নালিতাবাড়ীতে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের উদ্যোগে নির্মিত হচ্ছে ৭শ’ মিটার বাঁধ

62

মঞ্জুরুল আহসান : শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী উপজেলার মরিচপুরান ইউনিয়নের খালভাংগা এলাকায় ভোগাই নদীর পাহাড়ি ঢল থেকে ফসল রক্ষায় উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোকছেদুর রহমান লেবুর উদ্যোগে বাঁধ নির্মাণের কাজ সম্পন্নর পথে। উপজেলা পরিষদের এডিপি, টিআর, কাবিখা প্রকল্পের টাকা ও স্বেচ্ছাশ্রমে বাস্তবায়ন হচ্ছে এই বাঁধটি। জানা গেছে, এই বাঁধ নির্মাণে রক্ষা পাবে নালিতাবাড়ী ও হালুয়াঘাট উপজেলার কয়েক হাজার একর জমির ফসল।

উপজেলা পরিষদ ও স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, পাহাড়ি নদী ভোগাই বর্ষাকালে থাকে ভরা যৌবন। তীব্র গতিতে পানি প্রবাহিত হয় ভাটিতে। ভাটি অঞ্চলের সর্বশেষ নালিতাবাড়ী উপজেলার মরিচপুরান ইউনিয়নের খালভাংগা এই এলাকায় নদী তীরে কোনো বেড়িবাঁধ নেই। ফলে এই অংশ দিয়ে পাহাড়ি ঢলের পানি সহজেই প্রবেশ করে ফসলের মাঠে। আর এই ঢলের পানিতে প্লাবিত হয় প্রতি বছর মরিচপুরান, খালভাংগা, গুরুকপুর, বাঁশকান্দা, উল্লারপাড় ও হালুয়াঘাট এলাকার পাবিয়াজুড়ি, রামনগর, ধূরাইল, আমতলী সহ প্রায় ২০টি গ্রামের ফসলের মাঠ। এক যুগ আগে ভোগাই নদীর এই অংশে প্রায় এক হাজার দুইশত মিটার বাঁধ ভেঙ্গে যায়। ফলে প্রতি বছর এই ভাংগা অংশ দিয়ে পাহাড়ি ঢলের পানির তোড়ে ভেসে যায় ফসলি জমি। পাহাড়ি এই ঢলের পানিতে তলিয়ে যেত ৪/৫ হাজার একর জমির আমন ফসল। আমন আবাদী ফসল কৃষকের ঘরে উঠানো ছিল অনিশ্চিত। শুধু ফসলের মাঠই নয় নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেত ফসলি জমি, বাড়িঘর, রাস্তাঘাট পানিতে ভেসে যেত।

মানুষের এই দুর্ভোগ লাঘবো করতে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোকছেদুর রহমান লেবু জানান, এডিপি থেকে ৩১ লাখ, টিআর কাবিখা প্রকল্পের ১৪ লাখ টাকায় সাতশ’ মিটার বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।  সাথে যুক্ত করা হয়েছে স্বেচ্ছাশ্রম। আর এই কাজে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার নারী-পুরুষ স্বেচ্ছায় শ্রম দিয়ে বাঁধটির নির্মাণ কাজে অংশগ্রহণ করেন। মাত্র বিশ দিনে সিমেন্ট ও বালু মিশ্রিত ৫০ হাজার বস্তা দিয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে বাঁধ। এলাকাবাসীর সহযোগিতায় কাজটি প্রায় শেষ পর্যায়ে। এই বাঁধ নির্মিত হলে এলাকাবাসী তাদের কাঙ্খিত সুফল পাবে।