নালিতাবাড়ীতে দরিদ্র পরিবারের সাথী ভোগাই

30

মো. মঞ্জুরুল আহসান : খরস্রোতা নদী ভোগাই পাহাড়ি হতদরিদ্র মানুষের আর্শিবাদ। নদীর বুক থেকে পাথর ও বালু আহরণ করে দিনাতিপাত করছে শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী উপজেলার পানিহাটা ও তারানি গ্রামের কয়েকশ’ হত দরিদ্র পরিবার।

বালু উত্তোলনকারীরা ড্রেজার মেশিন বসিয়ে ভোগাই নদীর বুক চিরে ক্ষত বিক্ষত করে শেষ করে দিয়েছে সকল বালু। যুগের পর যুগ ধরে নদীর বুকে ধারণ করা এই সব বালু কয়েক বছরেই শেষ। শুধু শেষ করতে পারেনি উত্তর কালাকুমা থেকে ভারতের ব্রীজ পর্যন্ত। জিরো পয়েন্ট হওয়ায় ভারত বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কড়া নজরদারীর কারণে এখানে বালু খেকোরা মেশিন বসাতে পারেনা।

করোনা পরিস্থিতির খারাপ অবস্থায় লকডাউনের কারণে কর্মজীবী মানুষ হয়েছে কর্মহীন। তাই পাহাড়ি জনপদের দরিদ্র পরিবার গুলো উপায়ান্তর না পেয়ে নেমেছে নদীতে। কোদাল, খাচি ও আর বেলচা নিয়ে অক্লান্ত পরিশ্রম করে কেউ উত্তোলন করছে বালু। আবার কেউ ছেঁকে বের করছে পাথর। সারাদিনের উত্তোলিত বালু পাথর বিক্রি করে যা পায় তা দিয়েই তাদের সংসার চলছে বেশ। এতে দৈনিক তাদের (৩০০-৪০০) টাকা ইনকাম হচ্ছে বলে জানা গেছে।

স্থানীয়রা জানায়, ক্ষুদ্র-নৃতাত্বিক জনগোষ্ঠীর মানুষ সহ সীমান্তবর্তী পানিহাটা ও তারানি গ্রামের মানুষ গুলো অধিকাংশ শ্রমিক। এরা অতি দরিদ্র। তারা কেউ ঢাকায় কাজ করে। আবার কেউ এলাকায়। বর্তমান পরিস্থিতিতে কাজ কর্ম না থাকায় বেকার দিন কাটছে তাদের। নদী থেকে পাথর, বালু উত্তোলন করে কোনো রকমে টিকে আছেন তারা।

বসে নেই দরিদ্র পরিবারের স্কুল ও কলেজ পড়ুয়া ছাত্র-জাহাঙ্গীর আলম, জুয়েল, আক্রাম, রূপচান, মোবারক, হাফিজুল সহ অনেকেই। ছাত্ররা জানায়, তাদের বাবা মা দরিদ্র। করোনায় সব কিছু বন্ধ। সেই সাথে তাদের স্কুল-কলেজ বন্ধ। তাই দরিদ্র বাবা মা কে সহযোগিতা করতে তারা বই খাতা রেখে নেমেছেন পাথর উত্তোলনের কাজে।

পাথর উত্তোলনকারী রূপচাঁন, জহুরদ্দিন, আলাল উদ্দীন, শরিফুল ইসলাম, জোসেফ সাংমা, লরেন্স দ্রং সহ অনেকেই জানান, পাহাড়ি অ লে চলছে বিরাট অভাব। এই মুর্হুতে নদী তাদের সবচেয়ে উপকারী বন্ধু। প্রতিজনে দৈনিক ১৫/২০ সেফটি করে পাথর তুলছেন শত শত মানুষ। কর্মহীন কঠিন সময়ে তারা নদীর বুকে আশ্রয় নিয়েছেন। নদীকে তারা মায়ের সাথে তুলনা করেছেন। মা যেমন সন্তানকে বিপদে আপদে, সুখে-দুঃখে সব সময় আগলে রাখেন। তেমনি এই ভোগাই নদী তাদের চরম সময়ে বিলিয়ে দিচ্ছে তার বুকে সি ত সম্পদ। নদীর এই সম্পদ বালু-পাথর থাকার কারণে অভাবী সংসারের দুর্দিনে দু’বেলা দু’মুঠো ভাত খাওয়ার ব্যবস্থা হয়েছে। অন্যথায় পাহাড়ি জনপদের এসব অ লের মানুষকে না খেয়ে থাকতে হতো।