তদন্ত কমিটি, বরিশাল বরগুনার ডিসি প্রত্যাহার

34

বরিশালের আগৈলঝাড়ার সাবেক ইউএনও তারিক সালমনকে হয়রানির ঘটনায় বরিশালের জেলা প্রশাসক (ডিসি) ড. গাজী মো. সাইফুজ্জামান ও বরগুনার ডিসি বশিরুল আলমকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। গতকাল তাদের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত সংক্রান্ত আদেশ জারি করা হয়েছে। এছাড়া আলাদা আদেশে পাবনা জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মোখলেছুর রহমানকে বরগুনায় এবং সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রীর একান্ত সচিব হাবিবুর রহমানকে বরিশালে ডিসি পদে নিয়োগ করা হয়েছে। এদিকে বরগুনা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গাজী তারেক সালমনকে মামলাসহ হয়রানির ঘটনা তদন্তে একটি পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মোজাম্মেল হক খান সাংবাদিকদের জানান, বরগুনা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গাজী তারেক সালমানকে মামলাসহ হয়রানির ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার জন্য এই দুই ডিসিকে সরানো হলো। সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রীর একান্ত সচিব (উপসচিব) হাবিবুর রহমানকে বরিশালে এবং পাবনা জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোখলেছুর রহমানকে বরগুনার ডিসি নিয়োগ দেয়া হয়েছে। ইউএনওকে হয়রানির ঘটনাটা এপর্যায়ে আসার পেছনে মাঠ প্রশাসনের গাফিলতি আছে কি না মন্ত্রিসভা বৈঠকের প্রেস ব্রিফিংয়ে বিষয়টি সম্পর্কে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেন, গাফিলতি আছে কি না সেটার জন্য আমরা কমিটির রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করব। তবে প্রাথমিকভাবে আমরা যাদের দোষী সাব্যস্ত করছি বা সরকার মনে করবে তাদের ব্যাপারে হয়তো অ্যাকশনে যেতে পারে। এর আগে বরিশালের আগৈলঝাড়ায় ইউএনও হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় তারিক সালমন পঞ্চম শ্রেণির এক শিশুর আঁকা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি দিয়ে স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের দাওয়াত কার্ড করেন। এতে বঙ্গবন্ধুর ছবি বিকৃতির অভিযোগ এনে ইউএনও তারিক সালমনের বিরুদ্ধে গত ৭ই জুন বরিশাল মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালতে পাঁচ কোটি টাকার মানহানির মামলা করেন আওয়ামী লীগ নেতা সৈয়দ ওবায়েদুল্লাহ। পুলিশ ইউএনওকে অপরাধীর মতো ধরে আদালতের হাজতখানায় নেয়। হাজতখানায় দুই ঘণ্টা রাখার পর তাকে জামিন দেয়া হয়। বিষয়টি নিয়ে জনপ্রশাসনসহ সরকারের উচ্চপর্যায়ে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। মামলার বাদী ওবায়েদুল্লাহকে গত শুক্রবার দল থেকে সাময়িক বহিষ্কার করে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। রোববার প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে ইউএনওর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাও। এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, এটা নিয়ে আমরা একটা তদন্ত কমিটি করে দিয়েছি। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একজন অতিরিক্ত সচিবকে প্রধান করে এ কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একজন যুগ্মসচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের একজন যুগ্মসচিব, আইন ও বিচার বিভাগের একজন যুগ্মসচিব, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একজন যুগ্মসচিব সদস্য হিসেবে রয়েছেন। তিনি বলেন, পাঁচ সদস্যের এই কমিটি ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দেবে। ২২শে জুলাই কমিটি গঠন করা হয়েছে। কোনো ক্ষেত্রে আইনের ব্যত্যয় হয়েছে কি না। ডেভিয়েশন বা অভার এক্সসেস অব পাওয়ার বা আইনের বিচ্যুতি হয়েছে কি না এটা উনারা দেখবেন। বরিশালের ডিসি ও সাবেক বিভাগীয় কমিশনারের বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অবস্থান জানতে চাইলে শফিউল আলম বলেন, ওটা আমরা নিষ্পত্তি করে দিয়েছি, ওটাকে নথিজাত বলে। ওখানে (প্রস্তাবে) অ্যাকশন নেওয়ার মতো আমরা কিছু দেখিনি।