প্রধানমন্ত্রীর গণসংবর্ধনা আজ

31

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আজ গণসংবর্ধনা দেবে আওয়ামী লীগসহ বিশিষ্ট নাগরিকরা। সকাল ৯টা ২০ মিনিটে তিনি
ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছাবেন। জাতিসংঘে রোহিঙ্গা ইস্যুতে সরকারের জোরালো অবস্থান তুলে ধরায় এবং আন্তর্জাতিক মহলে প্রধানমন্ত্রীর অবস্থান প্রশংসিত হওয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে এ সংবর্ধনা দেয়া হচ্ছে। বিমানবন্দর থেকে গণভবন পর্যন্ত সড়কের দুপাশে দাঁড়িয়ে ফুলেল শুভেচ্ছা জানাবে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনসহ ১৪ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা। এরই মধ্যে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো সাজানো হয়েছে ব্যানার, ফেস্টুন ও বিলবোর্ডে। এদিকে গতকাল সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেয়া গণসংবর্ধনার প্রস্তুতি হিসেবে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পরিদর্শন করেন আওয়ামী লীগের নেতারা। দলের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের জানিয়েছেন, সংবর্ধনাকে সার্বিকভাবে সফল করতে হবে। এজন্য দলের ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ ইউনিট এবং সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের জনগণের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান তিনি। শেখ হাসিনা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে ১৭ই সেপ্টেম্বর নিউ ইয়র্কে যান। ২২শে সেপ্টেম্বর নিউ ইয়র্ক থেকে ওয়াশিংটনে যান। এখানে এক সপ্তাহ অবস্থানের পর ২রা অক্টোবর লন্ডন হয়ে তার দেশে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু ২৫শে সেপ্টেম্বর ওয়াশিংটনে প্রধানমন্ত্রীর গলব্লাডারে অস্ত্রোপচারের কারণে বিলম্ব হয়। দলের নেতারা জানান, শেখ হাসিনাকে সংবর্ধনা জানাতে দলীয়ভাবে ইতিমধ্যে বিভিন্ন প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা সহযোগী সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে যৌথসভা করেছেন সংবর্ধনা অনুষ্ঠান সফলে প্রস্তুতি গ্রহণ করতে। তারা জানান, ইতিমধ্যে ছয় হাজার ফেস্টুন শহরের বিভিন্ন মূল সড়কের মাঝখানে থাকা ল্যাম্পপোস্টে টাঙিয়ে দেয়া হয়েছে। এসব ফেস্টুনের কিছু শেখ হাসিনার ছবি সম্বলিত, কোনোগুলোতে লেখা ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন’। আবার বেশকিছুতে লেখা রয়েছে ‘যুদ্ধ নয়, আমরা শান্তির পক্ষে’- শেখ হাসিনা। রয়েছে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা আশ্রয় কেন্দ্রে গিয়ে তাদের জড়িয়ে ধরে তোলা প্রধানমন্ত্রীর নানা আলোকচিত্রও। ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে শুরু করে শহরের সবখানে এসব ফেস্টুন শোভা পাচ্ছে গত তিন দিন ধরে। মূল সড়কের মাঝখানে সিটি করপোরেশনের ল্যাম্প পোস্টে এসব ফেস্টুন টাঙানো হয়েছে। আওয়ামী লীগের সৌজন্যে এসব ফেস্টুন লাগানো হয়েছে। এদিকে গতকাল শাহজালাল বিমানবন্দর পরিদর্শন শেষে মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেয়া গণসংবর্ধনা কোনো রাজনৈতিক শোডাউন নয়। রোহিঙ্গা সমস্যা সফলভাবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরা এবং দেশের সার্বিক উন্নয়নের রূপকার হিসেবেই এ সংবর্ধনা দেয়া হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, এ গণসংবর্ধনা আওয়ামী লীগ সভাপতির প্রতি মানুষের আস্থা ও ভালোবাসার প্রতীক। আশি শতাংশেরও বেশি মানুষের আস্থা এখন প্রধানমন্ত্রীর প্রতি। তাই যেকোনো নির্বাচনেই বিজয়ী হওয়ার ক্ষমতা রাখে আওয়ামী লীগ। বিএনপির মতো ষড়যন্ত্রকারীদের পক্ষে জনগণ থাকবে না। আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, যানজট রোধে দলীয় নেতাকর্মীদের সকাল সাড়ে ৮টার মধ্যে ফুটপাতে অবস্থান নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দীপু মণি, সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, একেএম এনামুল হক শামীম, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, উপপ্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, কার্যনির্বাহী সদস্য এসএম কামাল হোসেন, প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব সাইফুজ্জামান শিখর প্রমুখ।