ফের বৃটেনের ভ্রমণ সতর্কতা বাংলাদেশের রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে যোগ হয়েছে রোহিঙ্গা সঙ্কট

36

বাংলাদেশে একে তো দীর্ঘদিন ধরে সরকার ও বিরোধীদের মধ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনা বিদ্যমান, তার সঙ্গে যোগ হয়েছে রোহিঙ্গা শরণার্থী সঙ্কট। এর ফলে গুলশান, বারিধারার মতো এলাকা সহ ঢাকায় বিক্ষোভ, প্রতিবাদ হতে পারে। এ কথা জানিয়ে বাংলাদেশে ফের ভ্রমণ সতর্কতা দিয়েছে বৃটেন। এতে পূর্বের মতোই বাংলাদেশে সন্ত্রাসী হামলার ঝুঁকির দিকে দৃষ্টি দেয়া হয়েছে। বিমানবন্দরের নিরাপত্তার মান আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নয় বলে মন্তব্য করা হয়েছে। বৃটিশ সরকারের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এ সতর্কতায় বলা হয়েছে, আগস্ট থেকে মিয়ানমারে সহিংসতা চলছে। এর প্রেক্ষিতে সেখান থেকে সীমান্তের কাছে অবস্থিত বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে কয়েক লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী। তারা আশ্রয় দিয়েছে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বে (কক্সবাজারে)। ওই এলাকা সফরে যাওয়ার আগে তাই স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে পরামর্শ করে এবং পূর্ব সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানানো হয়েছে। গুলশান, বারিধারা সহ কোনো স্থানে বিক্ষোভ সমাবেশ হচ্ছে বা বিক্ষোভের আয়োজন চলছে এমন লক্ষণ দেখলে সেইসব এলাকা থেকে নিরাপদে সরে যেতে বলা হয়েছে বৃটিশ নাগরিকদের। বলা হয়েছে, যে স্থানটি আপনার কাছে নিরাপদ মনে হবে না সেখান থেকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যেতে হবে। এ ছাড়া ওই সতর্কতায় আরো বলা হয়েছে, বাংলাদেশে আরো হামলা চালানোর চেষ্টা করতে পারে সন্ত্রাসীরা। এমন ঝুঁকি সারাদেশেই রয়েছে। এ বছর মার্চ থেকে সন্ত্রাসীরা নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলায় মনোযোগ দিয়েছে। তবে বিদেশী নাগরিকরা সরাসরি টার্গেট হওয়ারও ঝুঁকি রয়েছে। এতে বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকটি সন্ত্রাসী হামলা পরিকল্পনা সফলতার সঙ্গে ভন্ডুল করে দিতে পেরেছে কর্তৃপক্ষ। বাংলাদেশ রয়েছে উচ্চ সতর্কতায়। সংক্ষিপ্ত সময়ের নোটিশে যেকোনো স্থানে মোতায়েন করা হতে পারে নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনীকে। চলাচল সীমিত করা হতে পারে। বিদেশী নাগরিকরা যেসব স্থানে সমবেত হন বা ঘন ঘন যাতায়াত করেন সেসব স্থান উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। এমন স্থানে নিজেদের উপস্থিতি সর্বনি¤œ পর্যায়ে নামিয়ে আনতে আহ্বান জানানো হয়েছে বৃটিশ নাগরিকদের প্রতি। এতে আরো বলা হয, ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে বাংলাদেশে বেশ কিছু হামলার দায়িত্ব স্বীকার করেছে দায়েশ (আইএস)। এখানে আল কায়েদা ইন দ্য ইন্ডিয়ান সাব কন্টিনেন্ট (একিউআইএস)-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গ্রুপগুলো সক্রিয় রয়েছে। এ ছাড়া ঢাকায় আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তার মান এখনও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের নয় বলে এতে উল্লেখ করা হয়েছে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশকে সহযোগিতা করছে বৃটেন। এ ছাড়া বাংলাদেশে জিকা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছে বৃটেনের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

সূত্র : মানবজমিন অনলাইন পত্রিকা