পাইকারি বাজারে কমলেও খুচরা বাজারে কমেনি চালের দাম

40

মজুতদারি ঠেকাতে প্রশাসনের উদ্যোগের পর চাল সরবরাহ বাড়িয়েছেন মিলমালিকরা। ফলে পাইকারিতে প্রায় সব ধরনের চালের দাম কমেছে কেজিতে তিন থেকে ৫ টাকা। কিন্তু দাম কমার প্রভাব এখনো পড়েনি খুচরা বাজারে। আগের বাড়তি দামেই বিক্রি হচ্ছে। তবে চলতি সপ্তাহে খুচরা বাজারে দাম কমার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা। ক্রেতাদের অভিযোগ, সরকার নিয়মিত বাজার তদারকি করে না। আর এ সুযোগে দাম বাড়াচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। রাজধানীর বিভিন্ন পাইকারি ও খুচরাবাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। চালের খুচরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাজারে মোটা স্বর্ণা ও পারিজা চাল প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫১ থেকে ৫২ টাকা দরে। এছাড়া মিনিকেট কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে ৬২ টাকা দরে, মিনিকেট (সাধারণ) ৬০ টাকা, বিআর-২৮ ৫৮ টাকা, উন্নত মানের নাজিরশাইল ৭০ টাকা, নাজিরশাইল (নরমাল) ৬০, হাস্কি ৫৬, পাইজাম চাল ৫৫ টাকা, বাসমতি ৬৮ টাকা, কাটারিভোগ ৭৬ টাকা এবং পোলাও চাল ৯০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে পাইকারি বাজারে গত সপ্তাহের চেয়ে কেজিতে তিন থেকে চার টাকা কমে মিনিকেট চাল বিক্রি হচ্ছে ৫৭-৫৯ টাকায়। একইভাবে নাজিরশাইল ৬৪-৬৬ টাকা, আটাশ ৫২-৫৩ টাকা, ঊনত্রিশ ৫০-৫২ টাকা ও স্বর্ণা ৪৫-৪৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাজারে মোটা চালের (হাইব্রিড) সরবারহ কম। এ চাল বিক্রি হচ্ছে ৪২-৪৩ টাকায়।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, চালের কৃত্রিম সংকট তৈরি করেন মিলমালিকরা। তবে মজুত ঠেকাতে প্রশাসনের উদ্যোগের পর বাজারে সরবরাহ বাড়ান মিলাররা। এতে পাইকারিতে প্রায় সব ধরনের চালে বস্তাপ্রতি দাম কমেছে দেড়শো থেকে আড়াইশো টাকা। একইসঙ্গে কমেছে আমদানি করা চালের দামও। তবে এখনো প্রভাব পড়েনি খুচরা বাজারে।
বাবুবাজারের হাজি রাইস এজেন্সির স্বত্বাধিকারী হাজি জিয়াউল হক বলেন, পাইকারি বাজারে দেড় থেকে দুই টাকা কমে চাল বিক্রি করছি। তিনি বলেন, খুচরা বাজারেও কমবে। একটু সময় লাগবে। কারণ, সরকার প্লাস্টিকের বস্তায় চাল বিক্রির সুযোগ দিয়েছে। এতে বস্তাপ্রতি ৫০-৬০ টাকা কমবে।
কাওরান বাজারের হাজি রাই এজেন্সির মালিক রশিদ বলেন, আমরা এখনো কম দামের চাল কিনতে পারিনি। তাই আগের বাড়তি দামেই বিক্রি করছি। মোটা চালের দাম কেজিতে দুই থেকে তিন টাকা কমলেও চিকন চাল আগের দামেই আছে। এদিকে রাজধানীর কারওয়ান বাজার, হাতিরপুল বাজারসহ কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সপ্তাহের ব্যবধানে ১০ থেকে ৩০ টাকা বেড়ে ব্রয়লার মুরগি বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১৪০-১৪৫ টাকা দরে। লেয়ার মুরগি ১০ টাকা বেড়ে ২০০ টাকা; দেশি মুরগি প্রতি পিস ৪৫০ টাকা; পাকিস্তানি লাল মুরগি কেজিপ্রতি ৩০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১৮০ টাকা দরে। সংশ্লিষ্টরা বলেন, সরকারকে চাল আমদানি এবং মজুত বাড়াতে হবে। সেই সঙ্গে বড় পরিসরে খোলাবাজারে চাল বিক্রি করতে হবে। তাহলে দাম নিয়ন্ত্রণে আসবে। এছাড়া মজুতদাররা বেশি দিন চাল আটকে রাখতে পারবে না। তারা বাজারে আসতে বাধ্য হবে। মিটিং করে, ধমক দিয়ে দাম কমানো যাবে না।
সবজির বাজার আগের বাড়তি দামেই স্থির রয়েছে। বাজারে বেগুন কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে ৭০-৮০ টাকা দরে। এছাড়া শিম ১০০ টাকা; কাঁচা মরিচ ১০০ টাকা; হাইব্রিড টমেটো ১২০ টাকা; শশা ৬০ টাকা; চাল কুমড়া ৫০-৫৫ টাকা; কচুর লতি ৬০-৬৫ টাকা; পটল ৫০ টাকা; ঢেঁড়স ৬০ টাকা; ঝিঙা ৬০ টাকা; চিচিঙ্গা ৫৫-৬০ টাকা; করলা ৬০ টাকা; কাঁকরোল ৫৫ টাকা; পেঁপে ৪০-৫০ টাকা; কচুরমুখী ৬০ টাকা; আমড়া ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পালং শাক আঁটি প্রতি ২০ টাকা; লালশাক ২০ টাকা; পুঁইশাক ৩০ টাকা এবং লাউশাক ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মাছের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি কেজি রুই মাছ ২৮০-৪০০ টাকা, সরপুঁটি ৩৮০-৪৫০ টাকা, কাতলা ৩৫০-৪০০ টাকা, তেলাপিয়া ১৪০-১৮০ টাকা, সিলভার কার্প ২৫০-৩০০ টাকা, চাষের কৈ ৩০০-৩৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। পাঙ্গাশ প্রতি কেজি ১৫০-২৫০ টাকা, টেংরা ৬০০ টাকা, মাগুর ৬০০-৮০০ টাকা, প্রকার ভেদে চিংড়ি ৪০০-৮০০ টাকা, ৭০০ গ্রাম ওজনের প্রতিটি ইলিশ ৬০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে প্রতি কেজি ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১০০০ টাকা দরে।

 

 

 

 

 

 

 

 

সূত্র : মানবজমিন অনলাইন পত্রিকা