পায়ে শিকল আর তালা, বন্দিত্ব নিয়েই কাটছে ছোট্ট ঝন্টুর জীবন

45

দু’পায়েই শিকল জড়ানো, তারোপর তালা, এই নিয়েই বন্দি অবস্থায় দিন কাটছে ১২ বছর বয়সী শিশু ঝন্টুর। শেরপুরের নকলা উপজেলার টালকি ইউনিয়নের বিবির চর গ্রামের মৃত আব্দুস সামাদ মেম্বারের ছেলে শাকিল মিয়া ওরফে ঝন্টু। কিছুটা মানসিকভাবে অপ্রকৃতস্থ ঝন্টু। প্রায়ই বাড়ী থেকে এখানে ওখানে চলে যায় সে তাই হারিয়ে যাবার ভয়ে তাকে শিকলে আটকে রাখা হয়েছে। আর দরিদ্র মায়ের পক্ষে ঝন্টুর চিকিৎসা করানোও সম্ভব হচ্ছে না। যারফলে এমন হৃদয় বিদারক বন্দিত্ব নিয়েই কাটছে ছোট্ট ঝন্টুর জীবন।

জন্মের দু’বছর পরেই মারা যান ঝন্টুর বাবা আব্দুস সামাদ মেম্বার। মা জোসনা খাতুন অভাবের তাড়ণায় পরের বাড়ীতে কাজ করে ছেলে ও তার জীবন চালান। এ অবস্থায় ঝন্টুর চিকিৎসা করাও তার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। ফলে বাধ্য হয়েই ছেলেকে হারানোর ভয়ে শিকল দিয়ে রাখতে হচ্ছে এমনটিই জানালেন ঝন্টুর মা জোসানা বেগম।

জোসনা বেগম জানান, ছোট বেলা থেকেই মানসিক ভাবে কিছুটা অসুস্থ ঝন্টু। তার অভ্যাস হচ্ছে বিভিন্ন জায়গায় চলে যাওয়া। এলাকার ছেড়ে বেশ কয়েকবার সে শেরপুর, নালিতাবাড়ীতে চলে গিয়েছিল। একবার ঢাকার গাড়ীতেও চড়ে বসে ঝন্টু। লোকজন খুঁজে পেয়ে ফিরিয়ে দিয়ে যায়। ঝন্টু যাতে এভাবে বাইরে চলে যেতে না পারে তারজন্যেই বাধ্য হয়ে পায়ে শিকল পড়াতে হয়েছে।

৬ বছর বয়স থেকেই ঝন্টুর মানসিক সমস্যা ধরা পড়ে। তবে তার মানসিক সমস্যা তেমন প্রকট নয়। ঝন্টু মোটামুটি সব বলতে ও বুঝতে পারে। সুতরাং তার সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করা হলে সে সুস্থে হয়ে উঠবে বলেই মনে করেন প্রতিবেশীরা।

প্রতিবেশী হাফিজ জানান, ঝন্টুর মানসিক অসুস্থতার মূল বিষয় হচ্ছে যখন তখন এখানে সেখানে চলে যাওয়া। একবার তা শিকল খুলে দেয়া হয়েছিল। কিন্তু সে মুক্ত হয়েই অন্যত্র চলে যাবার চেষ্টা করে। পরে বাধ্য হয়েই তাকে আবার শিকলে আটকে রাখা হয়। এছাড়া আর তার তেমন কোন সমস্যা নেই।

এ ব্যাপারে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য খোরশেদ আলম জানান, ঝন্টুর নামে একটি প্রতিবন্ধী ভাতা’র কার্ড করে দেয়া হয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে মহিলা ও শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা আরমানা হক বলেন, শিশুদের বিষয়টি তাদের দপ্তরের নয়, তাই উক্ত শিশুর বিষয়ে তাদের কাছে কোন তথ্য নেই।

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আরিফুর রহমান বলেন, শিশুটির ব্যাপারে তাদের কাছেও কোন সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান বা সদস্যদের কেউই তাদের বিষয়টি অবহিত করেননি।

এদিকে ঝন্টুর নাম জোসনা বেগম জানান, তিনি তার স্বামীর ২য় পক্ষের স্ত্রী। তার এই একটি মাত্রই সন্তান। তার স্বামীর আগের পক্ষের আরো সন্তানসন্ততি রয়েছে। তাই স্বামীর বাড়ী থেকেও কোন প্রকার সাহায্য সহযোগিতা পাচ্ছেন না তিনি।

এমন অবস্থায় শিশু ঝন্টুর চিকিৎসা এবং তাদের জীবন ধারণের ব্যবস্থা করার জন্য সংশ্লিষ্ট সরকারী দপ্তর ও হৃদয়বান মানুষদের সাহায্য প্রত্যাশা করেছেন জোসনা বেগম।