নাদিম কাদিরে ‘বিব্রত’ বাংলাদেশ ঢাকা-লন্ডন সম্পর্কে টানাপড়েন

28

বৃটেনের নির্বাচন নিয়ে বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রেস মিনিস্টার নাদিম কাদিরের লেখা একটি নিবন্ধ নিয়ে ঢাকা-লন্ডন কূটনৈতিক সম্পর্কে টানাপড়েন তৈরি হয়েছে। বৃটিশ সরকার প্রেস সেকশনের ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছিলো। তাকে অবাঞ্ছিত (পিএনজি) ঘোষণার কথাও ভেবেছিল। কিন্তু ঢাকার তৎপতায় তা আপাতত ঠেকানো গেছে। তবে গত মঙ্গলবার লন্ডনস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনার মোহাম্মদ নাজমুল কাউনাইনকে তলব করেছে বৃটিশ ফরেন অ্যান্ড কমনওয়েলথ অফিস। হাইকমিশনারকে ডেকে নিয়ে লন্ডন তাদের অসন্তোষের বিষয়টি স্পষ্ট করেই জানিয়ে দিয়েছে। বিব্রতকর পরিস্থিতি এড়াতে হাইকমিশনার কাউনাইন নিবন্ধটি প্রত্যাহার হয়েছে মর্মে লন্ডনকে অবহিত করেন এবং ঘটনার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে দু:খ প্রকাশ করেন। ঢাকা ও লন্ডনের কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে- বৃটেনের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বিশেষত: দেশটির কোন রাজনৈতিক শক্তির পক্ষে যেন হাইকমিশনের কোনো কর্মকর্তা প্রকাশ্যে অবস্থান না নেন (মিডিয়ায় মন্তব্য প্রতিবেদন, প্রবন্ধ বা নিবন্ধ না লিখেন) ভবিষ্যতের জন্য সে বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। ঢাকার এক কর্মকর্তা মানবজমিনকে বলেন, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিষয়টি বিবেচনায় লন্ডন হয়ত কঠোর অবস্থান থেকে সরে এসেছে। তবে তারা যে এ নিয়ে বেজায় ক্ষুব্দ সেটি হাইকমিশনারকে ডেকে ভালভাবেই বুঝিয়ে দিয়েছে। হাইকমিশনারকে তলব এবং সম্পর্কের টানাপড়েনের বিষয়ে জানতে রাতে পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তিনি তলবের বিষয়টি স্বীকার করলেও বাড়তি কোন তথ্য প্রদান বা মন্তব্য করতে রাজী হননি। রাতে নিবন্ধ লেখক নাদিম কাদিরের সঙ্গেও টেলিফোনে যোগাযোগ করে মানবজমিন। কিন্তু তিনিও এ নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোন মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম অবশ্য গণমাধ্যমকে বলেছেন, হাইকমিশনের পদে থেকে তিনি (নাদিম কাদির) এটা লিখতে পারেন না। ‘বিব্রতকর’ ওই লেখার জন্য লেখককে ভর্ৎসনা করা হয়েছে বলেও জানান প্রেস সচিব। উল্লেখ্য, গত ৪ঠা জুন ঢাকা ট্রিবিউনের মতামত কলামে নাদিম কাদিরের লেখা ‘এ লেবার উইন অন দি কার্ডস’ শীর্ষক নিবন্ধটি প্রকাশিত হয়। নিবন্ধে বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে এবং তার দল কনজারভেটিভ পার্টি নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য ছিল। একই সঙ্গে বিরোধী দলের নেতা জেরেমি করবিনের ঢালাও প্রশংসা ছিল। ওই নিবন্ধে পার্লামেন্ট নির্বাচনে লেবার পার্টি জিতবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়। প্রকাশিত নিবন্ধে বৃটেনের নির্বাচনে (আজ ভোট গ্রহণ) প্রতিদ্বন্দ্বী (বর্তমান বিরোধী দল) লেবার পার্টির পক্ষে প্রকাশ্যে অবস্থান নেয়া হয়েছে মর্মে অভিযোগ ওঠলে পত্রিকা কর্তৃপক্ষ তা প্রত্যাহার করে নেয়। গতকাল গুগলে সার্চ করে নিবন্ধটি প্রত্যাহারের বার্তাই পাওয়া যায়।