নির্মাণ হচ্ছে রোহিঙ্গাদের নিয়ে চলচ্চিত্র

31

মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা শরণার্থী যারা তারা রোহিঙ্গা নামেই পরিচিত। তাদের জীবনযাপনসহ নানা বিষয় নিয়ে এবার ছবি নির্মাণ করছেন সৈয়দ অহিদুজ্জামান ডায়মন্ড। ছবির নাম ‘রোহিঙ্গা’। পরিচালনার পাশাপাশি এ ছবির কাহিনী, চিত্রনাট্য ও সংলাপ লিখেছেন তিনি। মঙ্গলবার ছবির শুটিং হয়েছে নাফ নদ, শাহপরীর দ্বীপ আর টেকনাফে। আর গতকাল সকাল থেকে শুটিং হয়েছে উখিয়া ক্যাম্পে। সেখানে চিত্রনায়িকা আরশী অভিনয় করেছেন। তিনি মানবজমিনকে বলেন, এখানের পরিস্থিতি দেখে ভয়ই পেয়েছি। এরইমধ্যে শুটিং করছি। বেশ চ্যালেঞ্জিং একটা চরিত্র। যেকোনো দৃশ্য করার আগে মহড়াও দিতে হচ্ছে আমাকে। উখিয়া ক্যাম্পের মানুষগুলোর মুখ মলিন, চেহারায় অনিশ্চয়তার ছাপ সেগুলো থাকছে ছবির গল্পে। ছবিতে বাস্তব ঘটনাগুলো ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করছেন পরিচালক ডায়মন্ড ভাই। আশা করি, দর্শক ছবিটি পছন্দ করবেন। উখিয়া ক্যাম্পে আরও তিন দিন শুটিং হবে। এরপর মিয়ানমারের সেট তৈরি করা হবে। ওখানে মিয়ানমারের দৃশ্যগুলো ধারণ করা হবে। ছবিটি যৌথভাবে প্রযোজনা করছেন সৈয়দ অহিদুজ্জামান ডায়মন্ড ও শবনম শেহনাজ চৌধুরী।
উল্লেখ্য, সৈয়দ অহিদুজ্জামান ডায়মন্ড নাটকের পরিচালক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। পরবর্তী সময়ে তিনি চলচ্চিত্র পরিচালনা করেন। তার পরিচালিত প্রথম চলচ্চিত্র ‘নাচোলের রানী’ (২০০৬)। ২০০৯ সালে মুক্তি পায় তার দ্বিতীয় চলচ্চিত্র ‘গঙ্গাযাত্রা’। এতে অভিনয় করেন ফেরদৌস, পপি, সিমলা প্রমুখ। ২০১০ সালে তিনি ‘নাচোলের রানী’ ও ‘গঙ্গাযাত্রা’ চলচ্চিত্র পরিচালনার জন্য কলকাতার অতন্দ্র সাংস্কৃতিক সংসদ থেকে অতন্দ্র পদক লাভ করেন। ‘গঙ্গাযাত্রা’ চলচ্চিত্রের জন্য ২০১১ সালে শ্রেষ্ঠ পরিচালক ও শ্রেষ্ঠ কাহিনীকার বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান তিনি। চলচ্চিত্রটি ২০১৪ সালে বাচসাস পুরস্কারে ৮টি বিভাগে পুরস্কার পায়। ২০১৩ সালে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পদ্মাপাড়ের জেলেদের জীবন-জীবিকার বিপর্যয়ের গল্প নিয়ে তিনি নির্মাণ করেন ‘অন্তর্ধান’। ছবিতে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেন ফেরদৌস, নিপুণ প্রমুখ। চলচ্চিত্রটি একটি বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছে। সবশেষ ২০১৬ সালে তিনি নির্মাণ করেছেন ‘বাষ্পস্নান’। এতে অভিনয় করেছেন কলকাতার সমদর্শী দত্ত আর বাংলাদেশের আইরিন সুলতানা।