পারলো না টাইগাররা

36

সম্ভাবনা জাগিয়েও ম্যাচের প্রথমার্ধে বড় পুঁজি গড়তে ব্যর্থ হন ব্যাটসম্যানরা। পরে নখদন্তহীন নৈপুণ্য দেখান টাইগার বোলাররাও। স্বপ্নভঙ্গের যন্ত্রণা ফের সঙ্গী হলো বাংলাদেশের। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সেমিফাইনালে গতকাল ২৬৫ রানের টার্গেটে ৮৭ রানের জুটি গড়েন ভারতের দুই ওপেনার রোহিত শর্মা ও শিখর ধাওয়ান। আর দ্বিতীয় উইকেটে রোহিত শর্মা ও বিরাট কোহলি গড়েন শতরানের জুটি। ব্যক্তিগত ৪৬ রানে শিখর ধাওয়ান সাজঘরে ফিরলেও ক্রিজে ব্যাট হাতে অবিচল থাকেন ভারতের অপর ওপেনার রোহিত শর্মা। ১১১ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন রোহিত। অর্ধশতক পূর্ণ করেন বিরাট কোহলিও। ১৪.৪তম ওভারে বাংলাদেশের পেসার মাশরাফির ডেলিভারিতে পয়েন্টে মোসাদ্দেক হোসেনের হাতে ক্যাচ দেন শিখর ধাওয়ান। মারকুটে ইনিংসে ৩৪ বলে ৪৬ রান করেন এ ভারতীয় ওপেনার। এতে ধাওয়ান হাঁকান ৭টি চার ও একটি ছক্কা। আসরে সর্বাধিক রান সংগ্রহে বাংলাদেশের ওপেনার তামিম ইকবালকে ছাড়িয়ে যান তিনি। আসরে চার ইনিংসে ধাওয়ানের সংগ্রহ ৩১৭ রান। সমান ম্যাচে তামিম ইকবালের সংগ্রহ ২৯৩।
এজবাস্টনে মেঘ-বৃষ্টির কারণে গতকাল টস হয় একটু দেরিতে। টস জিতে বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ে পাঠান ভারত অধিনায়ক বিরাট কোহলি। গতকাল বার্মিংহামে মেঘলা আকাশের নিচে ব্যাট হাতে ইনিংসের শুরুতে ধৈর্য দেখানোর দরকার ছিল টাইগারদের। কিন্তু তেমনটি পারেননি টাইগাররা। প্রথম ওভারের শেষ বলে শট খেলতে গিয়ে প্লেডঅন হয়ে যান বাংলাদেশ ওপেনার সৌম্য সরকার। আর শট হাঁকাতে গিয়েই পয়েন্টে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন ওয়ানডাউন ব্যাটসম্যান সাব্বির রহমান। দু’জনকেই সাজঘরের পথ দেখান ভারতের সুইং বোলার ভুবনেশ্বর কুমার। ২১ বলে ১৯ রান করেন সাব্বির। এতে সাব্বির হাঁকান ৪টি চার। আর ‘ডাক’ মারেন ওপেনার সৌম্য সরকার। তবে শুরুর ধাক্কা সামলে টাইগারদের বড় পুঁজির আশা জাগে তামিম-মুশফিকের শতরানের জুটিতে। শেষ পর্যন্ত ২৬৪/৭ সংগ্রহ নিয়ে ইনিংস শেষ করে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের পুঁজিটা বড় হতে পারতো আরো। ব্যাট হাতে ব্যক্তিগত দুই অঙ্কের রানের কোঠায় পৌঁছেন বাংলাদেশের ৮ ব্যাটসম্যান। কিন্তু ওপেনার তামিম ইকবাল ও মিডলঅর্ডার ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহীম ছাড়া ইনিংস লম্বা করতে ব্যর্থ হন বাকিরা। তৃতীয় উইকেটে ১২৩ রানের জুটি গড়েন তামিম ইকবাল ও মুশফিকুর রহীম। এতে ২৭.৫ ওভার শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ পৌঁছে ১৫৪/২-এ। তবে পরে ব্যাট হাতে খেই হারান টাইগাররা। মাত্র ২৫ রানের ব্যবধানে উইকেট দিয়ে সাজঘরে ফেরেন তামিম ইকবাল, সাকিব আল হাসান ও মুশফিকুর রহীম। ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে ২০০৭ বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে ঐতিহাসিক জয়ে ব্যাট হাতে অর্ধশতক হাঁকান বাংলাদেশের এ তিন ব্যাটসম্যান। সেবার গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেয় ফেভারিট ভারত। গতকাল এজবাস্টনে ২৮তম ওভারের শেষ বলে দলীয় ১৫৪ রানে উইকেট দেন ওপেনার তামিম ইকবাল। তৃতীয় উইকেটে ১২৩ রানের জুটি গড়েন তামিম ও মুশফিক। ৩৪.২তম ওভারে ভারতীয় বাঁ-হাতি স্পিনার রবীন্দ্র জাদেজার ডেলিভারিতে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন সাকিব। আর ব্যক্তিগত ৬১ রানে বিরাট কোহলির হাতে ক্যাচ দেন মুশফিক। তামিম ও মুশফিকের উইকেট নেন ভারতের অকেশনাল স্পিনার কেদার যাদব। এতে ৩৫.২তম ওভার শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১৭৯/৫-এ।
আসরে ব্যাট হাতে নিজেদের সবচেয়ে সাবলীল সূচনায় গতকাল শুরুর ১০ ওভারে বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ৪৬ রান। গ্রুপ পর্বে তিন ম্যাচে ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশের শুরুর ১০ ওভারে স্কোর বোর্ডে জমা পড়ে যথাক্রমে ৩৬, ৩৭ ও ২৪ । গতকাল সাকিব আল হাসানের উইকেট তুলে নিয়ে গর্বের রেকর্ডে সাবেক পেসার জহির খানকে ছাড়িয়ে যান রবীন্দ্র জাদেজা। আইসিসির কুলীন ওয়ানডে আসর চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে রবীন্দ্র জাদেজার শিকার দাঁড়ায় ১৬ উইকেটে। এতদিন চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে ভারতের সর্বাধিক ১৫ উইকেটের রেকর্ড ছিল সাবেক পেসার জহির খানের।
এজবাস্টনে ২২৯ রানে ৭ উইকেটে হারানোর পর অষ্টম উইকেটে মাশরাফি ও তাসকিন অপরাজিত জুটিতে স্কোর বোর্ডে যোগ করেন ৩৬ রান। অধিনায়ক মাশরাফি ২৫ বলে ৩০ আর তাসকিন ১৪ বলে করেন ১০ রান। সাকিব ২৩ বলে ১৫, মাহমুদুল্লাহ ২৫ বলে ২১ আর মোসাদ্দেক ২৬ বলে ১৫ রান করেন। ভারতের বুমরাহ, ভুবনেশ্বর ও কেদার যাদব ২টি করে উইকেট নেন।

Advertisement
Print Friendly, PDF & Email
sadi