ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছে তুফান

27

গ্রেপ্তারের প্রথম দিনেই ১৬৪ ধারায় ধর্ষক তুফানের সহযোগী আতিকুর রহমান আতিক আদালতে স্বীকারোক্তি দিয়েছিলেন। এরপর তাকে রিমান্ডের বাইরে রাখা হয়। রিমান্ড চাওয়া হয় তুফানসহ সহযোগী আলী আজম দিপু ও রুপম হোসেন। বিশেষ সূত্রে জানা গেছে, রিমান্ডে তুফান ওই কিশোরীকে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছে। আজো তাদের রিমান্ড চলছে। এদিকে ধর্ষিতা এবং তার মায়ের মাথা ন্যাড়া করে দেয়া নরসুন্দর জীবনকেও আটক করেছে পুলিশ। গত ২ দিনে গ্রেপ্তারকৃত ৭ আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশের তদন্তকারী কর্মকর্তা ইন্সপেক্টর (অপারেশন) আবুল কালাম আজাদ আদালতে ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। ওই আবেদনের প্রেক্ষিতে অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শ্যাম সুন্দর রায় গতকাল বিকাল ৫টায় নারী কাউন্সিলর রুমকির ৪ দিনের এবং বাকি ৬ আসামির জন্য ২ দিনের করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ডের অন্যান্য আসামিরা হলেন, তুফানের স্ত্রী আশা, শ্বশুর জামিলুর রহমান রুনু, শাশুড়ি রুমি বেগম, সহযোগী জিতু ও মুন্না, নরসুন্দর জীবন। রিমান্ডকৃতদের মধ্যে নরসুন্দর জীবন এবং তুফানের শ্বশুর জামিলুর রহমান রুনু ওই মামলার এজাহারের বাইরের আসামি। এর আগে ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হওয়া আসামি, তুফান সরকার এবং তার সহযোগী, আলী আজম দিপু ও রুপম হোসেনের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশের কাছে ইতিমধ্যেই তুফান সরকার ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছেন। পুলিশের বিশেষ সূত্রে তথ্যটি নিশ্চিত করেছে।
এদিকে ধর্ষণ এবং ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টায় বগুড়া সদর থানায় দুই মামলা হয়। ওই দুই মামলায় মোট ১০ জনকে আসামি করা হয়। এরমধ্যে শিমূল ছাড়া বাকি ৯ আসামি গত দুইদিনে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছে। এজাহার ছাড়া ২ ব্যক্তিসহ মোট ১১ জনকে পুলিশ এই মামলায় গ্রেপ্তার করলো।
বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এ-সার্কেল) সনাতন চক্রবর্তী জানান, পরে গ্রেপ্তারকৃতদের রিমান্ডের জন্য আদালতে আবেদন করা হয়। এর প্রেক্ষিতে আদালত নতুন করে আরো ৭ আসামির বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
গতরাত ১টার দিকে পুলিশ সদর দপ্তর ও সাভার থানা পুলিশের সহযোগিতায় রোববার রাতে পালিয়ে থাকা আশা, জিতু ও মুন্নাকে ঢাকার সভার থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর আগে রোববার সন্ধ্যায় অভিযুক্ত বগুড়া পৌরসভার সংরক্ষিত আসনের নারী কাউন্সিলর মার্জিয়া হাসান রুমকি ও তার মা রুমি বেগমকে পাবনা শহর থেকে গ্রেপ্তার করে বগুড়া ডিবি পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃত নারী কাউন্সিলর মার্জিয়া হাসান রুমকি শহরের চকসূত্রাপুর এলাকার জাহিদ হাসানের স্ত্রী। তার মা রুমি বেগম শহরের বাদুড়তলা এলাকার জামিলুর রহমানের স্ত্রী। আর আটক রুমকির পিতা জামিলুর রহমান রুনু বাদুড়তলা এলাকার মৃত জিল্লার রহমানের বড় ছেলে। আশা কাউন্সিল রুমকির ছোট বোন।
অপরদিকে জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে গঠিত তদন্ত কমিটি আলাদাভাবে কাজ করে যাচ্ছে। জেলা প্রশাসক নূরে আলম সিদ্দিকী আশা প্রকাশ করে বলেন, অল্প সময়ের মধ্যেই ওই কমিটি তাদের তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেবেন। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবদুস সামাদ ওই তদন্ত কমিটির প্রধান। তাকে সহযোগিতা করছেন আরো ২ সদস্য। এদিকে আওয়ামী লীগের একটি সূত্র জানিয়েছে, তাদের সহযোগী সংগঠনের একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতার বিরুদ্ধে অনৈতিক কাজে জড়িত থাকার অভিযোগের প্রেক্ষিতে দলটি কেন্দ্রীয়ভাবে একটি তদন্ত টিম বগুড়ায় পাঠাবে। কবে নাগাদ পাঠাবে সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কিছু জানা যায়নি।
এদিকে গতকাল বিকাল ৩টার দিকে বগুড়া জেলা পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামন বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ধর্ষিতা এবং তার মাকে দেখতে যান। এ সময় তিনি বলেন, জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে ভিকটিমকে আইনগত যাবতীয় সহযোগিতা করা হবে।
বগুড়া জেলা পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান বিকালে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, বগুড়ার এই আলোচিত ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের পুলিশ ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে। আসামিদের রিমান্ড চলছে। তাদের কাছ থেকে ইতিমধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ অনেক তথ্য পাওয়া গেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ওই মামলায় সার্বক্ষণিক তদারকি করা হচ্ছে। তিনি আরো জানান, আসামিরা যতই ক্ষমতাবান হোক না কেন দোষী সাব্যস্ত হলে কেউ পার পাবে না।