নালিতাবাড়ীর যুবক বিশ্বজিৎ সূত্রধরের মৃত্যু নিয়ে শেরপুরের পুলিশ সুপারের সংবাদ সম্মেলন “পুলিশী নির্যাতনে বিশ্বজিতের মৃত্যু হয়নি”

85

জিএইচ হান্নান : শেরপুরের নালিতাবাড়ীর বিশ^জিৎ চন্দ্র সূত্রধর নামে এক কাঠমিস্ত্রির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতার ২ অক্টোবর সোমবার নালিতাবাড়ী শহরে টায়ার জ্বালিয়ে রাস্তা অবরোধ, নালিতাবাড়ী সহকারী পুলিশ সুপারের কার্যালয় ভাংচুরসহ নিহতের মরদেহ নিয়ে শহরে মিছিল ও বিশৃংখলার ঘটনাকে মৃত্যুর বিভ্রান্তি এড়াতে সংবাদ সম্মেলন করেছে শেরপুর জেলা পুলিশ।

মঙ্গলবার দুপুরে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এক সংসবাদ সম্মেলন ও মতবিনিময় করা হয়। এসময় পুলিশ সুপার রফিকুল হাসান গণি সাংবাদিকদের ঘটনাস্থল নালিতাবাড়ী থানার হাজতে বিশ^জিৎ সূত্রধর থাকাকালিন সিসিটিভিতে ধারণকৃত ভিডিও ফুটেজ দেখান এবং তার মৃত্যুর ঘটনার সাথে পুলিশ জড়িত নয় বলে দাবী করেন। সিসি টিভির ভিডিও ফুটেজে দেখা যায় বিশ্বজিৎ সূত্রধর আটকের পর সুস্থ্য অবস্থায় হাজতখানায় প্রবেশ করে। এছাড়াও তাকে থানা হাজত থেকে ছেড়ে দেওয়ার সময় তার আত্মীয় স্বজনের সাথে সুস্থ্য অবস্থায় বাড়ী ফিরে যেতে দেখা যায়।

এসময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন শেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আমিনুল ইসলাম, সহকারী পুলিশ সুপার (নালিতাবাড়ী সার্কেল) জাহাঙ্গির আলম, ডিআইও ওয়ান মিজানুর রহমান, শেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম, নালিতাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ.কে.এম ফসিহুর রহমানসহ জেলার ইলেকট্রনিক, প্রিন্ট ও অনলাইন মিডিয়ায় কর্মরত সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। পুলিশের দেয়া প্রেসরিলিজ অনুযায়ী, গত রবিবার সন্ধ্যায় মাদক বিরোধী অভিযানের নিয়মিত অংশ হিসাবে দুই পুড়িয়া গাজাসহ বিশ^জিৎকে আটক করে পুলিশ ও আইনগত কার্যক্রম শেষে রাত আটটার দিকে থানা হাজতে রাখা হয়। পরে স্থানীয়দের সুপারিশের ভিত্তিতে তার বোন জামাইয়ের উপস্থিতিতে সুদীপ নামে এক ব্যাক্তির জিম্মায় জামিন দেয়া হয়। পরে নালিতাবাড়ী শহরে বিভিন্ন জনের সাথে দেখা করে রাত সাড়ে ১২ টার দিকে বাড়ীতে যায়। বাড়ীতে গিয়ে সে অসুস্থবোধ করলে গভীর রাতে তাকে নালিতাবাড়ী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে ডাক্তার মৃত ঘোষণা করে। এই ঘটনায় পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে স্থানীয় জনতা টায়ার জ্বালিয়ে রাস্তা অবরোধ,সহকারী পুলিশের কার্যালয় ভাংচুরসহ নিহতের মরদেহ নিয়ে শহরে মিছিল ও বিশৃংখলা সৃষ্টি করে। পরিবারের বক্তব্যের সূত্রধরে বিভিন্ন মিডিয়ায় এ খবরটি প্রচারিত হলে আজ জেলা পুলিশ এ সংবাদ সম্মেলন করে। এদিকে এঘটনার বিষয়ে সুষ্ঠ ও সঠিক তদন্ত করার জন্য শেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আমিনুল ইসলামকে প্রধান করে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।