ট্রাম্প-কিম পাল্টাপাল্টি

28

একে অপরকে পাগল আখ্যা দিয়ে কঠিন পরিণতির হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ও উত্তর কোরিয়ান নেতা কিম জং উন। ট্রাম্পকে ‘মানসিক বিকারগ্রস্ত’ আখ্যায়িত করেছেন কিম। আর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প বলেছেন, ‘ওই পাগল লোকটাকে এমন পরীক্ষা দিতে হবে যা সে আগে কখনো দেয়নি।’ এ খবর দিয়েছে বিবিসি। খবরে বলা হয়, টিভিতে বিরল এক বিবৃতি নিয়ে ক্যামেরার সামনে হাজির হন কিম। এতে তিনি ট্রাম্পকে চরম মূল্য দিতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন। জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে দেয়া ট্রাম্পের বক্তব্যের জবাবে এ প্রতিক্রিয়া আসে কিমের তরফে। ট্রাম্প মঙ্গলবার তার বক্তব্যে বলেছিলেন, বাধ্য হলে উত্তর কোরিয়াকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করা ছাড়া উপায় থাকবে না। কিম ট্রাম্পের ওই বক্তব্যের জবাব দেয়ার পর পরই পাল্টা প্রতিক্রিয়া দিতে দেরি করেননি ট্রাম্প। কিমকে ম্যাডম্যান আখ্যা দিয়ে তিনি সতর্ক বার্তা দিয়েছেন কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হবে কিমকে।
বিবিসির খবরে আরো বলা হয়, সম্প্রতি কয়েক মাস ধরেই দেশ দুটির মধ্যে উত্তপ্ত বাকযুদ্ধ চলছে। এছাড়া একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালাচ্ছে উত্তর কোরিয়া। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নিন্দা সত্ত্বেও দেশটি সম্প্রতি ৬ষ্ঠ পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে। এদিকে, উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী রি ইয়ং ওহা সতর্ক করে বলেছেন, ট্রাম্পের হুমকির প্রতিক্রিয়ায় পিয়ংইয়ং প্রশান্ত মহাসাগরে একটি হাইড্রোজেন বোমার পরীক্ষা চালাতে পারে। রি ইয়ং বলেন, এটা হতে পারে প্রশান্ত মহাসাগরে কোনো হাইড্রোজেন বোমার সবচেয়ে শক্তিশালী বিস্ফোরণ। এর আগে উত্তর কোরিয়াকে ধ্বংস করে দেয়ার ব্যাপারে ট্রাম্পের হুমকিকে ‘কুকুরের ঘেউঘেউ’ বলে মন্তব্য করেন তিনি। এদিকে টিভিতে দেয়া বক্তব্যে কিম বলেন, ট্রাম্পের ভাষণের মাধ্যমে বোঝা যায় পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে উত্তর কোরিয়া সঠিক পথে রয়েছে। জাতিসংঘে দেয়া সাম্প্রতিক বক্তব্যের জন্য ট্রাম্পকে মূল্য দিতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ট্রাম্পের বক্তৃতা আমাকে বোঝাতে সক্ষম হয়েছে যে, আমি যে পথ পছন্দ করেছি তা সঠিক। এবং আমাকে শেষ পর্যন্ত এই পথই অনুসরণ করতে হবে। তিনি আমাকে ও আমার দেশকে বিশ্বের সামনে অপমান করেছেন এবং যুদ্ধের ব্যাপারে ইতিহাসের সবচেয়ে বর্বর ঘোষণা দিয়েছেন। তাকে এ বক্তব্যের মূল্য দিতে হবে। মঙ্গলবার জাতিসংঘে দেয়া ভাষণে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের বিরাট সামর্থ্য ও ধৈর্য আছে। কিন্তু দেশকে ও দেশের মিত্রদের সুরক্ষা করতে যুক্তরাষ্ট্রকে বাধ্য করা হলে, উত্তর কোরিয়াকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দেয়া ছাড়া কোনো পথ থাকবে না।’ এছাড়া ট্রাম্প টুইটারে কিমকে বিদ্রূপ করে আত্মঘাতী মিশনের ‘রকেটম্যান’ বলেও উল্লেখ করেন।
দু’পক্ষের মধ্যে চলমান এই বাকযুদ্ধ নিয়ে চীন সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, পরিস্থিতি ‘জটিল ও সংবেদনশীল। সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের উচিত একে অন্যকে উস্কে না দিয়ে নিয়ন্ত্রণে থাকা।’ চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মুখপাত্র লু ক্যাং এ কথা বলেন। রাশিয়াও একই বার্তা দিয়েছে। উত্তেজনাকর পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ জানিয়ে ক্রেমলিনের মুখপত্র দিমিত্রি পেসকভ সংযত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
এদিকে ডনাল্ড ট্রাম্প উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়ে একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন মার্কিন সময় বৃহস্পতিবার। যেসব ব্যক্তি বা কোম্পানি পিয়ংইয়ংয়ের সাথে বাণিজ্যিক সম্পর্ক রাখে বা তাতে সহায়তা করে, এ নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপিত হবে। নতুন নির্বাহী আদেশ নিয়ে ট্রাম্প বলেন, এই নির্বাহী আদেশ রাজস্বের ওইসব উৎস বন্ধ করে দেবে, যা সবচেয়ে মারাত্মক অস্ত্র তৈরি করতে উত্তর কোরিয়াকে অর্থায়ন করে। নিষেধাজ্ঞা আরোপকৃত খাতগুলোর মধ্যে রয়েছে বস্ত্র, মৎস্য ও তথ্যপ্রযুক্তি।

 

 

 

 

সূত্র : মানবজমিন অনলাইন পত্রিকা