দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রমাণের মিশন

27

২০০৮-এ সর্বশেষ দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে গিয়েছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। সেবার দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ, ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টিতেও হোয়াইটওয়াশ হয়ে দেশে ফেরে টাইগাররা। কিন্তু ৯ বছরে বদলে গেছে বাংলাদেশের ক্রিকেট। ২০১৫তে বাংলাদেশ সফরে ওয়ানডে সিরিজে হার দেখে প্রোটিয়ারা। আর টেস্ট সিরিজ শেষ হয় ড্রতে। এবার নিজ মাটিতে লড়াইয়ে নামার আগে টাইগারদের প্রতি সমীহ ঝরছে প্রোটিয়া বর্তমান ও সাবেক ক্রিকেটারদেরও। আর তাদের নতুন কোচ ওটিস গিবসনতো আরো সতর্ক। গেল বছর ইংল্যান্ডের বোলিং কোচের দায়িত্ব নিয়ে তিনি এসেছিলেন বাংলাদেশে। চোখের সামনে ইংলিশদের নাস্তানাবুদ হতে দেখেছেন ঢাকা টেস্টে। তাই নতুন শিষ্যদের পরামর্শ দিয়েছেন যেন হালকাভাবে না নেয়া হয় টাইগারদের। দেশ ছাড়ার আগে বাংলাদেশ টেস্ট অধিনায়ক মুশফিকুর রহীমের কণ্ঠেও ছিল কিছু করে দেখানোর আত্মবিশ্বাস। তিনি বলেন, ‘এখন আমরা আর হার ঠেকাতে মাঠে নামি না। জয়ের জন্য লড়াই করি। জয়ের আত্মবিশ্বাসটা ভেতরে আছে বলেই দেশের মাটিতে ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়েছি। তেমনি শ্রীঙ্কার মাটিতেও টেস্ট জিতেছি।‘ তবে দেশের বাইরের সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতেই মাঠে নামতে চান টাইগার অধিনায়ক। পচেফস্ট্রমে আজ বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টায় শুরু হচ্ছে টাইগারদের নতুনভাবে প্রমাণের মিশন।
দক্ষিণ আফ্রিকার বল হাতে টেস্টে সর্বাধিক উইকেট শিকার শন পোলকের। আর এ প্রজন্মের অন্যতম সেরা প্রোটিয়া ব্যাটসম্যান ডিন এলগার। দক্ষিণ আফ্রিকার দুই প্রজন্মের ক্রিকেটারই সিরিজ শুরুর আগে একই সুরে বলেছেন টাইগারদের হালকাভাবে নেয়ার সুযোগ নেই। আগে এমন কথাকে সৌজন্য মনে করা হলেও এখন সেই সুুযোগ নেই। নিজ দিনে টাইগাররা যে কোনো দলকে হারাতে পারে এমনকি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে সামনে আসতে পারে সেটি এখন ভালো করেই জানেন ক্রিকেট বিশ্ব। টাইগারদের প্রতি এমন সমীহের প্রমাণ পাওয়া যাবে পরিসংখ্যানের দিকে তাকালেও। শেষ ১০ বছরে বাংলাদেশ দল ৫৩ টেস্ট খেলে ৯ জয় ১০ ড্র করেছে। এর মধ্যে শেষ তিন বছরেই এসেছে ৬ জয় ও ৪ ড্র। এর মধ্যে বাদ যায়নি দক্ষিণ আফ্রিকাও। ২০১৫তে বাংলাদেশ সফরে দুটি টেস্ট খেলে প্রোটিয়ারা। সেখানে দুটি ড্র হয়। অবশ্য তখন এই ড্রতে বৃষ্টির ভূমিকা ছিল। কিন্তু সফরে টাইগারদের কাছে প্রথমবারের মতো ওয়ানডে সিরিজও হারে প্রোটিয়ারা। মূলত বাংলাদেশ দলের পরিবর্তনটা চোখে পড়ছে শেষ তিন বছরেই। বিশেষ করে টেস্টে দেশের মাটিতে গেল বছর ইংল্যান্ড ও সর্বশেষ সিরিজে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের জয় নিয়ে ছিল ক্রিকেট বিশ্বে অন্যতম আলোচনা। আর এ সময়ে সীমিত ওভারের ক্রিকেটে ছিল টাইগাররা দুর্বার। ওয়ানডেতে ৪৩ ম্যাচে ২৫টি ও ২৬ টি-টোয়েন্টি ১০ জয় পায় টাইগাররা। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ২০০২ থেকে এ পর্যন্ত ১০ টেস্ট খেলেছে বাংলাদেশ দল। ফলাফল প্রথম ৮ ম্যাচে হার শেষ দুটিতে ড্র। এর মধ্যে ২০০২ ও ২০০৮ এ দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে খেলেছে ৪ টেস্ট। যার সবগুলোতে দল হেরেছে বাজেভাবে।
দক্ষিণ আফ্রিকার কন্ডিশনে বিশ্বের সব দলকেই পড়তে হয় বড় চ্যালেঞ্জের মুখে। কিন্তু সেখানে টাইগারদের আত্মবিশ্বাসের কারণ দলে অভিজ্ঞ ও প্রতিভাবান তরুণদের লড়াই করার ক্ষমতা। অভিজ্ঞদের মধ্যে যদিও বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান এবার দলে নেই। সিরিজের আগে ছুটি নিয়ে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন টেস্ট থেকে। তবে দলে আছেন দেশের সেরা ওপেনিং ব্যাটসম্যান তামিম ইকবাল। দারুণ ফর্মে আছেন টাইগারদের এই তারকা। শেষ ১০ টেস্টে ৩৮.৬৮ গড়ে ৭৩৫ রান। তার ওপেনিংয়ে সঙ্গী সৌম্য সরকারও কম নন। ৬ টেস্টে ৩৬.৫৮ গড়ে করেছেন ৪৩৯ রান। যার মধ্যে সৌম্য চারটি ফিফটিই হাঁকিয়েছেন দেশের বাইরে। যে কারণে দেশের মাঠে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজে ভালো না করলেও তার উপর আস্থা রেখেছে দল। তার পরই আছেন দলের আরেক অভিজ্ঞ ও সর্বশেষ দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে অভিষেক হওয়া ইমরুল কায়েস। তারপর দলের হাল ধরতে মাঠে নামবেন মুমিনুল হক সৌরভ। দেশের সেরা টেস্ট ব্যাটসম্যানকে এবার একাদশে না রাখার কোনো কারণ নেই। প্রস্তুতি ম্যাচে হাঁকিয়েছেন দারুণ ফিফটি। তবে তিন থেকে তাকে খেলতে হবে চার নম্বর পজিশনে। এরপর অধিনায়ক মুশফিক। শেষ ৯ টেস্টে ৫৫.৮৬ গড়ে করেছেন ৮৩৮ রান। তার পর সাব্বির রহমান দলে থাকবেন তা নিশ্চিত করেই বলা যায়। প্রস্তুতি ম্যাচে দুই ফিফটি হাঁকিয়ে নিজেকে প্রমাণও করেছেন তিনি। শেষ ৯ টেস্টে ৪৩ উইকেট পাওয়া অফ স্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজকে একাদশে রাখা হলে কপাল পুড়বে মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের। শ্রীলঙ্কা সফরে দল থেকে বাদ পড়ার পর দলে ফিরলেও এ অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার প্রস্তুতি ম্যাচে ছিলেন ব্যর্থ। ৭ ব্যাটসম্যান চার পেসার এমনই হবে টাইগারদের রণকৌশল। তিন পেসার নিয়ে মাঠে নামলেই ৮ম ব্যাটসম্যানের সুযোগ থাকবে। চার পেসার খেলালে মোস্তাফিজুর রহমানের সঙ্গী হবেন শুভাশিষ রায়, তাসকিন আহমেদ ও শফিউল ইসলাম। রুবেল হোসেনকে হয়তো দ্বিতীয় টেস্টে দলে দেখা যেতে পারে।