নালিতাবাড়ীতে বিশ্বজিতের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ভাঙচুর মামলায় ছাত্রলীগ সভাপতিসহ তিন জন রিমান্ডে

63

নালিতাবাড়ী থেকে সানি : শেরপুরে নালিতাবাড়ী উপজেলায় কাঠমিস্ত্রী বিশ্বজিৎ (২০) এর মৃত্যুর ঘটনার জের ধরে হাবিব কমপ্লেক্সে ভবন ও এএসএসি সার্কেল অফিসে ইটপাটকেল ছুড়ে ভাংচুরের ঘটনার মামলায় উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি রাজিবুল ইসলাম রাজিব (২৪)সহ তিন জনের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। ১০ অক্টোবর মঙ্গলবার দুপুরে উভয় পক্ষের শুনানী শেষে দ্রুত বিচার আদালতের দায়িত্বে থাকা চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ সাইফুর রহমান এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

রিমান্ড পাওয়া অপর দুই জন হচ্ছেন বঙ্গবন্ধু যুব পরিষদেও উপজেলা আহবায়ক আসাদুজ্জামান সোহেল (৪০) ও পৌর শহরের কাচারী পাড়া বাসিন্দা হযরত আলী (৪৫)।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, গত ২ অক্টোবর উপজেলায় কাঠমিস্ত্রী বিশ্বজিতের  মৃত্যুর ঘটনার জের ধরে হাবিব কমপ্লেক্সে ভবন ও এএসএসি সার্কেল অফিসে ইটপাটকেল ছুড়ে ভাংচুরের ঘটনার মামলায় ৯ অক্টোবর সোমবার ছাত্রলীগ সভাপতি রাজীবসহ ১৭ জন স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করে। পরে তারা জামিন আবেদন করলে বিজ্ঞ আদালত তাদের জামিন না-মঞ্জুর করে জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশন দেন। একইদিন বিকেলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই শফিকুল ইসলাম তাদের ৩ জনের বিরুদ্ধে ৩ দিনের পুলিশ রিমান্ডের আবেদন জানায়। পরে মঙ্গলবার রিমান্ডের শুনানী শেষে প্রধান আসামী সোহেল ও রাজীবসহ ৩ জনের ২ দিনের করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। আসামি পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট হাফিজুর রহমান রিমান্ডের সত্যাতা নিশ্চিত করেছেন।

উল্লেখ্য, গত ১ অক্টোবর সন্ধ্যায় জেলার নালিতাবাড়ী পৌর শহরের কাচারী পাড়া এলাকার বাসিন্দা কাঠমিস্ত্রী যুবক বিশ্বজিৎ কে পুলিশ গাঁজা রাখার অভিযোগে আটক করে। পরে থানা থেকে মুচলেকায় তাকে ছেড়ে দেওয়ার পর বাসায় ফিরে মধ্যরাতে অসুস্থ্য হয়ে পরে। এসময় স্বজনেরা তাকে নালিতাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তবত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে ওই যুবকের পুলিশের পিটুনিতে মৃত্যু হয়েছে এমন ধোঁয়াষা অভিযোগ তুলে তার পরিবার। এঘটনা ছড়িয়ে পড়লে পরদিন বিক্ষুব্ধ জনতা ওই যুবকের লাশ নিয়ে বিক্ষোভ ও ট্রায়ারে আগুন দিয়ে  সড়ক অবরোধ করে। বিক্ষোভের একপর্যায়ে উত্তর বাজার এলাকার হাবিব কমপ্লেক্সে ভবন ও নালিতাবাড়ী এএসএসি সার্কেল অফিসে ইটপাটকেল ছুড়ে ভাংচুর করা হয়।

এঘটনায় হাবিব কমপ্লেক্সে ভবনের কেয়ারটেকার তোফাজ্জল হোসেন বাদী হয়ে আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) আইনে নালিতাবাড়ী থানায় ২৭ জনের নাম উল্লেখসহ আড়াই শতাধিক অজ্ঞাতনামাকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।