নির্বাচনী হালচাল ঢাকা ১২ “আওয়ামী লীগে একক প্রার্থী জটিলতায় বিএনপি”

73

এক সময় রমনার অফিসপাড়া ও তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলের সমন্বয়ে ঢাকা-১০ আসনটি ছিল দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী এলাকা। ২০০৮ সালে সীমানা পুনর্বিন্যাসের পর মতিঝিল-রমনার সমন্বয়ে গঠিত হয়েছে নতুন আসন। সীমিত হয়ে পড়েছে রমনা-তেজগাঁও আসনের পরিধি। পাশাপাশি রাজধানীতে আসন বাড়ানোর ফলে এটি ঢাকা-১২ আসন হিসাবে চিহ্নিত হয়। কিন্তু জাতীয় সংসদ ভবন ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মতো দুইটি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় স্থাপনার অবস্থান এখানে। তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলের পাশাপাশি রাজধানীর অন্যতম বাণিজ্যিক এলাকা কাওরান বাজারের সমন্বয়ে নতুন ঢাকা-১২ আসন এখনও সমান গুরুত্বপূর্ণ। একদিকে শিল্পাঞ্চলে বৃহত্তর নোয়াখালী-কুমিল্লা ও বরিশালের লোকজনের আধিক্য, অন্যদিকে নাখালপাড়া-মণিপুরীপাড়ার আদিবাসিন্দা। দুইপক্ষের কাছে গ্রহণযোগ্যতার বিষয়টি মাথায় রেখে নানা হিসাব-নিকাশ কষেই দুই বড় দলকে চূড়ান্ত করতে হয় এ আসনের মনোনয়ন। আগামী একাদশ জাতীয় নির্বাচনে এ আসনে আওয়ামী লীগের একক প্রার্থী থাকলেও প্রার্থী জটিলতায় রয়েছে বিএনপি। দলটির কেন্দ্রীয় ও মহানগরের তিন নেতা এ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী।
১৯৮৬ সালে তৃতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পঞ্চম জাতীয় নির্বাচনে তিনি বিএনপি’র প্রার্থী মেজর (অব.) মান্নানের কাছে পরাজিত হয়েছিলেন। ষষ্ঠ জাতীয় নির্বাচনে মান্নান দ্বিতীয় মেয়াদে এমপি হলেও সপ্তম সংসদ নির্বাচনে তাকে হারিয়ে দেন আওয়ামী লীগের ডা. এইচবিএম ইকবাল। ২০০১ সালের অষ্টম সংসদে ফের এমপি নির্বাচিত হন মেজর (অব.) মান্নান। পরে তিনি বিএনপি ছেড়ে বিকল্পধারায় যোগ দিলে আসনটি শূন্য হয়। উপ-নির্বাচনে বিকল্পধারার প্রার্থী হিসেবে তিনি অংশ নিলেও নির্বাচিত হন বিএনপি’র মোসাদ্দেক আলী ফালু। ২০০৮ সালে সীমানা পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে সাবেক ঢাকা-১০ এর তেজগাঁও অংশটি নিয়ে গঠিত হয় নতুন ঢাকা-১২। রমনা অংশটি যুক্ত করা হয় নতুন ঢাকা-৮ আসনে। নবম জাতীয় নির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থী শাহাবুদ্দিনকে হারিয়ে ঢাকা-১২ আসনে এমপি হন আওয়ামী লীগের আসাদুজ্জামান কামাল। দশম নির্বাচনেও তিনি বিজয় ধরে রাখেন।
আগামী একাদশ জাতীয় নির্বাচনেও ঢাকা-১২ আসনে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান কামাল। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতো স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। সজ্জন ব্যক্তি এবং ঠাণ্ডা মাথার মানুষ হিসেবে রাজনীতিতে সুনাম রয়েছে তার। রাজধানীর আসন থেকে নির্বাচিত এমপিদের মধ্যে এলাকাবাসীকে সময় দেয়ার ক্ষেত্রে সবার চেয়ে এগিয়ে কামাল। সুখে-দুঃখে এলাকাবাসীর পাশে থেকে মন জয় করেছেন ভোটারদের। তার শক্ত ভূমিকার কারণে এককালের অন্যতম অপরাধপ্রবণ এলাকা তেজগাঁওয়ের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখন অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে ভালো। সেই সঙ্গে নির্বাচনী এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে ভোটের হিসাবে তার রয়েছে শক্ত অবস্থান। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী ও ঢাকা-১২ আসনের বর্তমান এমপি আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, বাংলাদেশের চলমান উন্নয়ন-অগ্রগতির ধারাবাহিকতা রক্ষায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিকল্প নেই। আওয়ামী লীগ সরকারের বিকল্প নেই। শেখ হাসিনার বিকল্প শুধুই শেখ হাসিনা। আওয়ামী লীগের বিকল্প শুধুই আওয়ামী লীগ। আগামী নির্বাচন ও নিজের প্রার্থিতা নিয়ে বলেন, নির্বাচন এবং প্রার্থিতার বিষয়টি নির্ভর করছে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপর। তিনি যে সিদ্ধান্ত নেবেন সেটাই চূড়ান্ত। ঢাকা সিটি করপোরেশন উত্তরের ২৫ নম্বর ওয়ার্ড কমিশনার ও আওয়ামী লীগ নেতা শেখ মজিবুর রহমান বলেন, আগামী নির্বাচনেও ঢাকা-১২ আসনে আওয়ামী লীগের একক প্রার্থী আসাদুজ্জামান খান কামাল। এ আসনে উনার কোনো বিকল্প নেই।
ঢাকা-১২ আসনের মনোনয়ন নিয়ে একটি মধুর জটিলতার মধ্যে রয়েছে বিএনপি। নেতাকর্মীদের মুখে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে গুঞ্জন রয়েছে দলটির প্রভাবশালী দুই নেতার নাম। তারা হলেন, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু ও পদত্যাগকারী ভাইস চেয়ারম্যান মোসাদ্দেক আলী ফালু। এ আসনের সাবেক এমপি ফালু বিগত নবম জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেননি। তবে তার ঘনিষ্ঠ হিসেবে খ্যাত ব্যবসায়ী শাহাব উদ্দিন মনোনয়ন পেয়েছিলেন। বিএনপি’র প্রভাবশালী এ নেতার ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো জানিয়েছে, নির্বাচনের ব্যাপারে এখন পর্যন্ত ঘনিষ্ঠ মহলেও আগ্রহ প্রকাশ করেননি ফালু। অন্যদিকে ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে লড়াইয়ের আগ্রহ থেকেই সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত হয়েছিলেন এককালে ব্যবসায়ী নেতা আবদুল আউয়াল মিন্টু। বিএনপি’র রাজনীতিতে যোগ দেয়ার পর থেকেই কর্মীবান্ধব মনোভাবের মাধ্যমে দলের সর্বস্তরে তৈরি করেছেন গ্রহণযোগ্যতা। পরিণত হয়েছেন একজন প্রভাবশালী নেতায়। সময়ের প্রেক্ষিতে ঢাকা সিটি করপোরেশন উত্তর-দক্ষিণে ভাগ হলে বিগত নির্বাচনে উত্তর সিটির মেয়র পদে বিএনপি’র মনোনয়নও পেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু শেষ মুহূর্তে মনোনয়ন জটিলতায় নির্বাচন করতে পারেননি তিনি। আগামী নির্বাচনে তিনি ঢাকা-১২ থেকে প্রার্থী হতে পারেন এমন গুঞ্জন থাকলেও দলটির বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা জানান, জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণের ব্যাপারে এখনও তিনি সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেননি। তবে জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিলে রাজধানীর গুলশান আসন কিংবা ফেনী থেকে প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে তার। ঢাকা-১২ আসনে প্রকাশ্য তৎপরতায় বিএনপি’র মনোনয়ন প্রত্যাশী রয়েছেন তিনজন। তারা হলেন- বিএনপির কেন্দ্রীয় অর্থবিষয়ক সহ-সম্পাদক, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি’র সহ-সভাপতি ও নবম জাতীয় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী শাহাবউদ্দিন, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি’র যুগ্ম সম্পাদক ও সাবেক কমিশনার আনোয়ারুজ্জামান আনোয়ার এবং যুবদল সভাপতি সাইফুল আলম নীরব। দলটির তেজগাঁও-রমনার নেতাকর্মীরা জানান, ২০০৮ সালের নির্বাচনে নির্বাচনে হারলেও দলের কর্মকাণ্ড থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেননি শাহাব উদ্দিন। তারই প্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি’র সহ-সভাপতির দায়িত্ব পেয়েছেন তিনি। জনকল্যাণমূলক কাজের কারণে সুনাম রয়েছে তার। পরিচ্ছন্ন ইমেজ এবং প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী হিসেবে শিল্পাঞ্চলের শিল্পপতি ও ব্যবসায়ী মহলে রয়েছে তার গ্রহণযোগ্যতা। এছাড়া শিল্পাঞ্চল কেন্দ্রিক এ আসনে নোয়াখালীর লোক হিসেবে তিনি একজন শক্তিশালী প্রার্থী। ঢাকা মহানগর বিএনপি’র কয়েকজন নেতা জানান, তেজগাঁওয়ে এখন পর্যন্ত বিএনপি’র প্রার্থী হিসেবে ভাবা হচ্ছে বিগত নির্বাচনের প্রার্থী শাহাবউদ্দিনের নাম। পরিবেশ-পরিস্থিতির কারণে প্রয়োজনে বিকল্প প্রার্থী আসতে পারে। তেজগাঁও থানা বিএনপির সভাপতি জালাল আহমেদ বলেন, নবম জাতীয় নির্বাচনে ঢাকা-১২ আসনে বিএনপির টিকিট পাওয়ার পর থেকেই শাহাব উদ্দিন দলের প্রতিটি কর্মসূচি-কর্মকাণ্ডে সক্রিয় রয়েছেন। তার নেতৃত্বেই পরিচালিত হচ্ছে ঢাকা-১২ আসনে বিএনপির রাজনীতি। কেন্দ্রের মনোভাব অনুযায়ী এখন পর্যন্ত তিনিই আগামী নির্বাচনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী। এদিকে শিল্পাঞ্চল এলাকা তেজগাঁও থেকে ধানের শীষ প্রতীকে লড়তে চান যুবদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাইফুল আলম নীরব। ছাত্রজীবন থেকেই তেজগাঁওয়ের স্থানীয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নীরব ছাত্রদল থেকে যুবদল মহানগর হয়ে কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমানে সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনিও এ আসন থেকে নির্বাচনী প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছেন। তার পক্ষে লবিং শুরু করেছেন যুবদলের নেতারা। বিএনপি’র প্রধান অঙ্গ সংগঠন যুবদলের সভাপতি হিসেবে মনোনয়নের একজন শক্ত দাবিদার নীরব। অন্যদিকে মহানগর বিএনপি’র রাজনীতিতে একজন সক্রিয় ও গুরুত্বপূর্ণ নেতা তেজগাঁও বিএনপি’র সভাপতি আনোয়ারুজ্জামান আনোয়ার। ঢাকা-১২ আসন থেকে তিনিও লড়তে চান বিএনপি’র টিকিটে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিএনপি ঘোষিত আন্দোলন কর্মসূচিতে সক্রিয় ভূমিকা, মামলা-হামলা শিকার ও বারবার কারাভোগের মাধ্যমে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে তৈরি করেছেন মজবুত সাংগঠনিক অবস্থান। ফলে একাধিক যোগ্য ও গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাব্য প্রার্থী থাকায় এ আসনে মনোনয়ন চূড়ান্ত করতে বিএনপিকে জটিল পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে। রাজনীতিতে প্রধান দুই জোটের বাইরের একটি দল বিকল্পধারার মহাসচিব মেজর (অব.) মান্নান এ আসনের তিনবারের নির্বাচিত সাবেক এমপি। বিকল্পধারা আলাদাভাবে নির্বাচনে অংশ নিলে তিনিও প্রার্থী হতে পারেন এ আসনে।
বর্তমান সরকারের আমলে যেসব এলাকায় দৃশ্যমান উন্নয়ন হয়েছে তার মধ্যে অন্যতম রমনা-তেজগাঁও। যার মধ্যে- সোনারগাঁও এবং তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থেকে সাতরাস্তা-এফডিসি হয়ে মগবাজার ফ্লাইওভার, এলেনবাড়ী থেকে তেজগাঁও ফ্লাইওভার ও হাতিরঝিলের উন্নয়ন অন্যতম। কিন্তু উন্নয়নের মধ্যেও নানা নাগরিক সমস্যায় ভুগছেন রমনা-তেজগাঁওবাসী। উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের দীর্ঘসূত্রিতাও হয়ে উঠেছে নাগরিক ভোগান্তির বড় কারণ। গ্যাস ও পানির সঙ্কট সমাধানে রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ির পর সে রাস্তা মেরামত হয় না মাসের পর মাস। পশ্চিম নাখালপাড়ার আবু আশফাক বলেন, তেজগাঁওয়ের পশ্চিম নাখালপাড়া, তেজজুনীপাড়া ও বনফুল এলাকায় মাঝেমধ্যেই পানির সঙ্কট তীব্র আকার ধারণ করে। নাখালপাড়ার বাসিন্দা বশির আহমেদ বলেন, ২০১৬ সালে ঢাকা ওয়াসার পুরনো পানির লাইন সংস্কার করা হলেও পরিস্থিতির তেমন কোনো উন্নতি হয়নি। যথাযথভাবে সংস্কার না হওয়ায় লাইন উঁচু-নিচু হয়ে পড়ায় পানির ফ্লো ঠিকমতো আসে না। আবার মাঝে-মধ্যে ওয়াসার লাইনে আসে ব্যবহার অনুপযোগী পানি। ভাঙাচোরা সড়ক নিয়ে ক্ষোভ আছে তেজগাঁওবাসীর। নানা সময় সরকারি বিভিন্ন সংস্থা সড়ক কেটে মাটির নিচে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও টেলিফোন লাইন বসায়। অনেক সময় একটি সংস্থার কাজ শেষ হলে সড়কটি সংস্কারের পরপর অন্য সংস্থা আবার কাটে সড়ক। কাজে দীর্ঘসূত্রিতার কারণে মেরামতহীন ভাঙাচোরা রাস্তায় চলাচল করতে গিয়ে ভোগান্তির শিকার হন এলাকাবাসী। বছরের নানা সময়ে তেজকুনিপাড়া, পূর্ব তেজতুরী বাজার, মগবাজার, বেগুনবাড়ীসহ বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দাদের পোহাতে হয় গ্যাসের সমস্যা। দিনের বেলায় গ্যাসের সমস্যার কারণে রান্নাবান্না করতে হয় মধ্যরাতে, শেষরাতে। তেজকুনিপাড়ার বাসিন্দা মরিয়ম মৌরী বলেন, গ্যাসের সমস্যায় বছরজুড়ে ভোগান্তির শিকার তেজকুনিপাড়ার লোকজন। সকালে আটটার মধ্যেই গ্যাস চলে যায়, দুপুরে আসে। এছাড়া ফার্মগেট থেকে তেজগাঁওয়ের প্রতিটি সড়ক ও অলিগলি দিনভর যানজটে স্থবির হয়ে থাকে। তার ওপর বারবার সংস্কারজনিত কাটাকাটির ফলে রাস্তাঘাটগুলোর বেহাল দশা। তেজকুনিপাড়া ঢালের বাসিন্দা আহমেদ দানিশ বলেন, একটু বৃষ্টি হলেই তেজকুনিপাড়া, শাহীনবাগ, পশ্চিম নাখালপাড়া, পোস্ট অফিস, লিচুবাগান ও সমিতি বাজার এলাকায় বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। তবে রাস্তার সংস্কারের পর এখন ড্রেনেজ ব্যবস্থা সংস্কারের কাজ হচ্ছে। নাখালপাড়া ও শাহীনবাগের অন্য একটি সমস্যা সরুরাস্তা। তবে এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগ-বিএনপি দুই রাজনৈতিক দলের স্থানীয় নেতারা এলাকার বাড়ি মালিকদের দায়ী করে বলেন, নাখালপাড়ার বাড়ির মালিকরা এক ফুট জায়গাও ছাড়তে চান না। পুরো জায়গায় বাড়ি করার কারণে সড়কগুলো সহজে প্রশস্ত করা যাচ্ছে না। নাখালপাড়া-তেজকুনীপাড়ার আরেক সমস্যা যানজট। কাওরান বাজারের ব্যবসায়ী মুসা মিয়া বলেন, পানি নিষ্কাশনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টি হলেই কাওরান বাজারের সিটি করপোরেশন মার্কেট থেকে টিসিবি ভবন পর্যন্ত রাস্তাটি পানিতে ডুবে যায়। তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলের দক্ষিণ-পূর্বাংশের বেগুনবাড়ী বাসিন্দা আমিরুল ইসলাম বলেন, বেগুনবাড়ী এলাকায় বিপুলসংখ্যক নিম্নবিত্ত ও দরিদ্র লোকের বসবাস। ঘিঞ্জি আবাসনের ওই এলাকায় গ্যাস ও পানির সমস্যা নিত্যকার। তবে অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো। তেজগাঁও থানা আওয়ামী লীগের নেতারা জানান, পানির সমস্যা সমাধানে এমপি আসাদুজ্জামান কামাল বিশেষ উদ্যোগ নিয়ে নাখালপাড়া, মণিপুরীপাড়া ও তেজতুরী বাজারে তিনটি পাম্প বসিয়েছেন। রাস্তাঘাটের বেহাল দশার ব্যাপারে নেতারা জানান, মেট্রোপলিটন হাসপাতাল থেকে নাখালপাড়া পর্যন্ত কালভার্টসহ একটি রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে। তেজগাঁও, শেরেবাংলা নগর ও মগবাজারের বিভিন্ন রাস্তা মেরামত করা হয়েছে। উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও সংস্কারজনিত কারণে নানা সময়ে বিভিন্ন সংস্থা রাস্তা কাটে। আওয়ামী লীগ নেতারা জানান, শিক্ষাক্ষেত্রে জোর দিয়েছেন আসাদুজ্জামান কামাল। তিনি শেরেবাংলা নগরে একটি মহিলা কলেজের ৮তলা ভবন ও নাখালপাড়ায় হোসেন আলী স্কুলের ৬ তলা ভবন নির্মাণে ইতিমধ্যে জমির অনুমোদন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন। এছাড়া এলাকার অনেকগুলো মসজিদের সোলার বিদ্যুতের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন।
বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী মোহাম্মদ শাহাব উদ্দিন বলেন, চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ২০০৮ সালের নবম জাতীয় নির্বাচনে আমাকে ধানের শীষ প্রতীক দিয়েছিলেন। তিনি আমাকে যে নির্দেশনা এবং দায়িত্ব দিয়েছেন সেভাবেই কাজ করে যাচ্ছি। দলের ঘোষিত কর্মসূচি পালনসহ কর্মী-সমর্থকদের সুখে-দুঃখে পাশে আছি। ঢাকা-১২ নির্বাচনী আসনের অধীন তেজগাঁও, শিল্পাঞ্চল, শেরেবাংলানগর ও রমনা থানা বিএনপি ও অঙ্গদলগুলোর নেতাকর্মীদের সঙ্গে আমার যোগাযোগ নিবিড় এবং সম্পর্ক অত্যন্ত মজবুত। নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের অধীনে বিএনপিসহ সকল রাজনৈতিক দল যে জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেবে সে নির্বাচনের জন্য আমাদের নেতাকর্মীরা সবসময় প্রস্তুত। শাহাব উদ্দিন বলেন, আমি জনসেবা করার জন্য রাজনীতিতে এসেছি। আমার বিশ্বাস জনগণ ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পেলে তাদের প্রকৃত বন্ধুকেই বেছে নেবে। নিজের প্রার্থিতার ব্যাপারে তিনি বলেন, দলের শীর্ষ নেতৃত্বের তরফে আমি কাজ করে যাওয়ার নির্দেশনা পেয়েছি। সে অনুযায়ী কাজ করছি। খালেদা জিয়াই এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন। বিএনপি দলীয় সম্ভাব্য প্রার্থী সাইফুল আলম নীরব বলেন, আমার জন্ম ও বেড়ে ওঠা তেজগাঁওয়ে। শৈশব-কৈশোর কেটেছে বিজি প্রেস কলোনিতে, পড়েছি পলিটেকনিক স্কুলে। ১৯৮৩ সাল থেকে ছাত্রদলের রাজনীতির মাধ্যমে আমি জাতীয়তাবাদী রাজনীতিতে সক্রিয়। তেজগাঁও থানা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতির দায়িত্ব পালন শেষে ১৯৯৩ সালে ঢাকা মহানগর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক হয়েছি। ২০০৩ সালে অবিভক্ত ঢাকা মহানগর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ও ২০১০ সালে কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক পদের পর ২০১৭ সালে যুবদলের কেন্দ্রীয় সভাপতির দায়িত্ব পেয়েছি। এর সবই রাজনীতিতে আমার ত্যাগ, বিশ্বস্ততা ও ধারাবাহিকতার অর্জন। নীরব বলেন, দীর্ঘদিন থেকেই আমার রাজনীতির সূতিকাগার তেজগাঁও আসন থেকে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। তেজগাঁওয়ের মাটি ও মানুষের সঙ্গে আমার দীর্ঘ সম্পর্ক এবং বিএনপি’র প্রধান অঙ্গসংগঠন যুবদলের সভাপতি হিসেবে আগামী নির্বাচনে এ আসন থেকে আমি নিজেকে ধানের শীষ প্রতীকে লড়ার প্রধান দাবিদার। বিএনপি’র আরেক সম্ভাব্য প্রার্থী আনোয়ারুজ্জামান আনোয়ার বলেন, তেজগাঁওয়ের সঙ্গে আমার সম্পর্ক মাটি ও মানুষের। এখানেই আমি বেড়ে উঠেছি, এখানেই আমার সবকিছু। তেজগাঁওয়ের একটি ওয়ার্ড বিএনপি’র রাজনীতি দিয়ে শুরু করে থানা সভাপতি ও মহানগর উত্তরের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক পদ পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে দায়িত্ব পালন করে আসছি। ডিসিসি’র বিএনপি দলীয় সাবেক কমিশনারদের মধ্যে আমার বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি মামলা হয়েছে আওয়ামী লীগের আমলে। রাজপথ থেকে বারবার গ্রেপ্তার হয়েছি কিন্তু নিষ্ক্রিয় হইনি। দীর্ঘদিন ডিসিসি’র কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে জনসেবার অভিজ্ঞতাও অর্জন করেছি। আগামী নির্বাচনে আমি ঢাকা-১২ আসনে দলের টিকিট প্রত্যাশা করি।