দিঠির অন্যরকম সময়

25

শূন্য দশকের শুরুতে গান নিয়ে বেশ ব্যস্ত সময় পার করেছেন বরেণ্য গীতিকবি গাজী মাজহারুল আনোয়ারের কন্যা দিঠি চৌধুরী। সেই সময় বেশ কিছু গানের মাধ্যমে শ্রোতামহলে প্রশংসিত হন তিনি। যোগ্য বাবার যোগ্য কন্যা হিসেবে নিজেকে ভালোভাবেই মেলে ধরেন দিঠি। তবে ক্যারিয়ার তুঙ্গে থাকা অবস্থায় বিয়ে, সংসার ও বিদেশে বসবাসের কারণে প্রায় ১০ বছর নতুন গান থেকে দূরে ছিলেন তিনি। গত দু’বছরে অবশ্য আবারও গানে ব্যস্ত হয়েছেন এ শিল্পী। প্রকাশ করেছেন নিজের একক অ্যালবামও। গাইছেন স্টেজেও। গানের বাইরেও উপস্থাপনায়ও দিঠি প্রশংসিত হয়েছেন দারুণভাবে। তবে ধারাবাহিক ব্যস্ততা থেকে খানিক অবসর যাপনের জন্য বর্তমানে দিঠি রয়েছেন আমেরিকায়। সেখানে পরিবারের সঙ্গে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। সেখান থেকেই কথা হয় দিঠির সঙ্গে। সব মিলিয়ে কেমন কাটছে এবারের সফর? দিঠি উত্তরে বলেন, খুব ভালো। অনেক দিন পর আমেরিকা এসেছি। দীর্ঘ একটা সফরই বলা চলে। যতদিন আছি সব কিছুই শতভাগ উপভোগ করছি। বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়াচ্ছি। আর দেশকে মিস করছি। আসলে এখানে এসেছি ক্লান্তি কাটাতে। কারণ টানা ব্যস্ত জীবন কাটিয়ে আমরা সবাই ক্লান্ত থাকি। এ রকম একটা সফরে এলে মনটা ভালো হয়। প্রশান্তি আসে মনে। নতুন উদ্যম নিয়ে কাজ করার সুযোগ মিলে। তাহলে দেশে আসছেন কবে নাগাদ? দিঠি বলেন, আসলে পরিকল্পনা করেই দীর্ঘ ছুটিতে এসেছি পরিবারসহ। চলতি মাসের ৯ তারিখ দেশে ফিরবো। ফিরেই আবার নতুন গান ও কাজ নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়বো। নতুন কি কাজ করবেন বলে ঠিক করেছেন? দিঠি বলেন, একটি গান আমি করে রেখেছি। গানটির নাম ‘দেবদাস’। এটি লিখেছেন আমার বাবা (গাজী মাজহারুল আনোয়ার)। গানটি যারাই শুনেছেন খুব পছন্দ করেছেন। দেশে ফিরে এ গানটি প্রকাশ করবো। ভিডিও করার পরিকল্পনাও রয়েছে। আমার বিশ্বাস গানটি সবার ভালো লাগবে। এছাড়া গান নিয়ে আর কি পরিকল্পনা? দিঠি বলেন, আমি আসলে ভালো কিছু গান করতে চাই। এটাই আমার মূল লক্ষ্য। সামনে এরকম কিছু গান করারই পরিকল্পনা আছে। ভালো মানের কথা, সুর ও সংগীতায়োজনের মাধ্যমে মানসম্পন্ন কিছু গান করবো। এসব গানের মাধ্যমে শ্রোতারা যেন আমাকে সারা জীবন মনে রাখেন সেই চেষ্টাই করবো। গানের বাইরেতো উপস্থাপনাও করছেন। সেটা কেমন উপভোগ করছেন? দিঠি বলেন, আমি কিন্তু মিউজিক্যাল অনুষ্ঠানগুলো উপস্থাপনা করি। সে কারণে এ জায়গাটিতে আমি খুব স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। কারণ গানের মানুষেরাই এসব অনুষ্ঠানে আসেন। তাদের সম্পর্কে আমি জানি। আরো জানার সুযোগ থাকে। এ কারণে উপস্থাপনাটা করতে ভালো লাগে। গান ভালোবাসার আর উপস্থাপনা আমার শখের জায়গা। চলতি সময়ে সংগীতের অবস্থা কেমন মনে হয়? দিঠি বলেন, আমি যখন প্রথম গান করতে আসি তখন থেকে এখনকার অবস্থা অনেক ভিন্ন। তখন এতটা অস্থির ছিল না সব কিছু। এখনতো ডিজিটালি গান প্রকাশ হচ্ছে। সবাই অনলাইনে গান শুনছে। এটা ইতিবাচক। বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলছি আমরা। তবে আমরা যেন আবেগটাকে না হারিয়ে ফেলি এটাই চাওয়া।