দিনাজপুরে পানিবন্দি ৬ লাখ মানুষ: সারাদেশের সঙ্গে যোগাযোগ বিছিন্ন

43

দিনাজপুরে বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে জেলার ১৩টি উপজেলার কমপক্ষে ৬ লাখ মানুষ। বিভিন্ন স্থানে রেল ও সড়ক যোগাযোগ বিছিন্ন রয়েছে। এদিকে পানিতে ডুবে, সর্পদংশনে এবং দেয়াল চাপায় ১৪ জনের মৃত্যুর কথা স্বীকার করেছেন জেলা প্রশাসক মীর খায়রুল আলম। নিখোঁজ রয়েছে আরো এক শিশু। অপরদিকে বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়ে দিনাজপুর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের গুদামঘর ডুবে যাওয়ায় পরীক্ষার খাতাসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্রের ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে। এ কথা নিশ্চিত করেছেন দিনাজপুর বোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শক রবীন্দ্র নারায়ণ ভট্টাচার্য।
দিনাজপুর শহররক্ষা বাঁধসহ বেশ কয়েকটি নদীর বাঁধ ভেঙ্গে যাওয়ায় জেলার বেশির ভাগ স্থান প্লাবিত হয়েছে। বাড়িঘর ডুবে গৃহহীন হয়ে পড়েছে প্রায় ৬ লাখ মানুষ। রোববার দুপুর থেকে বৃষ্টি থেমে গেলেও নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানিতে নতুন করে প্লাবিত হচ্ছে বিভিন্ন এলাকা। গৃহহীন হয়ে মানুষ আশ্রয় নিয়েছে বিভিন্ন বাঁধ, উচু এলাকা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠনে। জেলার দুই হাজার ৯৩০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বেশির ভাগই গৃহহীন মানুষের আশ্রয়কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বন্ধ রয়েছে শিক্ষা কার্যক্রম।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী ফয়জুর রহমান জানান, জেলার সব নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পুনর্ভবা নদীর পানি বিপদসীমার ৭৮ সেন্টিমিটার এবং আত্রাই নদীর পানি ৫০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
পানির তোড়ে শহরের মাহুতপাড়া তুঁতবাগান এলাকায় দিনাজপুর শহররক্ষা বাঁধের ৫০ মিটার ভেঙে গেছে। এছাড়াও দিনাজপুর জেলার বিভিন্ন স্থানে নদীর বাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে।
দিনাজপুর শহররক্ষা বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় তা সংস্কারে বিজিবি সদস্যদের মোতায়েন করা হলেও তারা বাঁধটি সংস্কারে ব্যর্থ হওয়ায় দুপুরে বাঁধ সংস্কার এবং বানভাসী মানুষকে উদ্ধারে মোতায়েন করা হয় সেনাবাহিনী। মেজর তৌহিদের নেতৃত্বে সেনাবাহিনীর ৬৬ পদাতিক ডিভিশনের ৫২ জন সদস্য বাঁধ সংস্কার ও বানভাসী মানুষকে উদ্ধারের কাজ শুরু করেছে।
বন্যায় দিনাজপুরের অধিকাংশ সড়ক ও মহাসড়ক পানির নীচে তলিয়ে যাওয়ায় দিনাজপুর জেলার সঙ্গে বিভিন্ন উপজেলার সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। হিলি স্থলবন্দর পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় শনিবার থেকে বন্ধ রয়েছে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম।
দিনাজপুর জেলা প্রশাসক মীর খায়রুল আলম জানিয়েছেন, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই এক লাখ ১০ হাজার টাকা এবং ৬৭ টন চাল বন্যাদুর্গতদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়াও বন্যার্তদের জন্য ৫০ লাখ টাকা এবং ৩০০ টন চাল বরাদ্দ চেয়ে ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয় সংসদ সদস্য জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিম এবং আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি’র সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী আজ সোমবার সকালে বন্যাদুর্গত এলাকা পরিদর্শন করে দুর্গতদের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেছেন।