নি র্বা চ নী হা ল চা ল – ঢাকা ১৩ ধারাবাহিকতা না পরিবর্তন

56

মোহাম্মদপুর ও আদাবর থানা নিয়ে গঠিত ঢাকা-১৩ আসন। এখানকার ভোটারদের দুঃখ একটাই- স্বাধীনতার পর স্থানীয় কোনো নেতাকে এ আসনে এমপি হিসাবে না পাওয়া। সব দলের পক্ষ থেকে অতিথি প্রার্থীদের চাপিয়ে দেয়া হয়। তাই এখানকার ভোটাররা আসলে ভোট দেন দল ও প্রতীককে, ব্যক্তিকে নয়। প্রায় প্রতিটি নির্বাচনে এখানে নতুন নতুন প্রার্থী আসেন। জনসংযোগ করেন। নির্বাচন করেন। একেক নির্বাচনে একেক প্রার্থী পাওয়াটা ভোটারদের কাছে স্বাভাবিক বিষয়ে পরিণত হয়েছে। আদাবরের বাসিন্দা হাশমত আলী বলেন, কোনো নির্বাচনে দেখলাম না এখানে স্থানীয় কোনো নেতা নির্বাচন করছেন। সবাই জানে, নির্বাচনের কয়েক মাস আগে এ আসনের প্রার্থী ঠিক করা হয়। এরপর তাকে নিয়ে আমরা ঝাঁপিয়ে পড়ি। মিছিল, মিটিং করি। তিনি বলেন, ড. কামাল হোসেন থেকে শুরু করে অনেক সিনিয়র নেতা এ আসনে নির্বাচন করেছেন। এ তালিকা অনেক দীর্ঘ। একই বক্তব্য মোহাম্মদপুর শেখেরটেকের বাসিন্দা হানিফের। তিনি বলেন, অতিথি প্রার্থীদের নিয়ে আমরা লাফালাফি করলেও কোনো সমস্যা হয় না। কারণ, আসনটি রাজধানীতে হওয়ায় ও সিটি করপোরেশনের আওতাভুক্ত হওয়ায় ব্যাপক উন্নয়ন কাজ হয়। প্রার্থীর জয়লাভের সঙ্গে যদি ওই দল জয়লাভ করে তাহলে এলাকাবাসী হিসেবে আমাদের লাভ হয়।
এদিকে নির্বাচনের প্রায় দেড় বছর বাকি থাকলেও এখন থেকেই শুরু হয়েছে নির্বাচনী জনসংযোগ। এলাকাবাসী জানান, এ আসনে এবার ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের পক্ষে গণসংযোগ করছেন বর্তমান এমপি ও দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবীর নানক, ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান ও এ আসনের সাবেক এমপি মকবুল হোসেন। অন্যদিকে বিএনপির পক্ষে এ আসনে কাজ করছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা আবদুস সালাম। গত নির্বাচনে এখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন দলের যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল। আবদুস সালাম দাবি করেন, দলের চেয়ারপারসন এরই মধ্যে তাকে এ আসনে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন। অন্যদিকে মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, কোথা থেকে আগামীতে মনোনয়ন চাইবো এখন পর্যন্ত নির্দিষ্ট কোনো পরিকল্পনা নেই। ২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত সুজাতা সিংহ মার্কা নির্বাচন না হয়ে যদি সত্যিকার অর্থে নির্বাচন হয় তাহলে যে কোনো আসন থেকে নির্বাচন করতে প্রস্তুত রয়েছি। তবে এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়নি। আবার কাফরুলে নির্বাচন করতে পারি এ কথাটি একেবারে অসত্যও নয়। এ কারণে হয়তো দুই জায়গা থেকে আমার নাম শোনা যাচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত আমি কোথাও গণসংযোগ করছি না। ওদিকে জাতীয় পার্টির পক্ষ থেকে এ আসনে মনোনয়ন পেতে কাজ করছেন ৩১নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শফিকুল ইসলাম। নির্বাচনী জোটের হিসাবনিকাশের ওপর নির্ভর করছে তার প্রার্থিতা।
আওয়ামী লীগে নীরব প্রতিযোগিতা: ঢাকা-১৩ আসনে নির্বাচন করতে আওয়ামী লীগে চলছে নীরব মনোনয়ন প্রতিযোগিতা। বর্তমান এমপি জাহাঙ্গীর কবির নানক আবারও এ আসন থেকে মনোনয়ন চান। তার সঙ্গে রয়েছেন মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান ও সাবেক এমপি মকবুল হোসেন। এ প্রসঙ্গে ৩২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর হাবিবুর রহমান বলেন, নির্বাচনের এখনও দেড় বছর বাকি। রাজধানী হওয়ায় রাজনীতি নিয়ে সবাই ম্যাচিউরড। আপাতত এ আসনে জাহাঙ্গীর কবির নানক ছাড়া আর তেমন কারও নাম শোনা যাচ্ছে না। বর্তমান এমপি হিসেবে উনি এলাকায় যে উন্নয়নের কাজ করেছেন তা গত ৫০ বছরেও হয়নি। আগে এ এলাকার যে জমির দাম ছিল ১০ লাখ টাকা কাঠা। এখন তা ৫০ লাখ টাকা কাঠা হয়েছে শুধু উন্নয়নের জন্য। রাস্তাঘাট ভালো হওয়ার জন্য। মনোনয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সাদেক খান উত্তরের সাধারণ সম্পাদক। এ হিসেবে তিনি এলাকায় কাজ করছেন। দলের জন্য এ কাজটাকে কেউ কেউ যদি মনে করেন নির্বাচনের জন্য তাহলে ঠিক হবে না। উনি এ পর্যন্ত কাউকে বলেননি যে এ আসন থেকে এমপি পদে নির্বাচন করবেন। প্রধানমন্ত্রীর কাছে সবার রিপোর্ট আছে। তিনি যাকে যোগ্য বলে মনে করবেন তাকেই মনোনয়ন দেবেন। তিনি বলেন, এ আসনে ১০০’র মতো মাদরাসা রয়েছে। আজ পর্যন্ত কোনো মাদরাসা সরকারের বিরুদ্ধে মিছিল করেনি। তার মানে এই নয় যে, সবাই সরকারি দল করে। এমপি মহোদয় কোনো না কোনোভাবে ট্যাকেল করে রেখেছেন। তাদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে, তাদেরকে সম্মান দেখিয়ে। এই ক্যাপাসিটিটা কেবল তারই রয়েছে। তা নাহলে মতিঝিলে হেফাজতে কতবড় আন্দোলন হলো। ওই সময় মোহাম্মদপুর থেকে কোনো মিছিল যায়ওনি আসেওনি। মকবুল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, উনি একসময় এখানকার এমপি ছিলেন। তার নামে বিভিন্ন জায়গা-জমি দখল, কবরস্থান দখল ইত্যাদি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ করার পর তাকে মনোনয়ন দেয়া হয়নি। তৎকালে অনেকের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা থাকায় প্রধানমন্ত্রী কাউকে মনোনয়ন দেননি। অথচ এত মামলা থাকার পরও নানক ভাইকে মনোনয়ন দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। মন্ত্রীও করেছেন। অতিথি প্রার্থী প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমি ৯৪ সাল থেকে এখানে কমিশনার। ভারপ্রাপ্ত মেয়র ছিলাম। আমরা ৫০ বছর আগে ঢাকায় এসেছি। এখন আমাদের কি ভাড়াটিয়া বলা যাবে? এখানে স্থানীয় বলতে ১০০ এর মধ্যে ৫ ভাগও নেই। ৯৫ ভাগ বাইরের। উদাহরণ হিসেবে বলি, নানক সাহেবের বাড়ি বরিশালে। এখানে ৪টি ওয়ার্ড এর মধ্যে কয়েকটিতে ৪৫ ভাগ মানুষের বাড়ি বরিশালে। এজন্য কাউন্টার হিসেবে গত নির্বাচনে আলাল সাহেবকে এখানে মনোনয়ন দেয়া হয়েছিল। আসলে আলাল সাহেবের বাড়ি ইন্ডিয়ায়। এটা বেগম খালেদা জিয়া প্রথমে বুঝতে পারেননি। ২৯নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নুরুল ইসলাম রতন বলেন, এ আসনে আওয়ামী লীগে ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। মাঠে নানক ভাই তো আছেনই। সাদেক খানও কাজ করছেন। আবার সাবেক এমপি মকবুল সাহেবের আনাগোনাও শুরু হয়েছে। উনিও মনোনয়ন চান। তিনি বলেন, আমার মনে হয় না মনোনয়নের এ চ্যালেঞ্জে নানক ভাইয়ের সঙ্গে আর কেউ টিকবে। তিনি নির্বাচনী এলাকায় যথেষ্ট উন্নয়ন কাজ করেছেন। জনসংযোগ ভালো। প্রার্থীদের ত্রিমুখী প্রতিযোগিতায় স্থানীয় নেতা ও ভোটারদের ওপর কোনো প্রভাব পড়বে কিনা এ প্রশ্নে তিনি বলেন, অন্ধ আওয়ামী লীগের সংখ্যা কমে গেছে। এখন সবাই যুক্তি দিয়ে প্রার্থীকে ভোট দেবে। বিএনপি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এখানে বিএনপির কোনো লোকাল লিডার নেই। ঢাকা-১৩ আসনটি হচ্ছে সব দলের জন্য ভাড়াটিয়া আসন। স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত কোনো দলের পক্ষ থেকে লোকাল কোনো নেতাকে মনোনয়ন দেয়া হয়নি। যে নেতার কোনো স্থান কোথাও হয় না তাকে মোহাম্মদপুরে চাপিয়ে দেয়া হয়। ড. কামাল হোসেন থেকে শুরু করে আজকে জাহাঙ্গীর কবির নানক পর্যন্ত সবাই আমাদের ভাড়াটিয়া। আমাদের জীবনের দুঃখ এটাই, রাজনীতি ঠিকই করলাম কিন্তু ওই ভাড়াটিয়াদের স্থান করার জন্য কোনো দলই আমাদের মূল্যায়ন করলো না। বিএনপি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জেল থেকে নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে এখানকার বিএনপি। সবমিলিয়ে এখানে বিএনপির ৮/১০টি গ্রুপ রয়েছে। এজন্য সাংগঠনিকভাবে প্রেশার দিয়ে আলাল সাহেবকে এ আসন থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। এখানে আবদুস সালাম মাঝে-মধ্যে দেখি এদিক-সেদিক ঘোরেন। উনার বাড়ি কিন্তু ময়মনসিংহে। কিন্তু আদি ফকিরাপুল।
মনোনয়ন প্রসঙ্গে ঢাকা উত্তর মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান মানবজমিনকে বলেন, নেত্রী যদি এ আসনে আমাকে নির্বাচন করাইতে চায় তাহলে করবো। এলাকায় আমার অবস্থান ভালো আছে। আমাদের সরকারের সময় এ আসনে অনেক উন্নয়ন হয়েছে। আরো উন্নয়ন হওয়া জরুরি বলে মনে করি। অতিথি প্রার্থী প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অতিথি এখানে আসবে কেন। যার যার এলাকা তাকে মনোনয়ন দিলে দল শক্তিশালী হবে। তিনি বলেন, আমি এখানে মনোনয়ন চাইবো না। নেত্রী এখানে যাকেই দেয় সেটাই শিরোধার্য। এখানে বিএনপির অবস্থান খুব একটা ভালো নয় বলে মন্তব্য করেন সাদেক খান। তিনি বলেন, এখানে এলাকার লোককে মনোনয়ন দেয়া উচিত। বাইরের কাউকে দেয়া ঠিক নয়। আগামী নির্বাচনে অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে বোঝা যাবে দল কাকে মনোনয়ন দেয় বা কি হয়। এদিকে বিষয়টি নিয়ে বক্তব্য জানতে জাহাঙ্গীর কবির নানকের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। টেলিফোনে তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার ব্যক্তিগত সহকারী জানান, এ বিষয়ে তিনি কোনো কথা আপাতত বলবেন না বলে জানিয়েছেন।
প্রার্থী জটিলতায় নেই বিএনপি: আগামী নির্বাচনে এ আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন প্রায় নিশ্চিত বলে জানান এলাকাবাসী। তারা বলেন, বিএনপির পক্ষ থেকে দলটির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা আবদুস সালাম একাই জনসংযোগ করছেন। এ প্রসঙ্গে নির্বাচনী এলাকার ৩২নং ওয়ার্ড বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও আরাফাত রহমান যুব ক্রীড়া সংসদের কেন্দ্রীয় কমিটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আলমগীর হোসেন লাবু বলেন নীরবে, নিভৃতে এ এলাকায় বিএনপি কাজ করছে। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া সালাম ভাইকে কনফার্ম করার পর আমরা সবাই তার পক্ষে কাজ শুরু করেছি। তবে নির্বাচনী এলাকায় কাজ করতে গিয়ে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের বাধা দেয়া হচ্ছে না। প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাঝে মাঝে ঝামেলা করা হয়। তিনি বলেন, ঢাকা-১৩ আসনে বিএনপির একটি ভোটব্যাংক রয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে এখানকার ভোটাররা এ আসন থেকে বিএনপি প্রার্থীকে জয়লাভ করাবে বলে মনে করি। বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী আবদুস সালাম মানবজমিনকে বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নির্দেশে এ এলাকায় কাজ করছি। কাজ বলতে আপাতত জনসংযোগ, বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিচ্ছি। প্রায় ৬ মাস ধরে এ এলাকায় নিরলস কাজ করছি। এর আগে আসনটিতে মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল নির্বাচন করেছিলেন। এবার ম্যাডাম আমাকে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে আলাল ভাইয়ের সঙ্গেও কথা হয়েছে। আমাদের মধ্যে যেন কোনো ধরনের ভুল বোঝাবুঝি না হয়। আলাল ভাই ও বিষয়টি আমাকে নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, এটা জাতীয় নির্বাচন। এখানে দলীয় প্রতীকের ওপরই নির্বাচনটা হয়। ঢাকা শহরে তো আজ থেকে কাজ করছি না। ছাত্র রাজনীতি থেকে শুরু করে এ শহরে রাজনীতি করছি। সবার দোয়ায় এমন একটা অবস্থান আছে যে ঢাকা শহরের যে কোনো জায়গা থেকে নির্বাচন করার মতো অবস্থা রয়েছে। ম্যাডাম বলে দেয়ার পর থেকে আদাবরে কাজ করছি। এখানে বাসা ও অফিস নিয়েছি। আরেকটু গোছানোর পর অফিসটি চালু করবো। আওয়ামী লীগের অবস্থা তো জানেনই। তাই একটু রয়েসয়ে কাজ করছি। তবে আগে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে যেরকম প্রেশার ছিল এখন সেকরম নেই। মাঝে মধ্যে বিভিন্ন জায়গায় ডিস্টার্ব করে। কয়েকদিন আগে আরটিভি ও বাংলাভিশনের অনুষ্ঠানে জাহাঙ্গীর কবির নানকের সঙ্গে দেখা হয়েছিল। এর আগে তাকে টেলিফোনও করেছিলাম। তাকে বলেছি, আসেন দুই ভাই মিলেমিশে এখানে নির্বাচন করি। তিনি বলেন, আমরা যদি একমঞ্চে দাঁড়িয়ে ভোট চাই তাহলে অত টাকা খরচ করতে হবে না। বড় মিছিল, মিটিং করার দরকার হবে না। জনগণ যাকে পছন্দ করবে তাকে ভোট দেবে। আমরা আসলে একমঞ্চে দাঁড়িয়ে ভোট করতে চাই। যেন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের সন্ত্রাসী বা টাকার ছড়াছড়ি না হয়। দল এটাকে সাপোর্ট করবে কি না প্রশ্নে তিনি বলেন, আমরা শুরু করি একজায়গা থেকে। দল যদি দেখে ভালো তাহলে সমর্থন করবে। আমরা তো চাই মানুষ যেন শান্তিতে ভোট দিতে পারে।