নওয়াজের পতনে বিশৃংখল হবে পাকিস্তান!

22

নওয়াজ শরীফের পতনের ফলে পারমাণবিক শক্তিধর পাকিস্তানের ক্ষমতার শীর্ষ স্থানে শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে। যদি তা দীর্ঘ সময় চলতে থাকে তাহলে দেশ অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে বলে সতর্কতা দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি। এতে বলা হয়েছে, শুক্রবার দুর্নীতির অভিযোগে সুপ্রিম কোর্ট তাকে অযোগ্য ঘোষণা করেছে। এর ফলে পাকিস্তানের ইতিহাসে পুরো ৫ বছর ক্ষমতার মেয়াদ পূরণ করা প্রধানমন্ত্রীর রেকর্ড গড়তে পারলেন না তিনি। দেশটিতে সেনাবাহিনীর শাসনের ইতিহাস আছে। তা সত্ত্বেও ক্ষমতা দৃশ্যত রয়ে যাচ্ছে বেসামরিক সরকারের হাতে এবং সেটা সেই নওয়াজের পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজ (পিএমএলএন)-এর হাতেই। এ বিষয়ে ওয়াশিংটন ডিসির উইলসন সেন্টারের মাইকেল কুগেলম্যান বলেছেন, পাকিস্তানের মতো একটি পরিবর্তনশীল (ভোলাটাইল) দেশে যখন একজন প্রধানমন্ত্রীকে বরখাস্ত করা হয় তখন উদ্বিগ্ন হওয়ার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। তবে আমার বিশ্বাস বলছে, সবকিছুই ঠিকঠাক থাকবে। একজন উত্তরসূরি বাছাই করা হবে এবং বর্তমান সরকার তার মেয়াদ পূরণ করবে। উল্লেখ্য, পাকিস্তানের ৭০ বছরের ইতিহাসে অনেকবার সামরিক অভ্যুত্থান হয়েছে। এসেছে অস্থিতিশীলতা। কিন্তু সম্প্রতি তা একটি উন্নয়নশীল দেশের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল। তারা নিরাপত্তা ও ইতিবাচক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির দিকে অগ্রসর হচ্ছিল সাম্প্রতিক বছরগুলোতে। ২০১৩ সালের গণতান্ত্রিক নির্বাচনে তৃতীয়বারের মতো ক্ষমতায় আসেন নওয়াজ শরীফ। এটাকে স্থিতিশীলতার একটি শক্তিশালী চিহ্ন হিসেবে দেখা হয়। ওই নির্বাচনের মাধ্যমে একটি গণতান্ত্রিক নির্বাচনে নির্বাচিত একটি সরকার থেকে আরেকটি সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর হয়। এএফপি আরো লিখেছে, নওয়াজ শরীফ প্রধানমন্ত্রী পদে অযোগ্য হয়েছেন। কিন্তু তিনি এখনও দলের প্রধান। তার দল পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠ। ফলে নতুন যে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হবেন তা তার ঘনিষ্ঠ কেউ হবেন এটা অনেকটা নিশ্চিত। রাজনৈতিক বিশ্লেষক হাসান আসকারি বলেছেন, গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীকে সুপ্রিম কোর্ট উৎখাত করার পরও পাকিস্তানে সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা রয়েছে অটুট। নওয়াজ শরীফ দলের ভিতর থেকে নিশ্চয়ই কাউকে বাছাই করবেন। অবশ্যই যাকে বাছাই করবেন তার ব্যক্তিত্ব বা রাজনৈতিক প্রজ্ঞা নওয়াজের মতো হবে না। এখনকার মতো বলা যায়, সুপ্রিম কোর্টের ওই রায়ে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি হয় নি। পাকিস্তানে জাতীয় নির্বাচনের বাকি ¯্রফে এক বছর। এখন নওয়াজকে প্রত্যাহার করার ফাঁকে বিরোধীরা কি সুবিধা নিতে পারবে কিনা প্রশ্ন সেটাই। বিরোধী দল পাকিস্তান তেহরিকে ইনসাফ (পিটিআই) চেয়ারম্যান ইমরান খান তার দলের দুর্নীতি বিরোধী স্লোগান হাঁকিয়ে যাচ্ছেন। তিনি নওয়াজকে প্রত্যাহারের দাবিতে ছিলেন অনড়। কিন্তু তার দল পাকিস্তানের মাত্র ৪টি প্রদেশে সরকার চালাচ্ছে। ফলে তারা জাতীয় পর্যায়ের একটি দল এখনও হয়ে উঠতে পারে নি। বিশ্লেষক হাসান আসকারি বলেন, নওয়াজের বিরুদ্ধে পানামা পেপারস মামলার উদ্যোগ নিয়েছে পিটিআই। তাই এ আন্দোলনের সুনাম ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে সবচেয়ে বড় সুবিধা পেতে পারে তারা। কিন্তু হতো যদি আগাম জাতীয় নির্বাচন হতো। কিন্তু এখনও পিএমএলএনের জনপ্রিয়তা অনেক বেশি। ২০১৮ সালের জুনে সেখানে পরবর্তী জাতীয় নির্বাচন হওয়ার কথা। তার আগে সেখানে কোনো বড় অঘটন ঘটে না গেলে নির্বাচন হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। ফলে এই সময়ে যে সুনাম অর্জন করেছে পিটিআই তা এক বছর পরে নাও থাকতে পারে। তাই রাজনৈতিক সিনিয়র বিশ্লেষক রাসুল বখশ রইস বলেন, সুপ্রিম কোর্টের এ সিদ্ধান্তে পিটিআই গেম-চেঞ্জার নয়। অর্থাৎ তারা পাকিস্তানের রাজনীতি পাল্টে দিতে পারবে না। এ রায়ে একটিই পরিবর্তন এসেছে। তাহলো নওয়াজ শরীফ আর পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নন।