প্রস্তুতি এবার মাঠের লড়াইয়ের

37

শেষ আসরে চ্যাম্পিয়ন সাকিব আল হাসানের ঢাকা ডায়নামাইটস। এবারও সাকিবকে ধরে রেখেছে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগের (বিপিএল) শক্তিশালী দলটি। সঙ্গে আগের আসরে দলে থাকা প্রতিভাবান আরো তিন দেশি ক্রিকেটারকেও তারা রেখেছে আগে থেকেই। প্লেয়ার ড্রাফটের আগেই ঢাকা তাদের শক্তি বাড়িয়ে নেয় ১২ জন বিদেশি ক্রিকেটার দলে রেজিস্ট্রেশন করিয়ে। এর মধ্যে কুমার সাঙ্গাকারা, শহীদ আফ্রিদির নাম অন্যতম। তাই বিপিএলের নিলামে খুব বেশি দেশি-বিদেশি ক্রিকেটারদের প্রতি তারা জোর দেয়নি। শেষ মুহূর্তে আরো ৭ জন স্থানীয় ও ২ জন বিদেশি দলে নিয়েই জানিয়েছেন আরো একবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার মতো দল তারা গড়েছেন। দলটির কোচ খালেদ মাহমুদ সুজনের আত্মবিশ্বাসী ও আশাবাদী উচ্চারণ, ‘আমরা আবারো চ্যাম্পিয়ন হতে চাই। যখন আপনি শিরোপা জেতার চিন্তায় দল সাজাবেন, তখন কিছু বাড়তি অপশন হাতে রাখতেই হবে। যেকোনো কারণে হঠাৎ একজন বা দু’জন ভালো পারফরমার মিস হয়ে যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে তো সেকেন্ড অপশন রাখা খুব জরুরি। আমরা যদি কোনো কারণে কাউকে মিস করি, তাহলে যাতে ব্যাকআপ পারফরমার থাকে সেজন্যই এতগুলো বিদেশি নিয়েছি।’
অন্যদিকে ঢাকার প্রধান নির্বাহী ওবায়েদ নিজাম জানালেন তরুণদের নিয়ে তার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার লড়াই। তিনি বলেন, আমরা চেষ্টা করেছি একঝাঁক ভালো পারফরমারকে দলে নিতে। আমরা গতবার লোকাল প্লেয়ারদের কম পেয়েছি। তারপরও আমরা খুব ভালো প্লেয়ার পেয়েছি। যাদের টার্গেট করেছিলাম তাদের নিতে পেরেছি। সব মিলে যে লাইনআপ হয়েছে তা নিয়ে আমরা আশাবাদী।’
মাঠেই দেখাতে চায় রংপুর রাইডার্স

বিপিএলের তিন আসরের চ্যাম্পিয়ন অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা এবার রংপুর রাইডার্সে। দেশসেরা এই অধিনায়ককে পেয়েই নয়, বিপিএলে প্রথম ফ্র্যাঞ্চাইজি হওয়া বসুন্ধরা গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সাফওয়ান সোবহান গোটা দলকেই কাগজে কলমে অন্যতম শক্তিশালী হিসেবে দাঁড় করাতে পেরে সন্তুষ্ট। তিনি বলেন, ‘আমরা যেমনটা চেয়েছিলাম তার ৯০ ভাগ পেয়েছি। টিম ভালো হয়েছে। যাদের টার্গেট করেছিলাম তাদের বেশিরভাগকে পেয়েছি। আমরা হ্যাপি। দল সাজানোর কাজে আমাদের প্রত্যাশা ৯০ ভাগ পূরণ হয়েছে। যে দল দাঁড়িয়েছে, তা নিয়ে ৯০ ভাগ কনফিডেন্ট যে আমরা ভালো ফাইট দিতে পারবো। চ্যাম্পিয়ন হবো কি না! তা এখনই বলতে পারছি না। তবে তা মাঠের লড়াই শুরু হলে বোঝা যাবে।’
মোস্তাফিজকে পেয়ে দারুণ খুশি রাজশাহী কিংস

বিপিএলের চতুর্থ ও নিজেদের প্রথম আসরে ক্যারিবীয় তারকা ড্যারেন স্যামির নেতৃত্বে ফাইনালে খেলে রাজশাহী কিংস। দলে সাব্বির রহমান রুম্মান ও মেহেদী হাসান মিরাজও দারুণ করেছিলেন। এবার অবশ্য তারা সাব্বিরের পরিবর্তে আইকন হিসেবে পেয়েছেন দেশের সফল অধিনায়ক মুশফিকুর রহীমকে। মিরাজ এবারও আছেন। সেই সঙ্গে শনিবার ড্রাফটে তারা পেয়েছেন দেশের সেরা তরুণ পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে। দলটির পরিচালক মোহাম্মদ সাঈদ বলেন, ‘লটারিতে আমরা চার বার পর পর প্রথম হয়েছি। সেই সুযোগে আমরা দলে নিতে পেরেছি মোস্তাফিজুর রহমানকে। সব মিলিয়ে আমাদের দলটি অত্যন্ত শক্তিশালী। শেষ আসরে আমরা রানার্সআপ হয়েছি। এবার আমরা চ্যাম্পিয়ন হতে চাই।’
শিরোপা উদ্ধারের মিশন কুমিল্লার

প্রথম আসরে অধিনায়ক মাশরাফির নেতৃত্বে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। কিন্তু দ্বিতীয় আসরে দেশসেরা এই অধিনায়ক দেখেছেন মুদ্রার উল্টো পিঠও। এ নিয়ে অধিনায়কের সঙ্গে ম্যাচের সময় ঘটেছে মান-অভিমানের ঘটনাও। তাই এবার তারা মাশরাফিকে রাখতেই চায়নি দলে। তবে দেশসেরা ওপেনার ও টেস্টের সহ-অধিনায়ক তামিম ইকবালকে দলে নিয়ে তারা এবার শিরোপা উদ্ধারে বেশ আত্মবিশ্বাসী। তাইতো প্লেয়ার্স ড্রাফট শেষে দলটির অন্যতম স্বত্বাধিকারী নাফিসা কামালের মুখে সন্তুষ্টির হাসি। মুখে আত্মবিশ্বাসী সংলাপ। তিনি বলেন, ‘ওভার অল আমরা নিজ দল নিয়ে কনফিডেন্ট। আমাদের যে প্ল্যানিং ছিল, সেটা পূর্ণ হয়েছে। যাদের টার্গেট করা হয়েছে, তাদের বেশিরভাগকেই নিতে পেরেছি। সে আলোকে বলবো আমরা লাকি। কোচ ও ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে কথা বলেছি, সবাই সন্তুষ্ট। সামনে আগাতে হলে কিছু পরিবর্তন-পরিবর্ধন করতেই হয়। নতুন করে চেঞ্জ তো দরকার। আমরা তাই করেছি। একটা মানুষকে বড় না করে আমরা দলকে বড় করে দেখেছি। দল গঠনের ক্ষেত্রে আমরা যারা বর্তমানে ভালো খেলছে ও ফর্মে আছে তাদেরই অগ্রাধিকার দিয়েছি।’
কোচ মাহেলার হাতে খুলনা টাইটান্স

বিপিএলের শেষ আসরেও শ্রীলঙ্কার তারকা ক্রিকেটার মাহেলা জয়াবর্ধনে খেলেন ঢাকা ডায়নামাইটসে। কিন্তু এবার তার ভূমিকা অন্যরকম। খুলনা টাইটান্সের কোচ হয়ে তিনি শুরু করেছেন নতুন মিশন। শনিবার প্লেয়ার ড্রাফটে নিজেই বসে থেকে দল গঠন প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করেছেন। খুলনাকে নিয়ে নিজের নয়া মিশনে মাহেলা বলেন, ‘আমি এক বছর আগেই বিপিএলে ক্রিকেটার হিসেবে খেলেছি। এবার কোচ। আমি এই নিলামে ছিলাম কারণ কোচ হিসেবে আমার দল কেমন হবে সেটি জানা ও পরিকল্পনা করা ছিল প্রধান বিষয়। প্রতিটি দলই চায় চ্যাম্পিয়ন হতে। আমরাও চাই।’ অন্যদিকে দলটির অন্যতম কর্ণধার কাজী নাবিল এমপি বলেন, ‘শেষ আসরে সেমিফাইনাল খেলেছি। এবার চাই ফাইনাল খেলতে।’
তারুণ্যে আস্থা চিটাগাং ভাইকিংসের

চিটাগাং ভাইকিংস নতুন নাম ও নতুন মালিকানাতে খেলে বিপিএলের গত দুটি আসরে। দলটির পরিচালনা করছিল দুলাল ব্রাদার্স (ডিবিএল)। তারা দলে পাচ্ছে না চট্টগ্রামের সন্তান ও তাদের দুইবারের আইকন ক্রিকেটার তামিম ইকবালকে। তবে জাতীয় দলে ওপেনিংয়ে তামিমের সঙ্গী সৌম্য সরকারকে পেয়েছেন তারা। সেই সঙ্গে দেশের সেরা তরুণ পেসার তাসকিনও আছেন। দেশি বিদেশি সব মিলিয়ে তারুণ্য নির্ভর দল গড়তে পেরে ভীষণ খুশি দলটির কর্নধার আবদুল ওয়াহেদ। তিনি বলেন, ‘তামিম এবার থাকতে চায়নি। আমরাও তাকে জোর করে রাখিনি। কারণ জোর করে কাউকে রেখে তার কাছ থেকে ভালো কিছু পাওয়া যায় না। তবে আমরা সৌম্য ও তাসকিনের মতো তরুণ ক্রিকেটার দলে পেয়েছি। ইন্‌শাআল্লাহ আমাদের দলটি তারুণ্য নির্ভর হয়েছে। আশা করি এ দল নিয়ে ভালো কিছু উপহার দিব।’
নাসির-সাব্বির স্বপ্ন দেখাচ্ছেন নয়া সিলেটকে

তৃতীয় বারের মতো নাম ও মালিকানা বদলে বিপিএলে এসেছে সিলেট। তাদের নয়া নাম সিলেট সিক্সার্স। দলটির আগাগোড়া দেখভাল করছেন জাতীয় দলের সাবেক প্রধান নির্বাচক ফারুক আহমেদ। শুরুতেই তারা দলে পেয়েছেন দেশের টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে সেরা দুই তরুণ তারকা সাব্বির রহমান রুম্মান ও নাসির হোসেনকে। সব মিলিয়েও দলটিও দারুণ তারুণ্য নির্ভর।
এবার বিপিএল শুরু হচ্ছে সিলেট থেকে। যে কারণে দলের জন্য এটি বাড়তি অনুপ্রেরণা হবে বলেই বিশ্বাস করেন ফারুক আহমেদ। তিনি বলেন, ‘নাসির ও সাব্বির শুধু ভালো ব্যাটসম্যানই নয়, তারা ভালো বল করে এবং তারা দু’জনই দেশসেরা ফিল্ডার। এ ধরনের অলরাউন্ডারই টি-টোয়েন্টিতে দারুণ কার্যকর। এছাড়া আমরা দল গঠনের সময় তারুণদের প্রতিই বেশি জোর দিয়েছি, যা আমাদের দলের বড় শক্তি হবে বলে মনে করি।