানো ইনিংস খেলেছিল বাংলাদেশ দল। এরপর দ্বিতীয় ইনিংসে ৯০ রানে আল আউট। এরপর ব্লুমফন্টেইন টেস্টের প্রথম ইনিংসে ১৪৭ রানে গুটিয়ে ফলোঅনে পড়ে দল। দ্বিতীয় ইনিংসেও ব্যাটিং বিপর্যয়। কেন এমন ব্যাটিং ব্যর্থতা? খালেদ মাহমুদ সুজন শুধু জাতীয় দলের ম্যানেজারই নন, কিছুদিন আগেও তিনি পালন করেছেন সহকারী কোচের দায়িত্ব। ঘরোয়া ক্রিকেটে প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবের পর এখন আবাহনীর প্রধান কোচ। সেই হিসেবে মুশফিক, সাকিব, তামিমদের গুরুও। তাই শিষ্যদের এমন বাজে ব্যাটিংয়ের কারণটাও তিনি দূরে থেকে অনুধাবন করতে পেরেছেন। তিনি বলেন, ‘দেখেন যারা খেলছেন, তাদের প্রতিভা নিয়ে সন্দেহের কিছু নেই। এখন প্রশ্ন হতে পারে কেন এমন বাজে ব্যাটিং হলো? আমার কাছে যেটা মনে হয়েছে রানের পাহাড়ে চাপা পড়েই খেই হারিয়েছে দল। মাথার উপর এত রান থাকলে এত লম্বা সময় ফিল্ডিং করে ব্যাট করতে নেমে তা তাড়া করা দক্ষিণ আফ্রিকাতে অনেক বেশি কঠিন। সে কারণেই বলবো দুইবার টসে জিতে ফিল্ডিং করাটাই আমাদের ভুল ছিল।  কেন এমন করেছে সেটার জবাব টিম ম্যানেজম্যান্টকেই দিতে হবে। আপনারা দেখেছেন প্রথম টেস্টে ফিল্ডিং নেয়ার পর ওরা কতটা সহজে ব্যাট করেছে। একই দৃশ্য দ্বিতীয় টেস্টেও। আর বোলিংটাও ভালো হয়নি। রানের পাহাড়ে চাপা পড়ে বড় চাপ নিয়ে মাঠে নেমেছে। যে কারণে যতই উইকেট পড়েছে সেই চাপ আরো বেড়ে গোটা দলের উপর ছড়িয়ে পড়েছে। যে কারণে এমন ব্যাটিং বিপর্যয়।’
দক্ষিণ আফ্রিকাতে কেবল ব্যাটিংই নয়, বোলিংটাও ছিল দারুণ বাজে। কেন এমন দুর্বল বোলিং? এ বিষয়ে খালেদ মাহমুদ সুজন বলেন, ‘আপনি যদি কাগিসো রাবাদা, মরকেলদের সঙ্গে বাংলাদেশের তুলনা করেন তাহলে হবে না। ওরা ঘণ্টায় ১৪০, ১৪৫ কিলোমিটার গতিতে বল করে। সেখানে আমাদের সেরা যে বোলার মোস্তাফিজ তার গতি কত? তাসকিন, শুভাশিষ রুবেলরা ১৩০ বেশি হলে ১৩৫ (কিমি/ঘণ্টা) গতির বোলার। ওদের পেসারা যে পরিমাণ বাউন্স করাতে পারে সেটি কি আমাদের পেসাররা পারে? ওদের বোলারদের যে পরিকল্পনা সেটা ওরা বেশ দারুণভাবে বাস্তবায়ন করেছে। আমরা কিন্তু পারিনি। আবার ব্যাটিংয়েও যে পরিকল্পনা আমাদের সক্ষমতা তাই আমরা দেখাতে পারিনি।’
এমন অবস্থায় দলকে ভেঙে না পড়ার জন্যও অনুরোধ করেছেন খালেদ মাহমুদ সুজন। তিনি বলেন, ‘দেখেন ভুল যেটা হয়েছে আমাদের সেটা হলো টসে জিতে ফিল্ডিং নেয়া। যে কারণে আমাদের সব কিছুই ছিল এলোমলো। সেখানে যারা খেলছে তারা বুঝতে পারছে তাদের পরিস্থিতি কি! অনেকেই অনেক কথা বলছে। আসলে সুযোগ পেলেই মানুষ খারাপ কথা বলে, নেগেটিভ কথা বলে। কারণ, বলতে তো আর টাকা লাগে না। আমার মনে হয় সবার উচিত দলের পাশে থাকা। তাদের সমর্থন দেয়া। আমি হতাশ হলেও, খুব বেশি হতাশ নয়। ভেঙে পড়লে চলবে না। ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সিরিজে ঘুরে দাঁড়াতে হবে।

মুশফিক ক’দিন আগেই টেস্ট জিতেছে ভুলে যাই কেন!
দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজ শুরুর আগেই মুশফিকের নেতৃত্ব নিয়ে চলছিল গুঞ্জন। এবার  সেই আলোচনা জোরেশোরেই শুরু হয়েছে। গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে মুশফিক এ সিরিজের পর অধিনায়ক থাকছে না। এমনকি বিসিবির একজন পরিচালকের বরাত দিয়ে সংবাদ প্রকাশ হয়েছে তার বিকল্প খুঁজছে বিসিবি। এ বিষয়ে খালেদ মাহমুদ সুজন বলেন, ‘একটা সিরিজ চলাকালে এমন আলোচনা ঠিকনায়। এগুলোর প্রভাব বেশ ভালোভাবেই পড়ে দলের উপর। একটা বিষয়ে কিন্তু পরিষ্কার কিছু মানুষ আছে যারা আগ বাড়িয়ে এসব বলা শুরু করে। দলের অবস্থা একটু খারাপ যেতেই পারে। কোন দল টানা ভালো খেলে? দল একটু খারাপ করলেই আলোচনা বদনাম শুরু হয়ে যায়! ক’দিন আগে কোচ চন্ডিকা নিয়ে কথা হলো। এখন মুশফিককে নিয়ে হচ্ছে। ভুলে যাই কি করে ক’দিন আগেই তো ছেলেটা আমাদের অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট জিতিয়েছে।’ অন্যদিকে মুশফিকের বিকল্প নিয়ে বিসিবি ভাবনা সম্পর্কে খালেদ মাহমুদ বলেন, ‘হতে পারে ওর বিকল্প ভাবা হচ্ছে। এটি বলবে কোচ বা বোর্ড বা নির্বাচকরা। আমি জানি না, বোর্ডে এ নিয়ে কোনো আলোচনা হয়েছে কিনা! বিকল্প ভাবা যেতেই পারে। তাই বলে এমন ভাবে সমালোচনা করে কেন?