নালিতাবাড়ীতে বিশ্বজিৎ মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ভাংচুর ঘটনায় এক যুবক গ্রেফতার

30

জিএইচ হান্নানঃ শেরপুর জেলার সীমান্তবর্তী উপজেলা নালিতাবাড়ী থানা পুলিশ হেফাজত থেকে মুচলেকায় মুক্তি পাওয়ার পর বিশ্বজিৎ চন্দ্র সূত্রধর নামে এক যুবকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে সহকারী পুলিশ সুপারের কার্যালয় (নালিতাবাড়ী সার্কেল) অফিসে হামলা ও ভাংচুরের ঘটনায় তৌহিদুল ইসলাম (২৫) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে।

৫ অক্টোবর বৃহস্পতিবার ভোরে তাকে গ্রেফতার করা হয়। সে উপজেলার গোবিন্দনগর গ্রামের আব্দুস সাত্তারের ছেলে এবং উপজেলা ছাত্রলীগের কর্মী। বৃহস্পতিবার বিকেলে গ্রেফতারকৃত তৌহিদুলকে আদালতে সোপর্দ করা হলে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হুমায়ুন কবীর তালুকদার তাকে জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। অপরদিকে এ মামলায় ও গ্রেফতারের ঘটনায় নালিতাবাড়ী শহরে উত্তেজনা ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

পুলিশ সূত্র জানায়, ১ অক্টোবর সন্ধ্যায় পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযানকালে স্থানীয় তারাগঞ্জ উত্তর বাজার এলাকা থেকে পৌর শহরের কাচারিপাড়া মহল্লার মৃত বিধান সূত্রধরের ছেলে বিশ্বজিতকে আটক করা হয় । পরে রাত সাড়ে ১০টার দিকে স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও গণমান্য ব্যক্তিদের সুপারিশে মুচলেকা নিয়ে বিশ্বজিৎকে  থানা থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এরপর বাসায় ফিরে বিশ্বজিৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে রাত ১টার দিকে তাকে নালিতাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরদিন সকাল থেকে পুলিশী নির্যাতনে বিশ্বজিৎ এর মৃত্যুর অভিযোগ তুলে নালিতাবাড়ী শহরে তার লাশ নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করে আত্মীয়-স্বজনসহ স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা অফিস আদালত ভাংচুর করে। এ ঘটনায় ৩ অক্টোবর রাতে হাবিব কমপ্লেক্সের তত্ত্বাবধায়ক তোফাজ্জল হোসেন বাদী হয়ে উপজেলা ছাত্রলীগের একাংশের সভাপতি রাজিবুল ইসলাম রাজিব, সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য তৌহিদুল ইসলাম ও বঙ্গবন্ধু যুব ঐক্য পরিষদের সভাপতি আসাদুজ্জামান সোহেলসহ ২৮ জনকে স্বনামে এবং আরও প্রায় আড়াই শতাধিক অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার আইনে একটি মামলা দায়ের করেন করা হয়।

মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে নালিতাবাড়ী থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই নজরুল ইসলাম জানান, বৃহস্পতিবার সকালে অভিযান চালিয়ে তৌহিদুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়। অপরাপর আসামীদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।