নালিতাবাড়ীতে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে আহত যুবকের মৃত্যু

362

মঞ্জুরুল আহসান : ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে কয়েক দফা গন্ডগোল ও মারামারিতে আহত যুবক শাহাদুল ইসলাম (২৫) চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেছে। নিহত যুবক শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী কলসপাড় ইউনিয়নের সাতানিপাড়া মো: সুরজ্জামানের ছেলে।

শাহাদুলের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দেড়/দুইমাস আগে সাতানিপাড়া এলাকার যুবক ও তরুণেরা বড়ডুবি স্কুল মাঠে খেলতে যায়। সেখানে মালিঝিকান্দা ইউনিয়নের রাঙামাটি গ্রামের তরুণ-যুবকদের সাথে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে উভয়পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি হয়। সাতানিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মনিরুল ইসলাম নয়ন এই ঘটনায় রাঙামাটি গ্রামের পক্ষে অবস্থান নেয়। এতে উভয় গ্রামের ছেলেদের মধ্যে আরো কয়েকদফা মার হয়। সর্বশেষ মনিরুল ইসলাম নয়নের কাছে পাওনা টাকার হালখাতার কার্ড বিতরণ করতে গিয়ে মার খায় একই গ্রামের দোকানদার অকুলের ছেলে মারুফ ও ভাতিজা সজিব। এই ঘটনা ছড়িয়ে পড়লে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ফুসে ওঠে সাতানিপাড়া ও রাঙামাটি গ্রামের মানুষ।

গত ২৩ মে পার্শ্ববর্তী এই দুই গ্রামের মানুষ সাঝে মার করতে অবস্থান নেয়। জানতে পেরে কলসপাড় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কাশেম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উভয় পক্ষকে গন্ডগোল না করতে বুঝাতে চেষ্টা করে। এসময় হঠাৎ নয়নের নেতৃত্বে লাঠিসোটা নিয়ে হামলা হয় শাহাদুলের উপর। দুইপক্ষের সংঘর্ষে শাহাদুল সহ উভয় পক্ষের কয়েকজন আহত হয়। আহত শাহাদুলকে প্রথমে শেরপুর জেলা সদর হাসপাতাল। পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ এন্ড হাসপাতাল থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ এন্ড হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে বাড়ি নিয়ে আসে। অবস্থার অবনতি হলে আবার তাকে শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হলে ৪ জুন শুক্রবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় শাহাদুলের মৃত্যু ঘটে। এব্যাপারে নিহত শাহাদুলের চাচা চাঁন মিয়া বাদী হয়ে নালিতাবাড়ী থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।

চাঁন মিয়া বলেন, প্রভাবশালী মনিরুল ইসলাম নয়ন বেধরক পিটিয়ে আমার ভাতিজাকে আহত করে। ১২ দিন পর চিকিৎসাধীন থাকাবস্থায় ৪ জুন শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে তার মৃত্যু ঘটে। আমার ভাতিজার হত্যাকারীদের সঠিক বিচার চাই আমি।

এদিকে ছেলে হারিয়ে শোকে কাতর বাবা-মা সুরুজ্জামান ছেলে হারানোর যন্ত্রণা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না। শাহাদুলের স্ত্রী স্বামী হারিয়ে দুই সন্তান নিয়ে হত্যাকারীদের সুবিচার কামনা করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন অভিযুক্তদের গ্রেফতার করতে জোড় প্রচেষ্ঠা চালিয়েছেন বলে জানান।

কলসপাড় ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবুল কাশেম বলেন, ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে সাতানিপাড়া ও রাঙামাটি গ্রামের ছেলেদের মাঝে দীর্ঘ দেড়মাস ধরে কলহ চলে আসছে। উভয় গ্রামের ছেলেদের মধ্যে কয়েক দফা গন্ডগোল ও মারামারি হয়েছে। সর্বশেষ উভয় পক্ষ ২৩ মে মার করার জন্য সাঝ করলে আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয়পক্ষকে বুঝাতে চেষ্টা করি। তবুও তারা মানেনি। শেষ পর্যন্ত মনিরুল ইসলাম নয়ন ও চাঁন মিয়া মাস্টারের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। সংঘর্ষে চাঁন মিয়ার ভাতিজা শাহাদুল গুরুতর আহত হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে তার মৃত্যু ঘটে। এই ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের সু-বিচার কামনা করেন তিনি।