নির্বাচনে অংশ নিতে খালেদার প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

25

বিএনপিকে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একই সঙ্গে সুস্থ ধারার রাজনীতিতে ফিরে আসারও আহ্বান জানান তিনি। বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ্য করে প্রধানমন্ত্রী একথা বলেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সুইডেনের স্টকহোমের সিটি কনফারেন্স সেন্টারে প্রবাসী বাংলাদেশিদের দেয়া এক নাগরিক সংবর্ধনায় বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় তিনি বলেন, আমরা চাই গণতন্ত্রের ধারা অব্যাহত থাকুক। আমরা চাই তারা (বিএনপি) পুনরায় নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ার মতো ভুল না করুক। বরং আমরা চাই তারা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে এবং কারা ক্ষমতায় আসবে তা জনগণ বিচার করবে। বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, খালেদা জিয়া দেশের কোনো উন্নয়নে স্বস্তিবোধ করেন না। তিনি উন্নয়ন নয়, দেশের ধ্বংস দেখতে চান। বাংলাদেশ খারাপ পরিস্থিতির দিকে যাচ্ছে- খালেদা জিয়ার এই মন্তব্যের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ খারাপ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে না বরং যারা এতিমের অর্থ আত্মসাৎ করেছে, যারা মামলার মুখোমুখি হতে ভয় পায় এবং দেড়শ’বার রিট দাখিল সত্ত্বেও উচ্চ আদালতে মামলায় হেরেছে তাদেরই দুর্দিন যাচ্ছে।
শেখ হাসিনা আরো বলেন, দেশের মানুষ যখন ভালো থাকেন বিএনপি নেতা তখন স্বস্তি অনুভব করেন না। তারা স্বস্তি অনুভব করেন যখন তারা মানুষ হত্যা করেন, দেশের সম্পদ ধ্বংস করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি যখন ক্ষমতায় ছিল তখন হাওয়া ভবন খুলে জনগণের অর্থ লুট করেছে, অবাধে দুর্নীতি করেছে। খালেদা জিয়া শুধু লুট ও কমিশন নেয়া জানেন। তারা কেবল জানে কীভাবে সম্পদ ধ্বংস করতে হয়।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে পঁচাত্তরের ১৫ই আগস্ট বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডে জিয়াউর রহমানের সম্পৃক্ততার বিষয়টি পুনরুল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি আরো বলেন, বিএনপি নেতারা ২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা এবং ১০ ট্রাক অস্ত্র চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত। তারা আমার জীবন নাশের কয়েকবার চেষ্টা করেছে। দেশের উন্নয়নের পাশাপাশি জনগণের সামনে বিএনপির সন্ত্রাসী কার্যক্রম তুলে ধরার জন্য প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। শেখ হাসিনা বলেন, জনগণকে অবহিত করতে হবে যে, বিএনপি একটি জঙ্গি ও সন্ত্রাসী সংগঠন। তারা মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করেছে। জনগণের সামনে তাদের চরিত্রকে উন্মোচিত করতে হবে। সন্ত্রাসী ও জঙ্গিবাদীরা দেশের কোথাও স্থান পাবে না-উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ইসলাম শান্তির ধর্ম। এই ধর্ম কখনো নিরীহ মানুষ হত্যার সমর্থন দেয় না। সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনে আমরা ব্যাপক কার্যক্রম গ্রহণ করেছি। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে গত আট বছরে দেশের উন্নয়নের বিষয়টি তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, আওয়ামী লীগের নীতি হলো দেশকে নিজের পায়ে দাঁড় করানো, অন্যের কাছ থেকে ভিক্ষা গ্রহণ নয়। আমরা মর্যাদার সঙ্গে বাস করবো। অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী বক্তব্য রাখেন।
সুইডেনের ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আমন্ত্রণ
অভিন্ন সমৃদ্ধি ও বাংলাদেশ, সুইডেনের মানুষের জীবনযাত্রার উন্নয়নে বিনিয়োগ ও বাণিজ্যে বাংলাদেশের অংশীদার হতে সুইডেনের বাণিজ্য ও শিল্প নেতৃবৃন্দকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শুক্রবার সকালে সুইডিস প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের রোজেনব্যাড সম্মেলন কেন্দ্রে বাংলাদেশ-সুইডেন বিনিয়োগ ফোরামের বাণিজ্য সংলাপে ভাষণকালে এ আমন্ত্রণ জানান তিনি। শেখ হাসিনা বলেন, আমি দু’দেশের সমৃদ্ধি ও মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে বিনিয়োগ, ব্যবসা ও উদ্ভাবনী বাণিজ্যে আমাদের অংশীদার হতে সুইডেনের ব্যবসায়ী ও শিল্প নেতৃবৃন্দকে জোরালোভাবে উৎসাহিত করছি। তিনি বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের বিনিয়োগ নীতি খুবই উদার। এখানে ব্যবসা-বাণিজ্যের ব্যয় তুলনামূলকভাবে কম। আমরা ইইউ, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, ভারত, জাপান ও নিউজিল্যান্ডের কাছ থেকে শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত সুবিধা ভোগ করি।
তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশে ১শটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা হচ্ছে। এ ধরনের অর্থনৈতিক অঞ্চল জিটুজি ভিত্তিতে বিশেষভাবে চীন, ভারত ও জাপানকে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। আমরা অনেক হাই-টেক পার্কও গড়ে তুলছি- আমি আমাদের উন্নয়ন প্রয়াসে অংশীদার হতে সুইডেনের কোম্পানিগুলোকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সময় থেকে বাংলাদেশ-সুইডেন সম্পর্কের বিষয়টি উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, প্রধানমন্ত্রী উলফ পার্মের নেতৃত্বাধীন সরকার ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে সংহতি প্রকাশ করে এবং ১৯৭২ সালের ৪ঠা ফেব্রুয়ারি ইউরোপের প্রথম সমর্থনকারী দেশগুলোর মধ্যে সুইডেন বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়। সে সময় থেকে এই সম্পর্ক জোরদার থেকে জোরদার হয়ে বর্তমানে অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে তা গভীর ও শক্তিশালী হয়েছে। তিনি বলেন, আজকের এই আয়োজন দু’দেশের বাণিজ্য-বিনিয়োগের লক্ষ্যসমূহ অর্জনে আরো উৎসাহ জোগাবে। আমি বিশ্বাস করি, দু’দেশের বিজনেস কমিউনিটি মতামত ও অভিজ্ঞতা বিনিময় ও তথ্য ব্যবহারের এই সুযোগ কাজে লাগাবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের ওষুধ বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের ৮৩টি দেশে রপ্তানি হয়। মেধা শিল্প, আইসিটি ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য খাতও দ্রুত বিকশিত হচ্ছে। জাহাজ নির্মাণ শিল্পও সমপ্রসারিত হচ্ছে। এখন সমুদ্রগামী হালকা ও মাঝারি আকারের জাহাজ বাংলাদেশে নির্মিত হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ দারিদ্র্যবিমোচন, খাদ্য নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য ও সেনিটেশন, নারীর ক্ষমতায়ন এবং সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর মতো ক্ষেত্রগুলোতেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সাধন করেছে। বাংলাদেশের অর্থনীতি বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত। এ বছর আমরা ৭.২৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছি। জনসংখ্যার তুলনায় ভূমি কম হলেও বাংলাদেশ খাদ্যে স্বাবলম্বিতা অর্জন করেছে। তিনি বলেন, আমরা ২০৪১ সালের মধ্যে একটি উন্নত দেশ গড়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছি। বাংলাদেশ ইতিমধ্যেই নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে। অনুষ্ঠানে সুইডেনের এন্টারপ্রাইজ ও ইনোভেশন মন্ত্রীসহ এফবিসিসিআই’র সভাপতি সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান কাজী আমিনুল ইসলাম পৃথক বক্তব্য রাখেন।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সিনিয়র সচিব সুরাইয়া বেগম, শ্রম সচিব মিখাইল শিপার প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে সুইডেনের ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ এবং বাংলাদেশের ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দলের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। দু’দেশের মধ্যে ব্যবসা বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সুইডেন-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিল, স্টকহোম এবং নরডিক চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির মধ্যে একটি সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর হয়।