নালিতাবাড়ীতে অটোরিক্সা উল্টে আহত ৬

23

মঞ্জুরুল আহসান : শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী উপজেলাতে চলছে ভাতা সুবিধা ভোগীদের ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফারের কাজ। ৩ মে রোববার সকালে ওই কাজে নালিতাবাড়ী উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে যাবার পথে একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিক্সা উল্টে বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধীসহ আহত হয়েছেন ৬ জন। পরে গুরুতর আহতদের নালিতাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে  চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, নালিতাবাড়ী উপজেলার পোড়াগাঁও ইউনিয়নের ধোপাকুড়া গ্রামের বৃদ্ধা ময়মন নেছা (৮০), তার নাতি মমিজল (৩২), ছখিনা বেগম (৫৫), প্রতিবন্ধী তাসলিমা খাতুন (২৫), বিধবা আয়েশা খাতুন (৬০), প্রতিবন্ধী লুৎফর রহমান (৪৫) রোববার সকালে তাদের ভাতা কার্ডের সমস্যা ও ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফারের জন্য ধোপাকুড়া গ্রাম থেকে একটি অটোরিক্সা যোগে নালিতাবাড়ী সমাজসেবা অফিসের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। এদিকে রাজনগর কালূবাড়ি এলাকায় পৌঁছামাত্র বিপরীত দিক থেকে আসা একটি অটোরিক্সার সাথে তাদের অটোরিক্সাটি মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে যাত্রীবাহী ওই অটোরিক্সাটি রাস্তের পার্শ্বে উল্টে পড়ে। এসময় স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে নালিতাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। পরে আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে স্ব-স্ব বাড়িতে চলে যান।

আহত বৃদ্ধা ময়মন নেছার ছেলে মোবারক হোসেন বলেন, আমার মায়ের বয়স অনেক বেশি। ভাতা কার্ডের সমস্যা সমাধানের জন্য একবার পরিষদ। আরেকবার সমাজ সেবা অফিসে যেতে হচ্ছে। এতে অনেক হয়রানির মধ্যে পড়ে গেছি আমরা। যে টাকা ভাতা পাবে এখন চিকিৎসায় তার চেয়ে বেশি হাজার হাজার টাকা খরচ হয়ে যাবে। এছাড়া মায়ের অবস্থা খুবই আশংকাজনক।

আহত মমিজল হক জানায়, দাদী বৃদ্ধ হওয়ার কারণে আমি তাকে সমাজসেবা অফিসে নিয়ে যাচ্ছিলাম। সড়ক দুর্ঘটনায় আমার দাদীর অবস্থাও ভালো না।

প্রতিবন্ধী তাসলিমা খাতুনের ভাই শরিফুল ইসলাম (২০) জানায়, আমার বোন প্রতিবন্ধী। দুর্ঘটনায় আঘাত পেয়ে এখন বিছানায় পড়ে আছে।

নালিতাবাড়ী উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. মোজাম্মেল হক জানান, ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফারের কাজটি মূলত: সমাজসেবা ও বিকাশের যৌথ উদ্যোগে করা হচ্ছে। এসব ভাতা কার্ডে যাদের সমস্যা হয়েছে তারা আমার কর্মীর সাথে অথবা বিকাশ টিমের সাথে যোগাযোগ করবে। একশ’ ভাগ কাজ সম্পন্ন করতে গেলে ঈদের আগে কাউকে টাকা দেওয়া সম্ভব হবে না। তাই যতটুকু কাজ সম্পন্ন হয়েছে ততটুকুর টাকা দেওয়া শুরু করা হবে। অনেক ভাতাভোগী আছেন যারা এখনো বিকাশ অ্যাকাউন্ট খুলেননি। তাই এখানে ৭২ ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বাকী উপকারভোগীদের এখনো বিকাশ অ্যাকাউন্টই খোলা হয়নি। সড়ক দুর্ঘটনার বিষয়টি তিনি শুনেছেন এবং দুঃখ প্রকাশ করেছেন।