নকলায় সংবাদ সম্মেলন করার অপরাধে বাড়িঘরে হামলা : ৫ মাসের অন্তঃসত্ত্বাকে পিটিয়ে আহত

90

নকলা (শেরপুর) প্রতিনিধি: শেরপুর জেলার নকলা পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের কলাপাড়া মহল্লার হামিদা বেগম (৬০) নামে এক বৃদ্ধা মাকে নির্মম ভাবে মারধর করায় আদালতে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার করতে ও সুষ্ঠ বিচার কামনায় সংবাদ সম্মেলন করার অপরাধে বাড়িঘড়ে হামলা, লুটপাট ও ৫ মাসের অন্তঃসত্ত্বা মহিলাকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে।

জানা গেছে, নকলা পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের কলাপাড়া মহল্লার বাসিন্দা হামিদা বেগম নামে এক অসহায় মাকে ভিটাবাড়ি ছাড়াতে মাঝে মধ্যেই মারধোর করেন তার সৎ ছেলে মাদ্রাসার শিক্ষক ও সাংবাদিক হারুন অর রশিদ, তার স্ত্রী রহিমা বেগম ও ছেলে মামুনুর রশিদ ওরফে রাসেল।

ওই বৃদ্ধা মাকে নির্মমভাবে মারধোর করাসহ মায়ের একমাত্র সম্বল সামান্য বসতভিটার জমি অন্যায় ভাবে জবর দখলের উদ্দেশ্যে বার বার হামলা থেকে বাঁচতে ছেলেসহ সহযোগীদের বিরুদ্ধে শেরপুর সিআর আমলি আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন বৃদ্ধা মা হামিদা বেগম। মামলা নং- সি.আর ১৮৫/২০২১। এছাড়া সুষ্ঠ বিচার কামনায় ১৪ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার রাতে সংবাদ সম্মেলন করেন ভূক্তভোগী ওই মা ও তার পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা।

আদালতে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার ও সংবাদ সম্মেলন করায় বৃহস্পতিবার বিকেলে আবারো হামিদা বেগম ও তার সন্তানদের উপরে হামলা ও বাড়িঘড়ে ভাংচুর-লুটপাট করে শিক্ষক ও সাংবাদিক হারুন রশিদ গংরা। এসময় বৃদ্ধা মাকে অন্যের ঘরে লুকিয়ে রেখে পরিবারের সবাই দৌঁড়ে পালিয়ে গেলেও, অসুস্থ মাকে দেখতে আসা ৫ মাসের অন্তঃসত্ত্বা মেয়ে খাদিজা বেগম (৩০) পালাতে পারেনি। হারুন রশিদ গংরা ওই অন্তঃসত্ত্বা নারীর উপর চড়াও হয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে নকলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

এব্যাপারে নকলা থানায় একটি মামলার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানান বৃদ্ধা ওই মায়ের ছোট ছেলে হিরা মানিক। মানিক মিয়া জানান, কয়েকদিন আগে আমার মা বৃদ্ধা হামিদা বেগমকে হারুন গংরা মারপিট করার সময় ৯৯৯ নম্বরে ফোন করলে পুলিশ ঘটনা স্থলে গিয়ে তাকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে নকলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। বৃহস্পতিবার আবারো আমাদের বাড়ি ঘরসহ মায়ের উপর হামলা চালালে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করলে তাৎক্ষণিক নকলা থানার পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন।

Advertisement
Print Friendly, PDF & Email
sadi