নাটকে গল্প ও শিল্পী সংকট

29

ভালো গল্প ও শিল্পী সংকটের ফলে দিন দিন কোণঠাসা হয়ে পড়ছে নাট্যাঙ্গন। প্রতিদিন নিত্যনতুন নাটক নির্মাণ হলেও সমস্যা শুধু বেড়েই চলেছে। একই সঙ্গে নতুন শিল্পীর অনুপ্রবেশ ঘটলেও ঘাটতি রয়েই যাচ্ছে। নাটক দেখতে বসলেই নতুন কোনো গল্প দেখা যায় না বললেই চলে। বেশির ভাগ গল্পই গৎবাঁধা প্রেমের কিংবা কমেডিনির্ভর। ভিন্নতার খোঁজে টিভি সেটের সামনে বসলেও বারবারই হতাশ হতে হচ্ছে দর্শকদের। এক দশক আগেও যারা ‘হাউসফুল’ ‘ফিফটি ফিফটি’ ও ‘গ্র্যাজুয়েট’ দেখার জন্য অপেক্ষা করতেন যারা, তারা এখন ব্যস্ত স্টার প্লাস ও স্টার জলসা ও জি বাংলার সিরিয়াল নিয়ে। নাটকে এখন সবচেয়ে বড় সমস্যা গল্পের। ভিন্ন ও ভালো গল্প খুঁজে পাওয়া যায় না। ফলে দর্শক টিভি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। ইন্টারনেটের এই যুগে শিল্পকে টিকিয়ে রাখার জন্য প্রয়োজন মৌলিক কাহিনী ও যোগ্য অভিনয়শিল্পীর। কিন্তু দর্শক তার কোনো কিছু নাটকে পাচ্ছেন না। দর্শকদের মতে, যেসব সিরিয়াল কলকাতায় প্রচার হচ্ছে হুবহু সেটা বাংলাদেশের কয়েকটি সিরিয়ালেও দেখা যায়। গল্পের মাঝে ভিন্নতা তো নেই, বরং অন্যেরটা অনুকরণ করে চালিয়ে দেয়া হচ্ছে। এসব নিয়ে দর্শকের অভিযোগের শেষ নেই। শুধু তাই নয়, ড্রইংরুম মিডিয়ার পুরোনো জৌলুস দিনকে দিন হারাতে বসেছে। তবে এমন বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন নাট্যাঙ্গনের বিশিষ্টজনরাও। কেউ কেউ এ নিয়ে একই মত পোষণ করেছেন। বিশিষ্ট অভিনেতা আবুল হায়াত মনে করেন, দর্শক হারায়নি। চ্যানেলগুলো দর্শককে গুডবাই জানিয়েছে। আমাদের দেশে কোনো চ্যানেল যখন একটি ভালো নাটক প্রদর্শন করে। তখন তারা অস্বাভাবিক বিজ্ঞাপন দেখাতে থাকে। যা থেকে স্বস্তির নিশ্বাস নিতে দর্শক বিদেশি সিরিয়ালে মনোযোগী হন। আবুল হায়াত আরো বলেন, টিভি নাটকের আগের জৌলুস এখন নেই বললেই চলে। নানা রকম জটিলতায় জর্জরিত। এর অন্যতম কারণ হলো ভালো গল্পের অভাব। যেসব নাটক নির্মাণ হচ্ছে তার বেশির ভাগেরই গল্পের কোনো ভিন্নতা নেই। এছাড়া একজন স্ক্রিপ্ট রাইটার যা সম্মানী পান তাতে তার হয় না। তাই গল্পটাও তার কাছ থেকে ভালো পাওয়া যায় না। এ জটিলতা থেকে বেরিয়ে আসার জন্য নাটকের বাজেট বাড়াতে হবে। এ প্রসঙ্গে জনপ্রিয় অভিনেতা ও নির্মাতা জাহিদ হাসান বলেন, নাটকে এখন ভাঁড়ামি চলছে। কোনো ভিন্নতা নেই। দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ এ অভিনেতা আরো বলেন, ফরমালিন মিশ্রণের ফলে দর্শক এখন আর নাটক দেখতে চান না। তারা অনেক আগে নাটক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। এদিকে দর্শক চাহিদা কমতির বিষয়টিকে অন্যভাবে দেখছেন জনপ্রিয় অভিনেতা আফরান নিশো। তিনি বলেন, দর্শকের নাটক না দেখার পেছনে আমি অভিনেতা-অভিনেত্রীদের দায়ী করবো। আমার কাছে মনে হয় তারা ঠিকভাবে অভিনয়ের মধ্যদিয়ে গল্পটা ফুটিয়ে তুলতে পারেন না। বিশেষ করে তিনি এ জন্য বাজেটের সীমাবদ্ধতাকে অন্যতম কারণ মনে করেন। নিশো আরো বলেন, ভালো অভিনেতা-অভিনেত্রী নিতে হলে একজন অভিজ্ঞ শিল্পীকে যোগ্য সম্মানী দিতে হয়। সে জায়গায় একজন নতুন অভিনেতা অভিনেত্রীকে কাজে লাগানো গেলে অনেক সময় কোনো সম্মানী না দিয়েও কাজ শেষ করা যায়। নির্মাতা অমিতাভ রেজা বলেন, এ সময়ের বাজেট নিয়ে কাজ করাটা কঠিন। ন্যূনতম বাজেটেও কাজ করতে গেলে ভালো সেলিব্রেটিদের নিয়ে কাজ করাটা হয়ে ওঠে না। আয়নাবাজি খ্যাত এ নির্মাতা আরো বলেন, নাটকে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা থাকা খুব জরুরি।