দায়টা যেন বোলারদের

24

পচেফস্ট্রমে টস জিতে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ব্যাটিংয়ে পাঠান বাংলাদেশ অধিনায়ক মুশফিকুর রহীম। আর ন্যাড়া পিচে প্রথম ইনিংসে টাইগারদের কাঁধে ৫০০ রানের বোঝা চাপিয়ে দেয় প্রোটিয়ারা। প্রথম দফায় ৩২০ রানে থামে বাংলাদেশের ইনিংস। আর দ্বিতীয় ইনিংসে ঠুনকো ব্যাটিংয়ে মাত্র ৯০ রানে গুঁড়িয়ে যায় মুশফিকবাহিনী। এতে ৩৩৩ রানের বিশাল হার দেখে বাংলাদেশ। তবে ম্যাচ শেষে দলের পেসারদের কাঠগড়ায় তোলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক     পৃষ্ঠা ২০ কলাম ৪
। গতকাল পচেফস্ট্রমে ম্যাচশেষে সংবাদ সম্মেলনে মুশফিকুর রহীম বলেন, আপনি বলতে পারেন ফ্ল্যাট উইকেটে আগে ব্যাটিং নেয়া উচিত ছিল। কিন্তু আমাদের বোলাররা ফ্ল্যাট উইকেটে বল করতে পারেন না, এমন নয়। উইকেট না পেলে তারা অন্তত সঠিক লাইন লেংথে বল করতে পারতো। এমন যোগ্যতাই আপনাকে জাতীয় দলে খেলার সুযোগ দেয়। ওভারে ছয় বলের অন্তত দুটি সঠিক নিশানায় পড়া উচিত। বোলাররা প্রথম ইনিংসে আমাকে খুবই হতাশ করেছে। আপনি যখন উইকেট পাবেন না তখন রান নিয়ন্ত্রণে রেখে দলকে সাহায্য করতে হবে। পচেফস্ট্রমে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ প্রথম উইকেট সাফল্য দেখে ১১৭.৩তম ওভারে। ৭০৫তম ডেলিভারিতে উইকেটের মুখ দেখেন টাইগার বোলাররা। ম্যাচের প্রথমদিনে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম উইকেটের পতন হয় রানআউটে। গতকাল পেসারদের নিষ্ঠা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন অধিনায়ক মুশফিক। তিনি  বলেন, আমরা কতদিন এমন অজুহাত দেখাবো? এমন নৈপুণ্য নিয়ে একজন ১০ বছরে পাঁচ কি ১০টি টেস্ট খেলতে পারে। তারা ভালো না করলে আমাদের বিকল্প খুঁজতে হবে। নৈপুণ্যের উন্নতি করা দরকার প্রত্যেকের নিজ তাগিদেই। আমি মনে করি না, এসব কেউ আপনাকে শেখাতে পারবে। মুশফিক বলেন, গত পাঁচ বছরে আমাদের ব্যাটিং যেমন উন্নতি করেছে, বোলিংটা তেমন করেনি। ভালো করার ক্ষুধা বাড়াতে হবে তাদের। দুইদিকে সুইংয়ের আশা বাদ দেন, অন্তত সঠিক দিশায় বল করতে হবে। এমন করতে কোচের দরকার হয় না। ওভারের ছয় বলের পাঁচটি সঠিক নিশানায় করবেন বলেই আপনি জাতীয় দলে খেলেন। বোলিং ইউনিট হিসেবে আমাদের অনেক শেখার রয়েছে। আর এ জন্য বোলারদের আকাঙ্ক্ষা থাকা চাই। পচেফস্ট্রমে দ্বিতীয় ইনিংসে নৈপুণ্যটা অপেক্ষাকৃত ভালো ছিল পেসারদের। বাঁ-হাতি পেসার মোস্তাফিজুর রহমান দুই ও শফিউল ইসলাম নেন এক উইকেট। উইকেটশূন্য থাকেন তাসকিন আহমেদ। আর তাসকিনকে নিয়ে মুশফিক বলেন, তাসকিন হয়তো মনে করে ফ্ল্যাট উইকেটে তার নৈপুণ্যটা ভালো। এটা নিতান্তই তার ধারণা। অল্পতে খুশি হলে আপনার নৈপুণ্যের আর উন্নতি হবে না। আসলে পাঁচ ছয় উইকেট পেলেও আপনার নৈপুণ্যে উন্নতির দরকার হয়। আগের দিনের ৪৯/৩ সংগ্রহ নিয়ে গতকাল স্কোর বোর্ডে ৪১ রান যোগ করে অবশিষ্ট ৭ উইকেট খোয়ায় বাংলাদেশ। এতে ম্যাচের শেষদিনে টাইগার ব্যাটসম্যানরা ক্রিজে কাটায় সাকুল্যে ১৬ ওভার।  এমন নৈপুণ্য শেষে মুশফিক বলেন, এটা হতাশাজনক। সর্বশেষ কবে আমরা এমন বাজে ব্যাটিং করেছি, মনে পড়ে না। আমি জানি, উইকেট ভালো হলেও ম্যাচের পঞ্চম দিনে তাদের বোলিং মোকাবিলা করাটা সহজ নয়। তবে আমি ভেবেছিলাম, আজ (গতকাল সোমবার) অন্তত দুই সেশন ব্যাটিং করবো আমরা। ম্যাচে হার অথবা ড্রয়েরও ধরন থাকে। তবে আমরা আমাদের সামর্থ্য বা দক্ষতা দেখাতে ব্যর্থ হয়েছি। আমি খুবই কষ্ট পেলাম। আমি জাতির কাছে ক্ষমা চাই। তবে আমাদের সামনে আরেকটি সুযোগ রয়েছে। পরের টেস্টে আমাদের ভালো খেলতে হবে। গত দুই তিন বছরে আমরা যে সম্মান ও সমীহ অর্জন করেছি তা ধরে রাখতে হবে। অন্যথায় গ্লানি নিয়ে দেশে ফিরতে হবে আমাদের।

 

 

 

 

 

 

 

সূত্র : মানবজমিন অনলাইন পত্রিকা