নূরের অতিথি নায়করাজ

27

১৯৬৬ সালে জহির রায়হান পরিচালিত নায়করাজ রাজ্জাক অভিনীত প্রথম চলচ্চিত্র ‘বেহুলা’ মুক্তি পেলে সে বছরই এটি সিনেমা হলে গিয়ে উপভোগ করেন আসাদুজ্জামান নূর। এরপর নায়করাজ অভিনীত ‘ওরা ১১’জন’, ‘জীবন থেকে নেয়া’, ‘নীল আকাশের নীচে’সহ আরো বেশকিছু চলচ্চিত্রও আসাদুজ্জামান নূর সিনেমা হলে গিয়ে উপভোগ করেছেন। অন্যদিকে নায়করাজ রাজ্জাক আসাদুজ্জামান নূরের বহু নাটক দেখেছেন বিটিভিতে। বিশেষ করে তার অভিনীত ‘বহুব্রীহি’ এবং ‘কোথাও কেউ নেই’ নাটকে তার অনবদ্য অভিনয়ের কথা উল্লেখ করেন নায়করাজ। সিনেমা জগতের স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত জীবন্ত কিংবদন্তি অভিনেতা নায়করাজ রাজ্জাক এবং নাট্য জগতের জীবন্ত কিংবদন্তি অভিনেতা ও সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর এবারই প্রথম কোনো টিভি চ্যানেলের একই অনুষ্ঠান মুখোমুখি বসে গল্প করেছেন। দেশটিভির নিয়মিত অনুষ্ঠান ‘বেলা অবেলা সারা বেলা’র আহ্বানে এবারই প্রথম দেশটিভির কোনো অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়েছেন নায়করাজ রাজ্জাক। আসাদুজ্জামান নূরের উপস্থাপনায় গল্পে, আড্ডায় তিনি তার জন্ম, বেড়ে উঠা, নাটক-সিনেমায় অভিনয়, অভিনয় জীবনের অর্জন, জীবন সংসারের গল্প’সহ আরো নানান বিষয়ে নিজের সম্পর্কে তুলে ধরেছেন এ অনুষ্ঠানে। অনুষ্ঠানটি প্রযোজনায় রয়েছেন রবিউল করিম। গত শনিবার সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশটিভির কার্যালয়ে নায়করাজের পর্বটি ধারণ করা হয়েছে। এতে অংশ নেয়া প্রসঙ্গে নায়করাজ রাজ্জাক বলেন, সবকিছু মিলিয়ে বেশ ভালো লেগেছে অনুষ্ঠানটিতে অংশ নিয়ে। আসাদুজ্জামান নূর শক্তিমান একজন অভিনেতা, পাশাপাশি খুব ভালো একজন উপস্থাপকও বটে। যে কারণে গল্প করে, আড্ডা দিয়ে বেশ ভালো লেগেছে। আসাদুজ্জামান নূর বলেন, বেশ আগেই এই অনুষ্ঠানে রাজ্জাক ভাইয়ের অংশ নেয়ার কথা ছিল, কিন্তু তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ ছিলেন বলে সময় দেয়া হয়ে উঠেনি তার। শেষ পর্যন্ত তিনি সময় দিতে পেরেছেন এ জন্য তাকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। রাজ্জাক ভাইয়ের পর্বটি সবমিলিয়ে বেশ ভালো হয়েছে। পুরনো দিনের গল্প, নানা ধরনের অজানা তথ্য জেনে দর্শকের ভালো লাগবে। প্রযোজক রবিউল করিম জানান, ‘বেলা অবেলা’র আগামী রোববারের পর্বে সন্ধ্যা ৭টা ৪৫ মিনিটে নায়করাজের পর্বটি প্রচার হবে। এটি পুনঃপ্রচার হবে তার পরের মঙ্গলবার দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটে। উল্লেখ্য, গত ছয় বছর ধরে ‘বেলা অবেলা সারা বেলা’ দর্শকপ্রিয়তা নিয়ে দেশ টিভিতে নিয়মিত প্রচার হচ্ছে।