নালিতাবাড়ীতে বিশ্বজিৎ সূত্রধরের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ভাংচুরের মামলায় আ’লীগের বিদ্রোহী গ্রুপের ১৭ নেতা-কর্মীকে জেল হাজতে প্রেরণ

44

জি.এইচ হান্নান : শেরপুর জেলার সীমান্তবর্তী নালিতাবাড়ী থানার পুলিশ হেফাজত থেকে মুচলেকায় ছাড়া পাওয়ার পর বিশ্বজিৎ সূত্রধর ওরফে বিশ্ব নামে এক যুবকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এএসপি (নালিতাবাড়ী সার্কেল) অফিসে হামলা ও ভাংচুরের অভিযোগে আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুতবিচার) আইনের মামলায় ১৭ যুবলীগ-ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীকে জেল হাজতে পাঠিয়েছে আদালত। ৯ অক্টোবর সোমবার দুপুরে ওই নেতা কর্মীরা স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করলে উভয় পক্ষের আইনজীবিদের শুনানী শেষে বিজ্ঞ চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ সাইফুর রহমান তা নামঞ্জুর করে তাদের জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। আত্মসমর্পনকারীরা হলো, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রাজীবুল ইসলাম রাজীব, বঙ্গবন্ধু যুব পরিষদের আহবায়ক, নাজমুল স্মৃতি কলেজের সাবেক জিএস আসাদুজ্জামান সোহেল, দেশরত্ন ছাত্র ঐক্য পরিষদের আহবায়ক তায়েবুর রহমান রুবেল, আবু ইলিয়াস সাদ্দাম, বিমান ভট্টাচার্য, সাদ্দাম হোসেন, আমিরুল ইসলাম সোহেল, সারোয়ার হোসেন, সাব্বির আহমেদ বাদশা, রানা মিয়া, হযরত আলী, নুরনবী, পবিত্র শীল, চঞ্চল দে, সৈকত হোসেন, রিপন মিয়া ও মিঠুন। তারা নালিতাবাড়ীে উপজেলা আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী বাদশা ও লেবু গ্রুপের নেতা-কর্মী।

উল্লেখ্য, গত ১ অক্টোবর সন্ধ্যায় নালিতাবাড়ীর পৌর শহরের তারাগঞ্জ উত্তর বাজার এলাকা থেকে পুলিশের হাতে ধৃত হয় কাচারিপাড়া মহল্লার মৃত বিধান সূত্রধরের ছেলে বিশ্বজিৎ। পরে রাত সাড়ে ১০টার দিকে স্থানীয়দের সুপারিশে মুচলেকা নিয়ে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়। এরপর বিশ্বজিৎ বাড়ী ফিরে অসুস্থ হয়ে পড়লে তার স্বজনেরা রাত ১টার দিকে নালিতাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পরদিন সকাল থেকে পুলিশী নির্যাতনে বিশ্বজিতের মৃত্যু হয়েছে এমন অভিযোগ তুলে নালিতাবাড়ী শহরে তার লাশ নিয়ে একটি রাজনৈতিক দলের উশৃঙ্খল নেতা কর্মী বৃ-শৃঙ্খলা সৃষ্টি এবং হীন স্বার্থ চরিতার্থ করতে বিক্ষোভ মিছিল করে। এ সময় ওই মিছিলে মৃত যুবকের আত্মীয়-স্বজনসহ স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা অংশ নেয়। এক পর্যায়ে তারা শহরের তারাগঞ্জ উত্তর বাজারস্থ শহীদ মিনার ৩ রাস্তার মোড়ে একাধিক স্থানে টায়ার জ্বালায় এবং কিছু দোকানপাটসহ স্থানীয় হাবিব কমপ্লেক্স থাকা এএসপির কার্যালয় ভাংচুর করে। এ ঘটনায় ৩ অক্টোবর নালিতাবাড়ী থানায় ২৮ জনকে স্বনামে এবং আরও প্রায় দুই/আড়াইশ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়।