তাহলে নেইমারের যাওয়া চূড়ান্তই

29

নেইমারের বার্সেলোনা ছাড়ার সম্ভাবনা এখন দিবালোকের ন্যায় স্পষ্ট। তার প্যারিস সেইন্ট জার্মেইতে (পিএসজি) যাওয়ার আনুষ্ঠানিকতা বাকি মাত্র। একাধিক ঘটনায় এর প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামিতে রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে এল ক্লাসিকোর পর বিষয়টি পুরোপুরি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বার্সেলোনার জার্সি গায়ে সেটাকেই নেইমারের শেষ ম্যাচ মনে করা হচ্ছে। ৩-২ গোলে জেতা ওই ম্যাচে দু’টি অ্যাসিস্ট করেন নেইমার। আর ম্যাচ শেষে বার্সেলোনার সতীর্থদের সঙ্গে তার আচরণের মধ্যে ‘বিদায়ের সূর’ রয়েছে। এছাড়া এদিন লিওনেল মেসিও নাকি নেইমারকে বিদায় বলে দিয়েছেন। আরও আশ্চর্যের বিষয় হয় যখন খেলা শেষে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদের ড্রেসিং রুমে যান নেইমার। সেখানে রয়েছেন তার জাতীয় দলের সতীর্থ মার্সেলো ও ক্যাসেমিরো। নেইমার যখন রিয়ালের ড্রেসিং রুমে তখনও স্টেডিয়ামে অনেক দর্শক রয়েছে। বিষয়টি দেখে তাদের কৌতূহল বেড়ে যায়। ব্যতিক্রমী ঘটনার জন্ম দিয়ে নেইমার কেন রিয়ালের ড্রেসিং রুমে গেলেন তা নিয়ে নানা জনের নানা প্রশ্ন। রিয়ালের ড্রেসিং রুমে তিনি কাটান ১৫ মিনিট। রুম থেকে যখন বের হন তখন তার গায়ে বার্সেলোনার জার্সি নেই- খালি গা। হাতে ছিল রিয়াল মাদ্রিদের দু’টি সাদা জার্সি। বিষয়টি তখনই স্পষ্ট হয়ে যায়- রিয়াল মাদ্রিদের খেলোয়াড়দের কাছ থেকে বিদায় নিতে গিয়েছিলেন নেইমার। আর সেখান থেকে রিয়ালের খেলোয়াড়রা তাকে বিদায়ী শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। ২০১৩ সাল থেকে এ পর্যন্ত রিয়ালের রক্ষণকে বারবার পরীক্ষায় ফেলেছেন তিনি। কিন্তু এখন সেটার ইতি হচ্ছে। রিয়ালের ড্রেসিং রুমে গিয়ে মার্সেলো, ক্যাসেমিরো ও সার্জিও রামোসের সঙ্গে বেশি কথা বলেন নেইমার। তাদের কাছ থেকে নাকি আবেগী বিদায় নেন ব্রাজিলের এ স্ট্রাইকার। এরপর রিয়ালের অধিনায়ক সার্জিও রামোসের সঙ্গে জার্সি বদল করেন তিনি। নেইমার রিয়ালের ড্রেসিং রুম থেকে বের হন রামোস ও ক্যাসেমিরোর জার্সি হাতে করে। এই দৃশ্য দেখে গ্যালারির বার্সেলোনার অনেক সমর্থক মেনে নিতে পারেননি। তারা ‘মানি’ ‘মানি’ বলে চিৎকার করতে থাকে। নেইমার অর্থের কারণে বার্সেলোনা ছেড়ে দিচ্ছেন বলে তারা মনে করেন। এই ঘটনার সঙ্গে স্পষ্ট হয়ে যায় যে, নেইমারের বার্সেলোনা পর্ব শেষ হওয়ার শুধু আনুষ্ঠানিকতা বাকি।