প্রাণহীন ম্যাচে ভারতের জয়

23

ভারত-পাকিস্তানের কোনো কিছু ছিলো না এ ম্যাচে। দর্শক উপস্থিতিতিও ছিল না পর্যাপ্ত। দুই দলের খেলা ছিল না প্রাণ। প্রাণহীন এক ম্যাচে পাকিস্তানকে ৩-১ গোলে হারিয়ে ‘এ’ গ্রুপ সেরা হয়েই সুপার ফোরে জায়গা করে নিলো ভারত। জাপানের সঙ্গে সমান পয়েন্ট হওয়া সত্ত্বেও গোল গড়ে এগিয়ে থেকে তাদের সঙ্গী পাকিস্তান। তিন ম্যাচে পাকিস্তান ১০ গোল দেয়ার বিপরীতে হজম করেছে পাঁচ গোল। সেখানে ছয় গোলের বদলে জাপানের জালে বল প্রবেশ করেছে আট গোল।
নিজেদের প্রথম দুই ম্যাচেই জিতেছে ভারত। জাপান আর বাংলাদেশকে উড়িয়ে প্রায় নিশ্চিত করে ফেলেছিল সুপার ফোর। প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের বিপক্ষে বড় জয় পেলেও জাপানের সঙ্গে পয়েন্ট ভাগাভাগি করে কিছুটা বিপাকে ছিল পাকিস্তান। বাংলাদেশের বিপক্ষে জাপানের জয়টা বড় (৩-১) না হওয়াতে স্তস্তির নিঃশ্বাস ফেলে এশিয়া কাপে শুরুর তিন আসরের চ্যাম্পিয়নরা। দুই ম্যাচে জাপানের সমান চার পয়েন্ট করে হলেও গোল ব্যবধানে এগিয়ে ছিল তারা। এই সুবিধার পাশাপাশি ভারতের সঙ্গে মুখোমুখি লড়াইয়ে এগিয়ে থেকেই এদিন ভারতের বিপক্ষে মাঠে নামে পাকিস্তান। ১৬৯ ম্যাচের মধ্যে পাকিস্তান জিতেছে ৮২টিতে, ভারত ৫৭টি। ড্র হয়েছে ৩০ ম্যাচ। এশিয়া কাপের সাত ম্যাচের ছয়টিতেই জিতেছে পাকিস্তান। একবার ভারত। তবে সামপ্রতিক সময়ে পাকিস্তানের চেয়ে অনেক এগিয়ে আছে ভারত। জুনে লন্ডনে বিশ্ব হকি লীগের দুটি ম্যাচেই পাকিস্তানকে হারিয়েছে তারা। গতকাল মওলানা ভাসানি স্টেডিয়ামে মনে হচ্ছিল সেখান থেকে শুরু করে ভারত। শুরু থেকেই অধিপত্য ছিল ভারতের। তৃতীয় কোয়ার্টার পর্যন্ত তা অব্যাহত ছিল। প্রথম কোয়ার্টার গোলশূণ্যভাবে শেষ হওয়ার পর দ্বিতীয় কোয়ার্টারে চিংলেনসানা কানগুজামের গোলে লিড পায় ভারত। দ্রুত গতির পাল্টা আক্রমণে আকাশদ্বীপ সিংয়ের পুশ ধরে স্ট্রাইকিং সার্কেলের ওপর থেকে জোড়ালে হিটে লক্ষ্যভেদ করেন মনিপুর থেকে উঠে আসা ২৫ বছর বয়সী এ খেলোয়াড় (১-০)। তৃতীয় কোয়ার্টারে এক মিনিটের ব্যবধানে দুই গোল করে ম্যাচটা একপেশে করে নেয় ভারত। ৪৪ মিনিটে রামানদ্বীপ সিংয়ের ফিল্ড গোলে ২-০ করেন। পরের মিনিটে পেনাল্টি কর্নার থেকে স্কোরলাইন ৩-০ করেন হারমানপ্রীত সিং। ৪৯ মিনিটে আলী শানের ফিল্ড গোলে ব্যবধান কমায় পাকিস্তান (৩-১)। ম্যাচের বাকি অংশে অধিপত্য ছিল পাকিস্তানের। এ সময় ভারত পুরোপুরি রক্ষণাত্নক খেলে। সুযোগ বুঝে পাল্টা আক্রমণে যায় দেশটি। শেষদিকে একাধিক সুযোগ সৃষ্টি করলেও তা কাজে লাগাতে পারেনি পাকিস্তান। প্রথম তিন কোয়ার্টারেও সুযোগ এসেছিল দেশটির সামনে। কিন্তু ফিনিশারের অভাবে তা কাজে লাগানো যায়নি।
তিন ম্যাচের সবগুলো জয়ী ভারত ৯ পয়েন্ট নিয়ে ‘এ’ গ্রুপের শীর্ষ দল হিসেবে সুপার ফোরে গেল। পাকিস্তান ও জাপান- দুই দেশের সংগ্রহ সমান, ৪ পয়েন্ট করে। গোল গড়ে জাপানকে স্থান নির্ধারণী প্লে-অফ লড়াইয়ে ঠেলে দিয়ে সুপার ফোরে গেছে পাকিস্তান। আজ ‘বি’ গ্রুপের লাইনাপ চূড়ান্ত হবে। এদিন মালয়েশিয়ার প্রতিপক্ষ ওমান। আরেক ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়া খেলবে চায়নার বিপক্ষে।