নাগরিক সমস্যাই মূল ফ্যাক্টর

52

রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশান-বনানীকে কেন্দ্র করে এককালে ঢাকা-৫ আসন ছিল বিশাল এক নির্বাচনী এলাকা। উত্তরে তুরাগ নদীর দক্ষিণপাড় থেকে দক্ষিণে রামপুরা পর্যন্ত ছিল এ আসনের বিস্তৃতি। ২০০৮ সালে সীমানা পুনর্বিন্যাসের পর আসনটি ভেঙে গঠিত হয় তিনটি নির্বাচনী এলাকা। তারই একটি হচ্ছে রামপুরা-বাড্ডা ও ভাটারা থানার সমন্বয়ে ঢাকা-১১ আসন। বাংলাদেশ টেলিভিশনের মতো রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার অবস্থান এখানে। রাজধানীর মধ্য-পূর্বাংশের নগর বিকাশমান এ এলাকায় আদি বাসিন্দাদের পাশাপাশি স্থায়ী বসবাস গড়ে তুলছেন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ। প্রতিবছর গড়ে উঠছে পরিকল্পিত-অপরিকল্পিত নতুন নতুন বহুতল ভবন। জমিজমা জটিলতা, রাস্তাঘাট, গ্যাস-পানি-বিদ্যুৎ নিয়ে তৈরি হচ্ছে নতুন নতুন সমস্যা-সংকট। সবমিলিয়ে এখনও এটি একটি নাগরিক সমস্যা জর্জরিত জনপদ। আগামী একাদশ জাতীয় নির্বাচনে এ আসনে বড় দুই রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ-বিএনপির সম্ভাব্য দুই প্রার্থীই পুরনো মুখ।
পঞ্চম জাতীয় নির্বাচনে তৎকালীন ঢাকা-৫ আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। উপনির্বাচনে বিজয়ী হন বিএনপির মেজর (অব.) কামরুল ইসলাম। ষষ্ঠ সংসদেও বিজয় ধরে রাখেন কামরুল। ১৯৯৬ সালের সপ্তম জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ী হন আওয়ামী লীগের একেএম রহমতউল্লাহ। অষ্টম সংসদে রহমতউল্লাহকে হারিয়ে এমপি হন মেজর (অব.) কামরুল। ২০০৮ সালের নবম জাতীয় নির্বাচনের আগে সীমানা পুনর্বিন্যাসের কারণে ঢাকা-৫ ভেঙে পরিণত হয় তিনটি আসনে। বাড্ডা-রামপুরা ও ভাটারা থানার সমন্বয়ে গঠিত ঢাকা-১১ আসনে লড়াইয়ে নামেন অবিভক্ত ঢাকা-৫ আসনের সাবেক এমপি আওয়ামী লীগের রহমতউল্লাহ। তার প্রতিদ্বন্দ্বী হন বিএনপি দলীয় সাবেক কমিশনার এম এ কাইয়ুম। সেবার পুরনো মুখ রহমত উল্লাহর কাছে পরাজিত হন এমএ কাইয়ুম। বিএনপির নির্বাচন বর্জনের সুবাদে দশম সংসদেও প্রতিনিধিত্ব করছেন আওয়ামী লীগের এ এমপি। আগামী নির্বাচনেও তিনিই আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য একক প্রার্থী। স্থানীয় বাসিন্দা হওয়ার পাশাপাশি একাধিকবারের এ এমপির রয়েছে শক্ত সাংগঠনিক অবস্থান। দলের স্থানীয় নেতাকর্মীদের ওপর রয়েছে তার একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ। বাড্ডা-ভাটারাসহ রাজধানীর মধ্য-পূর্বদিকের বিকাশমান এ অঞ্চলের নানা উন্নয়নের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে রহমত উল্লাহর নাম। বাড্ডা থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ২১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ওসমান গনি বলেন, আগামী নির্বাচনে ঢাকা-১১ আসন থেকে অনেকেই নৌকা প্রতীক চাইতে পারেন। বর্তমান এমপি রহমত উল্লাহ রয়েছেন, আমিও চাইতে পারি, অন্য কেউও চাইতে পারেন। তিনি বলেন, ঢাকার অন্যান্য এলাকার মতো রামপুরা-বাড্ডায় রয়েছে নানা নাগরিক সমস্যা। তবে বর্তমান সরকারের আমলে একের পর এক উন্নয়নের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে এবং বাস্তবায়ন হচ্ছে। আওয়ামী লীগ নেতা কফিল উদ্দিন বলেন, ঢাকা-১১ আসনে আওয়ামী লীগের একক প্রার্থী একেএম রহমত উল্লাহ। তার নেতৃত্বেই রামপুরা-বাড্ডা-ভাটারা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ। জনপ্রতিনিধি হিসেবে দীর্ঘদিন ধরেই তিনি এলাকার উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছেন। এলাকার সমস্যা নিয়ে তিনি বলেন, শাহজাদপুর থেকে পূর্বপাড়া মসজিদ রোডটি জলাবদ্ধতার শিকার। শাহজাদপুর কবরস্থান রোড থেকে সুতিরখাল পর্যন্ত রাস্তাটি কাটাকাটি চলছে ৪-৫ মাস ধরে। ঠিকাদার বলছে, ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় থাকায় তারা ধীরে ধীরেস্থিরে কাজ করছেন। কিন্তু রাস্তার কারণে ওই এলাকার বাসিন্দারা গাড়ি ব্যবহার করতে পারছেন না। কফিল বলেন, বিশ্বরোডে এমনিতেই সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত যানজট লেগে থাকে তার ওপর সম্প্রসারণের জন্য কাটাকাটি চলছে। সম্প্রসারণের কাজটি সম্পন্ন হলে যানজট নিরসন হবে। ২০০৮ সালের নবম জাতীয় নির্বাচনে ঢাকা-১১ গুলশান-বাড্ডা এলাকা থেকে বিএনপির টিকিট পেয়েছিলেন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক কমিশনার এমএ কাইয়ুম। আগামী একাদশ জাতীয় নির্বাচনেও তিনিই এ আসনে বিএনপির সম্ভাব্য একক প্রার্থী। আশির দশকের প্রথমদিকে তিতুমীর কলেজ ছাত্রদলের মাধ্যমে জাতীয়তাবাদী রাজনীতিতে তার হাতেখড়ি। পরে ওয়ার্ড, থানা পেরিয়ে তিনি এখন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সভাপতি। দলের কেন্দ্রীয় কমিটিরও ক্ষুদ্রঋণ বিষয়ক সম্পাদক। রাজনৈতিকভাবে মজবুত সাংগঠনিক অবস্থানের পাশাপাশি এলাকায় প্রভাবও রয়েছে দীর্ঘ একদশক ডিসিসির কাউন্সিলর হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী কাইয়ুমের। তবে ঢাকা মহানগর বিএনপির শীর্ষ এ নেতা মামলার বেড়াজালে পড়েন বর্তমান সরকারের আমলে। ২০১৫ সালে গুলশান কূটনীতিক জোনে ইতালীয় নাগরিক সিজার তাবেল্লা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় আসামির তালিকায় আসে তার নাম। ইতিমধ্যে পুলিশ মামলাটির চার্জশিট দেয়ার পর বিচারপ্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। মামলার কারণে দীর্ঘদিন ধরেই মালয়েশিয়ায় প্রবাস জীবনযাপন করছেন তিনি। বিদেশে বসেই তিনি নেতৃত্ব দিচ্ছেন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির। দীর্ঘদিন ধরে বিদেশে অবস্থান করলেও তার পক্ষে কৌশলে নির্বাচনী প্রস্তুতি শুরু করেছেন অনুসারী নেতাকর্মীরা। বাড্ডা-রামপুরা আসনে বিএনপির সম্ভাব্য একক প্রার্থী হলেও তার দেশে ফেরা নিয়ে রয়েছে অনিশ্চয়তা। গ্রেপ্তার ও কারাবরণের ঝুঁকি নিয়ে তাকে ফিরতে হবে দেশে। ফলে নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকার প্রতিষ্ঠা না হলে এবং ঝুঁকি নিয়ে দেশে না ফিরলে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়বে তার নির্বাচনে অংশগ্রহণ। যদি তেমন পরিস্থিতি না হয় এবং বিএনপি নির্বাচনে অংশ নেয় তবে বিকল্প প্রার্থী হিসেবে বিএনপির টিকিট পেতে পারেন তার স্ত্রী শামীম আরা বেগম। বাড্ডা থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এজিএম শামসুল হক বলেন, বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলে এ আসনে একক প্রার্থী এমএ কাইয়ুম। বিশেষ পরিস্থিতিতে বিকল্প প্রার্থী হবেন তার স্ত্রী। কাইয়ুমের প্রতিই রয়েছে স্থানীয় বিএনপিসহ অঙ্গদলগুলোর নেতাকর্মীদের একচ্ছত্র সমর্থন। এলাকার সমস্যা নিয়ে শামসুল হক বলেন, বর্তমান সরকারের আমলে ঢাকা-১১ আসনে দৃশ্যমান কোনো উন্নয়ন হয়নি। রাস্তাঘাটের বেহাল দশা, গ্যাস ও পানির সংকট, মাদকের বিস্তার মিলিয়ে বর্তমানে রামপুরা-বাড্ডা-ভাটারা এক সমস্যা জর্জর এলাকা। রাজধানীর তরল বর্জ্য নিষ্কাশনের একটি পথ হচ্ছে রামপুরা খাল। কিন্তু পরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উদ্যোগ না থাকায় রামপুরা খালের দুপাশের পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে। রামপুরা, বনশ্রী ও আফতাবনগরের বাসিন্দাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।
মধ্যবাড্ডার বাসিন্দা গাজী সিরাজুল হক বলেন, মালিবাগ থেকে নিকুঞ্জ পর্যন্ত বিশ্বরোডটি দিনভর স্থবির হয়ে থাকে যানজটে। এ যানজট ছড়িয়ে পড়ে বাড্ডা-গুলশান লিংক রোড, হাতিরঝিল, মেরুল-আনন্দনগর রোড, লিংকরোড-আদর্শনগর রোড, সাঁতারকূল রোড, মাদানীরোডসহ বিশ্বরোডের সঙ্গে সংযুক্ত প্রতিটি ছোট-বড় রাস্তায়। রামপুরা ইউলুপ চালু হওয়ার পর রামপুরা এলাকায় যানজট কমলেও মেরুল হাতিরঝিল সংযোগ সড়কের মুখে তৈরি হয়েছে যানজটের নতুন পয়েন্ট। মেরুল বাড্ডায় নির্মাণাধীন ইউলুপের মতো নতুন বাজার, বারিধারা ও ভাটারার অভিমুখী আরও তিনটি ইউলুপ নির্মাণ প্রয়োজন। রামপুরার কয়েকজন বাসিন্দা জানান, মহানগরী ঢাকার পরিবেশ রক্ষা ও নাগরিক প্রয়োজনে রামপুরা খালটির গুরুত্ব অপরিসীম। মগবাজার থেকে উলন, রামপুরা থেকে খিলগাঁও, বেগুনবাড়ি থেকে মেরুল বাড্ডা- বিশাল এলাকার বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের পথ এ রামপুরা খাল। কিন্তু বর্জ্য দূষণ আর অবৈধ ভরাটের শিকার এ খাল। রামপুরা ব্রিজের নিচে দুটি স্টর্ম ড্রেন দিয়ে প্রতিনিয়ত দূষিত পানি এসে পড়েছে এ খালে। খালটির দূষণ ও ভরাটের প্রতিবাদ জানিয়ে নানা সময়ে আন্দোলন করেছে এলাকাবাসী ও পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো। তার পরও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। বাড্ডা লিংক রোডের বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, সারা দেশের মানুষ বাড্ডা-ভাটারায় জমি কিনে বাড়িঘর করছে। এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে জমিজমা নিয়ে নানা জটিলতা তৈরি করে পকেট ভারি করছে একটি শ্রেণি। নিরীহ মানুষের জমিতে বালি ফেলে ভরাট করে তা কমদামে বিক্রি করতে বাধ্য করছে নানা ল্যান্ড ডেভেলপমেন্ট প্রতিষ্ঠান। নিরীহ মানুষজন এর সুবিচার পাচ্ছে না। কারণ জমিজমা সংক্রান্ত এসব অনিয়ম ও জোর-জবরদস্তির সঙ্গে জড়িত রয়েছেন ক্ষমতাসীন দলের লোকজন। বাড্ডা, রামপুরা, বনশ্রী ও আফতাবনগরের একাধিক বাসিন্দা জানান, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও সুয়ারেজ সিস্টেমের আধুনিকায়নের বিষয়টি ঢাকা-১১ আসনের ভোটারদের দীর্ঘদিনের দাবি। কিন্তু রাজধানী বর্ধিষ্ণু এ এলাকায় সুয়ারেজ সিস্টেমের অবস্থা বেহাল। বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কোনো সুষ্ঠু ব্যবস্থা ও নির্দিষ্ট পয়েন্ট না থাকায় মেরুলসহ ৩টি পয়েন্টে বিশ্বরোডের ওপর গড়ে উঠেছে বর্জ্যের ভাগাড়। উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে দীর্ঘসূত্রিতার অভিযোগ রয়েছে এলাকাবাসীর। পূর্ব বনশ্রীর বাসিন্দা আবু ইউসুফ বলেন, বনশ্রী থেকে খিলগাঁও তালতলা মার্কেট পর্যন্ত এ এলাকার রাস্তাঘাটগুলোর অবস্থা বেহাল। জনপ্রতিনিধিরা প্রতিশ্রুতি দেন, আশ্বাস দেন কিন্তু বাস্তবায়নের উদ্যোগ দেখা যায় না। দক্ষিণ বনশ্রীর বাসিন্দা সুমিত সরকার বলেন, রামপুরা, বনশ্রী, দক্ষিণ বনশ্রী, মেরাদিয়া, মাদারটেক, বাড্ডা ও তার আশপাশের এলাকাগুলোতে বছরের পর বছর শেষ হয় না পানির লাইন পুনঃস্থাপন, স্যুয়ারেজ লাইন সংস্করণ ও সড়ক সমপ্রসারণের কাজ। বারবার নানা সংস্থা উন্নয়ন প্রকল্প বা সংস্কারের জন্য রাস্তা খুঁড়লেও কাজের ধীরগতির কারণে শেষ হয় না এলাকাবাসীর ভোগান্তি।
ঢাকা-১১ আসনের বর্তমান এমপি একেএম রহমত উল্লাহ বলেন, আমার সবসময় নির্বাচনের প্রস্তুতি আছে। ২০০১ সালের নির্বাচনে আমাকে জোর করে হারানো হয়েছিল। এছাড়া আমি জীবনে কোনো দিন নির্বাচনে হারিনি। আপনি এলাকার পাবলিকের সঙ্গে কথা বলেন। নাগরিক সমস্যার ব্যাপারে রহমত উল্লাহ বলেন, বাড্ডা-ভাটারায় পরিকল্পিতভাবে নগর সম্প্রসারণ হয়নি। বাড্ডা এখনও ইউনিয়ন পরিষদ। বাড্ডা ইউনিয়ন পরিষদে ভোটের সংখ্যা এক লাখ ১০ হাজার। এটাকে তো আমি গুলশান বানাতে পারবো না। আমার এলাকায় এখন কাজ করার কোনো জায়গা নেই। আমি প্রতিটি বাড়িতে বাড়িতে বিদ্যুৎ দিয়েছি। তিনি বলেন, এখানে খালেদা জিয়া এমপি ছিলেন। তার বা বিএনপির আমলে এখানে একটি প্রাইমারি স্কুল, একটি হাইস্কুল করেছে সেটা খুঁজে বের করতে পারবে না। মালিবাগ-নিকুঞ্জ বিশ্বরোড আমি করেছি। সেই উত্তরখান থেকে দক্ষিণখান পর্যন্ত এলাকার বহু রাস্তাঘাট করেছি। এরপর এখন পর্যন্ত কোনো এমপি-মন্ত্রী এক ইঞ্চিও সম্প্রসারণ করতে পারেনি। বাড্ডা-ভাটারা এলাকা আলোর নিচে অন্ধকারে ছিল, আমিই আলোকিত করেছি। এখন আমি এলাকার কাজ না করলে পাবলিক আমারে ভোট দিবে না। এ এলাকায় বিএনপির ৪২ পার্সেন্ট ভোট ছিল, বিএনপির লোক তো আমার বিরুদ্ধে বলবেই। যানজট ও রাস্তার বেহাল দশার ব্যাপারে তিনি বলেন, সারা বাংলাদেশেই যানজট হচ্ছে আমি কি করবো? আমি কি ট্রাফিক পুলিশ? আমি কীভাবে গাড়িঘোড়া নিয়ন্ত্রণ করব। যানজট কমাতে হলে রাস্তাঘাট বাড়াতে হবে। ফ্লাইওভার করতে গেলে রাস্তাঘাট কাটতে হয়। পাইপলাইন বসাতে রাস্তাঘাট কাটতে হয়। তাহলে যানজট তো হবেই। যানজট নিরসনে আমি বাড্ডার ভেতর দিয়ে দুটি রাস্তা করেছি। অধিগ্রহণকৃত জমি প্রকৃত মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেয়ার প্রসঙ্গে রহমত উল্লাহ বলেন, বিষয়টি আমিই প্রথম পার্লামেন্টে উঠিয়েছি। প্রধানমন্ত্রী উদ্যোগ নিয়েছেন। অধিগ্রহণকৃত জমিগুলো প্রকৃত মালিকদের ফেরত দেয়ার ব্যাপারে গেজেট হচ্ছে। রামপুরা-বাড্ডা এলাকায় তার দুই ভাগনের প্রভাব বিস্তারের অভিযোগের ব্যাপারে রহমত উল্লাহ বলেন, আমার ভাগনেরা ফকিরনির পুত না। তাদের একশ-দেড়শ কোটি টাকার জমি আছে। তারা রাস্তা থেকে আসেনি। টেন পার্সেন্ট মানুষ তাদের বিরুদ্ধে বলতেই পারে। আমাদের এ নিয়ে কী করার আছে।
বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী এম এ কাইয়ুম বলেন, আগামী একাদশ নির্বাচনের জন্য ক্ষমতাসীন দলের নেতারা ভোট চাইছেন কিন্তু সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টির উদ্যোগ নিচ্ছেন না। আগামীতে সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি হলে এবং বিএনপি অংশগ্রহণ করলেই আমার প্রার্থী হওয়ার প্রশ্ন আসছে। তিনি বলেন, বাড্ডায় আমার জন্ম, বেড়ে ওঠা ও বসবাস। তিতুমীর কলেজ ছাত্রদলের রাজনীতির মাধ্যমে জাতীয়তাবাদী রাজনীতিতে আমার পথচলা শুরু। পরবর্তীকালে বাড্ডা ওয়ার্ড, গুলশান থানা হয়ে ঢাকা মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক, যুগ্ম সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছি। সর্বশেষ ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি ও কেন্দ্রীয় ক্ষুদ্র ঋণবিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পেয়েছি। ২০০৪ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ১০ বছর ডিসিসির কমিশনারের দায়িত্ব পালন করেছি। বাড্ডা-রামপুরার মানুষের সঙ্গে আমার সম্পর্ক আত্মার। তৃণমূল থেকে রাজনীতি ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি হিসেবে কাজ করার কারণে সবসময় আমার নির্বাচনের প্রস্তুতি আছে। ২০০৮ সালের নির্বাচনেও আমাকে ধানের শীষ প্রতীক দিয়েছিলেন খালেদা জিয়া। কাইয়ুম বলেন, রাজধানীর মধ্যেই উন্নয়ন বঞ্চিত একটি এলাকা বাড্ডা-রামপুরা-ভাটারা। বেহাল রাস্তাঘাট, গ্যাস-পানির সংকট, জলাবদ্ধতা, দূষিত পরিবেশ মিলিয়ে বর্তমানে এটি পরিণত হয়েছে একটি সমস্যা জর্জরিত জনপদে। বর্তমান সরকারের আমলে এখানে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়নি। কাইয়ুম বলেন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে এলাকার নানা উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি পাশে থেকেছি মানুষের সুখে-দুঃখে। বিএনপি সরকারের আমলে আমি প্রস্তাবিত অধিগ্রহণভুক্ত এলাকাগুলো, অধিগ্রহণ মুক্ত করেছি। বাড্ডা-গুলশান লিংক রোড, মহানগর মহাবিদ্যালয়, বাড্ডা হাইস্কুল প্রতিষ্ঠাসহ সামাজিক উন্নয়ন খাতে ভূমিকা রেখেছি। কমিশনার হিসেবে আমার হাত ধরেই এলাকার নানা সমস্যার সমাধান হয়েছে। আমার হাত ধরেই উন্নয়ন সম্ভব- এটা এলাকার মানুষ বিশ্বাস করে। তৃণমূল থেকেই রাজনীতি করে আসার কারণে এলাকার সমস্যাগুলো জানি, এলাকার মানুষকে চিনি ও জানি। আমার বিশ্বাস, মানুষ ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পেলে অবশ্যই আমাকে বৃহত্তর পরিসরে কাজ করার সুযোগ দেবে। কাইয়ুম বলেন, আমি ও আমার পরিবারকে ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে। মিথ্যা মামলায় হয়রানির কারণে দল এবং ভোটারদের সহানুভূতি আমার দিকেই থাকবে। আমি অবশ্যই এ মিথ্যা অভিযোগে দায়েরকৃত মামলার আইনিভাবে মোকাবিলা করব। পরিবেশ-পরিস্থিতি বিবেচনা করে দেশে ফিরব।