নির্বাচনী হালচাল: বগুড়া-১ “বিএনপির দুর্গে বিএনপি নেই দাবড়ে বেড়াচ্ছেন মহাজোট প্রার্থীরা”

61

রাজনীতিতে বগুড়া বরাবরই আলোচিত। সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের জন্মভূমি এর মূল কারণ। আর এ কারণে বগুড়াকে বিএনপির দূর্গ বলা হয়। বরাবরের মতো এবারও বগুড়ার রাজনীতিতে বিএনপি এগিয়ে। এখানকার সাধারণ মানুষের মধ্যে জিয়ার প্রতি আলাদা টান রয়েছে। তবে ১/১১’র পট পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বগুড়ার রাজনীতিতেও বাহ্যিক পরিবর্তন দেখা দেয়। সারা দেশের পরিস্থিতির হাওয়া বগুড়ার গায়েও লাগে। গত নির্বাচনে বিএনপি অংশ না নেয়ায় বগুড়ার ৭টি সংসদীয় আসনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোট প্রার্থীরা এমপি নির্বাচিত হন। ৭ আসনের ২টি আওয়ামী লীগ বাকি ৫টি জাতীয় পার্টি এবং জাসদের দখলে। আগামী নির্বাচনের আরো বছর দেড়েক সময় হাতে থাকলেও সব দলের প্রার্থীদের মধ্যে চলছে নির্বাচনী প্রচারণা। রাজনৈতিক মামলা এবং নানা কারণে বিএনপি এবং বিএনপি জোটের শরিক দলগুলো অনেকটাই কোণঠাসা। বিএনপির কিছু নেতাকর্মী মাঠে থাকলেও বিগত বছরগুলোতে বড় কোনো কর্মসূচি পালন করতে পারেনি। এ অবস্থায় বিএনপির দুর্গে বিএনপি নেই। মাঠ দাবড়ে বেড়াচ্ছে আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা। অপর দিকে জামায়াতের নেতাকর্মীরা প্রথম দিকে বগুড়ার রাজনৈতিক মাঠ দখল করে থাকলেও শেষ পর্যন্ত ধরে রাখতে পারেনি। কয়েক হাজার নেতাকর্মীর নামে মামলা এবং নেতারা জেলে থাকায় এক সময় জামায়াতও মাঠের বাইরে চলে যায়। এত কিছুর পরেও গেল ইউপি নির্বাচন এবং উপজেলা নির্বাচনে জামায়াতের একাধিক প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। প্রকাশ্যে তাদের কার্যক্রম না থাকলেও গোপনে তাদের সাংগঠনিক ভিত মজবুত করছে। আসছে নির্বাচনে সংগত কারণেই জামায়াতের ভোটব্যাংক দুই বড় রাজনৈতিক দলের জন্য ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়াবে। সম্ভাব্য প্রার্থীরা এজন্যই জামায়াত নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তৈরির জন্য কাজ করে যাচ্ছে। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ ও তাদের জোটের এমপিরা গত তিন বছরে নানা উন্নয়ন কাজ করেছেন। বিএনপির দুর্গ ভাঙার নানা কৌশলে বর্তমান এমপিরা ভোটারদের মন জয়ে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এ অবস্থায় আওয়ামী লীগও একটা অবস্থানে দাঁড়িয়েছে। সব মিলিয়ে আগামী নির্বাচন হবে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ।
সারিয়াকান্দি ও সোনাতলা উপজেলা নিয়ে গঠিত বগুড়া-১ আসন। এ আসনে এলাকায় সংসদ নির্বাচন নিয়ে সম্ভাব্য এমপি প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়েছে বেশ আগে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রার্থীদের বিভিন্ন স্থানে জনসংযোগ কর্মিসভা এবং নানা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছেন। বর্তমান সংসদ সদস্য আব্দুল মান্নান সারিয়াকান্দি-সোনাতলা এলাকায় প্রতিটি জনসভা ছাড়াও বিভিন্ন কর্মিসভায় আগামী সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীকে নৌকা মার্কায় ভোট দেয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন। এছাড়াও তিনি নেতাকর্মীকে আরও সক্রিয় এবং নির্বাচনমুখী করার জন্য নেতাকর্মীদের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় মিলিত হচ্ছেন। আবদুল মান্নান এখন পুরোদমে মাঠে রয়েছেন। এ আসনে সারিয়াকান্দি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র আলমগীর শাহী সুমন আগামী নির্বাচনের জন্য মনোনয়ন চাইবেন। সেজন্য তিনি এরই মধ্য জেলা ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন। অপরদিকে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক এমপি আলহাজ কাজী রফিকুল ইসলাম বিএনপি থেকে এবারও মনোনয়ন চাইবেন। তিনি এরই মধ্য নির্বাচনী এলাকার নেতাকর্মী ও সমর্থকদের সঙ্গে ব্যাপক আলোচনা অব্যাহত রেখেছেন। নির্বাচনী এলাকার নেতাকর্মীদের মন চাঙা রাখার জন্য দুই সহস্রাধিক কর্মী-সমর্থকদের মধ্য রোজা ও ঈদ উপলক্ষে পণ্যসামগ্রী বিতরণ করেছেন। তিনি পুনরায় নির্বাচিত হলে বেগম জিয়ার হাতকে শক্তিশালী করে এলাকায় উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবেন বলে বিভিন্ন সভা-সমাবেশে প্রচার করছেন। নির্বাচনের মাঠে বিএনপির আরেক প্রভাবশালী নেতা এ কে এম আহসানুল তৌয়ব জাকিরও দলের মনোনয়ন পেতে কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছেন। তিনি বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন থেকেই ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে জড়িত। বর্তমানে সোনাতলা উপজেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি দু’বার বিএনপি মনোনীত উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। বর্তমানে তিনি সফলতার সঙ্গেই চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।
এছাড়াও একই দলের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মোহাম্মদ শোকরানা দলীয় মনোনয়নের জন্য তদবির চালাচ্ছেন। সেজন্য তার কর্মী-সমর্থকরা বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন। জানাযায়, দীর্ঘদিন সারিয়াকান্দি উপজেলা সদরে দলীয় কোনো অফিস না থাকলেও মাস খানেক আগে চন্দন বাইশা রোডে একটি ঘরভাড়া নিয়ে সেখান থেকে দলীয় কার্যক্রম পরিচালনা করছেন শোকরানা। জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি মোকছেদুল আলম মাস্টার আগামী নির্বাচনে দলের হাইকমান্ডের কাছে মনোনয়ন চাইবেন। এরই মধ্য তিনি বিভিন্ন স্থানে আগামী নির্বাচনে জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থীকে বিজয়ী করার জন্য প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন।
সোনাতলা উপজেলার বিএনপির সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান এ কে এম আহসানুল তৌয়ব জাকির বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বিএনপিকে সংঘবদ্ধ রাখার জন্য দলীয় সব ধরনের কর্মসূচি পালন করেছি। কর্মীদের নিয়মিত খোঁজখবর নিয়েছি। আশা করি আসছে নির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থী হয়ে জনগণের সমর্থন ও ভোটে জায়ী হবো।
অপরদিকে সারিয়াকান্দি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র আলমগীর শাহী সুমন জানান, নৌকায় ওই আসন থেকে তিনিই মনোনয়ন পাবেন। তৃণমূলের নেতা কর্মীরা তার জন্য মাঠে কাজ করছেন। তিনি দাবি করেন তৃণমূল এসব কর্মীদেরে দাবি কেন্দ্র ফেলতে পারবে না। সাধারণ ভোটাররা অবশ্য তাকিয়ে আছেন নির্বাচন কেমন হয় সেদিকে? বিএনপি নির্বাচনে অংশ নেবে কিনা- এ প্রশ্নও রয়েছে তাদের মধ্যে।