‘পরিচালক সমিতির সদস্য না হয়েও ছবি নির্মাণের স্বাধীনতা আমার আছে’

25

কাজী হায়াৎ একাধারে একজন পরিচালক, কাহিনীকার, চিত্রনাট্যকার, প্রযোজক এবং অভিনেতা। ১৯৭৯ সালে ‘দ্য ফাদার’ নামের চলচ্চিত্রের মাধ্যমে পরিচালনা জীবন শুরু তার। এরপর কাজী হায়াৎ পরিচালিত ছবিগুলোতে সমাজের বিভিন্ন অনিয়ম, অরাজকতা ইত্যাদি উঠে আসে। ‘দিলদার আলী’, ‘খোকন সোনা’, ‘দাঙ্গা’, ‘ত্রাস’, ‘চাঁদাবাজ’, ‘সিপাহী’, ‘দেশপ্রেমিক’, ‘দেশদ্রোহী’, ‘লুটতরাজ’, ‘তেজী’, ‘আম্মাজান’, ‘ধর’, ‘কষ্ট’, ‘ধাওয়া’, ‘বর্তমান’, ‘ইতিহাস’, ‘অন্ধকার’, ‘ছিন্নমূল’সহ মোট ৪৯টি ছবি পরিচালনা করেন। চলচ্চিত্র নির্মাণে তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারসহ বিভিন্ন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পুরস্কার অর্জন করেছেন। এবার সেই গুণী নির্মাতা চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতি থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার বিএফডিসির পরিচালক সমিতির কার্যালয়ে কাজী হায়াত তার সদস্যপদ প্রত্যাহারের আবেদনপত্র জমা দিয়েছেন। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাইলে কাজী হায়াৎ বলেন, চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সাংগঠনিক নিয়ম অনুযায়ী যে কোম্পানি থেকে ছবি করতে যাচ্ছি তার প্রত্যয়নপত্রটা সেই কোম্পানি পরিচালক সমিতিতে জমা দেয়। কিন্তু সে বিষয়ে সহযোগিতা না করে এটা জমা দেয়ার পর থেকে টালবাহানা শুরু করে পরিচালক সমিতি। আমি বলেছিলাম, এটা কি ছবির নামের সমস্যা। নামে তো সমস্যা হওয়ার কথা না। কারণ ছবির নাম ‘আমার স্বপ্ন আমার দেশ’। এটা তো পাঁচ মিনিটের বিষয়। এর আগে তো আমি ৪৯টি ছবি পরিচালনা করেছি। তখন এসব বিষয়ে তো সময় লাগেনি, দ্রুত অনুমতি পেয়েছি। এখন কি হলো। তখন আমি পরিচালক সমিতির সভাপতি মুশফিকুর রহমান গুলজারকে ফোন করলাম। তিনি জানালেন, এসব বিষয় দেখেন পরিচালক সমিতির মহাসচিব বদিউল আলম খোকন। আমি পরের দিনই এফডিসি গেলাম। বদিউল আলম খোকন জানালেন, এসব আমি জানি না। পরের দিন সকালে খোকন সাহেব জানালেন সভাপতির নির্দেশে নামটার এন্ট্রি দেয়া হয়নি। শুনে আমি অবাক হলাম। এরপর পরিচালক সমিতির সভাপতির জন্য অপেক্ষা করলাম। এরপর সভাপতি গুলজারের সঙ্গে যখন দেখা হলো তখন আমি সরাসরি এ বিষয়ে জানতে চাইলাম। তখন তিনি বললেন, আমি দেখতেছি। এসব দেখে তখন আমার কষ্ট হলো। রাতে আমি ঘুমাইনি। এরপর গত বৃহস্পতিবার সমিতির কার্যালয়ে আমি নিজে গিয়ে সদস্যপদ প্রত্যাহারের আবেদন করি। আমি পরিচালক সমিতি থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তিনি আরো বলেন, কোনো কারণ থাকলে টালবাহানা করতে পারতো। আমাকে যদি বলতো আপনি ওমুকের ছবি করছেন, এই কারণে দেয়া হবে না। অথবা অন্য কোনো কারণও যদি বলতো আমি বুঝতাম। কিছু না বলে একজন আরেকজনের কথা বলে। আমি এ বিষয়টি দেখে খুবই কষ্ট পেলাম। এর আগে পরিচালক আলমগীর কবির, তানভীর মোকাম্মেল, তারেক মাসুদ পরিচালক সমিতির সদস্য না থেকেও ছবি পরিচালনা করেছেন। স্বাধীন দেশ, আমি ফ্রিডম ফাইটার, পরিচালক সমিতির সদস্য না হয়েও ছবি নির্মাণের স্বাধীনতা আমার আছে। কাজী হায়াৎ পরিচালক সমিতি নিয়ে আরো বলেন, সমিতি আমার কি সহযোগিতা করে, চাঁদা নেয়া ছাড়া। বছরে একটা ইফতার আর পিকনিক ছাড়া তাদের কোনো কার্যক্রম নেই। চলচ্চিত্র বিষয়ক আলোচনা সভা, সেমিনার বা চলচ্চিত্রের দুর্দিন নিয়ে আলোচনা সভা-এমন অনুষ্ঠান কি তারা আয়োজন করেছে?