‘প্রকৃত শিল্পী কেবল ভালো গান নিয়েই চিন্তা করবে, জনপ্রিয়তা নিয়ে নয়’

29

দেশীয় সংগীতের জীবন্ত কিংবদন্তি শিল্পী সৈয়দ আবদুল হাদী এরই মধ্যে সাড়ে চার যুগ পাড়ি দিয়েছেন এ জায়গাটিতে। প্রতিটি ক্ষেত্রেই সফল তিনি। বিশেষ করে করে চলচ্চিত্রের গানে তার তুলনা কেবল তিনিই। এ জায়গাটিতে ধারাবাহিকভাবে অসংখ্য জনপ্রিয় গান তিনি শ্রেতাদের উপহার দিয়েছেন। এতটা সময় পেরিয়ে গেলেও সৈয়দ আবদুল হাদী এখনও সরব রয়েছেন গানে। কাজের পরিধি কমিয়ে এনে কেবল মানসম্পন্ন গানগুলোই করছেন এখন তিনি। সব মিলিয়ে বর্তমান সময়টা কেমন কাটছে আপনার? উত্তরে সৈয়দ আবদুল হাদী বলেন, বেশ ভালো কাটছে। আসলে এই বয়সে ভালোভাবে বেঁচে থাকাটাইতো বড় বিষয়। পরিবার ও গান নিয়েই সময় কাটছে এখন। ব্যস্ততা কি নিয়ে? সৈয়দ আবদুল হাদী বলেন, ব্যস্ততা যা আছে তা গান নিয়েই। কারণ অন্য কিছুতো আমি করি না। তবে ইদানীং গান কম করছি। মনের মতো না হলে কোন কাজই করছি না। এর মধ্যে দেশ ও স্বাধীনতা নিয়ে কিছু নতুন গান করেছি। ভালো কথা-সুরের গান না হলে গাওয়ার রুচি হয় না। এ ধরনের গান খুব কম পাচ্ছি এখন। নতুন গানের বাইরে চ্যানেলের অনুষ্ঠানেও গাইছি। একটা সময় সিনেমার গান গেয়েছেন ধারাবাহিকভাবে। সফলতাও পেয়েছেন অনেক। এখন সিনেমায় কি গাইছেন? হাদী বলেন, আগের কথা ভিন্ন। এখন সময় বদলেছে। বয়সও হয়েছে। আগের মতো করে ভাবা যায় না। প্রস্তাব থাকে, কিন্তু আমি মেলাতে পারি না। সে কারণে কম গাইছি। নতুন কিছু গানের কথাবার্তা চলছে। পছন্দ হলে গাইবো। এদিকে পাঁচবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত সৈয়দ আবদুল হাদী আগের গানগুলো সংরক্ষণের ক্ষেত্রেও উদ্যোগ নিয়েছেন। গত বছর তার ষাট ও সত্তরের দশকের গান থেকে যেগুলো হারিয়ে যেতে বসেছিল সেগুলো নিয়ে একটি অ্যালবাম প্রকাশ করেছেন তিনি। বাংলা ঢোল থেকে প্রকাশিত এ গানগুলো নতুন সংগীতায়োজনে বেশ প্রশংসিত হয়েছে শ্রেতামহলে। এর বাইরে তার জীবনী নিয়ে একটি ডকুমেন্টারিও প্রকাশ হয়েছে। এদিকে চলতি সময়ের গান কেমন হচ্ছে এমন প্রশ্নের উত্তরে বরেণ্য এ শিল্পী বলেন, এখনতো প্রযুক্তির কারণে অনেক কিছু বদলে গেছে। আগে টিমওয়ার্কের মাধ্যমে গান তৈরি হতো। এখন সেটা নেই। টিমওয়ার্ক না থাকলে একটি ভালো মানের গান দাঁড় করানো কঠিন। আর এখনতো জোড়াতালি দিয়ে রেকর্ডিং করা হয়। এ কারণে গানের মূল আবেদনটা ঠিক থাকে না। আর আগে একটি গান রেকর্ডিংয়ের জন্য যে কতবার টেক নেয়া হতো তার হিসাব নেই। এসব বিষয়ে তরুণ প্রজন্মের নজর দেয়া উচিত। গান এখন খুব সহজ হয়ে গেছে। যে কেউই গান গাইছে। কোনো নিয়মিনীতি নেই। শিখে আসার ব্যাপার নেই। এখন তারকাখ্যাতির জন্য অনেকে গান গাইছে। গান স্থায়ীত্বের জন্য তৈরি হচ্ছে না, সাময়িক জনপ্রিয়তার জন্যই মূলত গান করা হচ্ছে। এখন ভালো কথা ও সুরের খুব অভাব। এই দিকটায় আগে নজর দিতে হবে। তারকাখ্যাতির চিন্তা বাদ দিতে হবে। কারণ প্রকৃত শিল্পী কেবল ভালো গান নিয়েই চিন্তা করবে, জনপ্রিয়তা নিয়ে নয়।