বগুড়ায় কিশোরী ধর্ষণ গ্রেপ্তার ৪জনের ৭ দিনের রিমান্ড চেয়েছে পুলিশ

25

বগুড়ায় এক কিশোরীকে ধর্ষণের ঘটনায় শহর শ্রমিকলীগের সভাপতিসহ গ্রেফতারকৃত ৪ জনের ৭দিনের রিমান্ড চেয়েছে পুলিশ। রোববার আসামীদের আদালতে হাজির করে রিমান্ড আবেদন করা হয়। জানা যায়, বগুড়া শহরের বাদুড়তলা এলাকায় বসবাসকারী এক চা বিক্রেতার কিশোরী কন্যা শহরের জুবলী ইন্সটিটিউিশন থেকে এবার এসএসসি পাশ করে। ওই কিশোরী কোথাও ভর্তি হতে না পারায় প্রতিবেশী আলী আজম দিপু তাকে শ্রমিকলীগ নেতা তুফান সরকারের মাধ্যমে সরকারি কলেজে ভর্তি করে দেয়ার প্রস্তাব দেয়। দিপু ওই কিশোরীকে মোবাইল ফোনে তুফান সরকারের সঙ্গে কথা বলিয়ে দেয়। এরপর তুফান সরকার দিপুর মাধ্যমে ওই কিশোরীকে চার হাজার টাকা দিয়ে একটি কলেজে ভর্তির জন্য পাঠায়। কিন্তু ওই কিশোরী ভর্তি হতে না পারার বিষয়টি দিপুর মাধ্যমে তুফান সরকারকে জানায়। গত ১৭ই জুলাই তুফান সরকারের স্ত্রী- সন্তান বাসায় না থাকার সুযোগে ওই কিশোরীকে বাসায় ডেকে নেয়। এরপর দিনভর তাকে আটকে রেখে তুফান সরকার কয়েক দফা ধর্ষণ করে। এতে ওই কিশোরী অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলে অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে তাকে চিকিৎসা দিয়ে বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়া হয়। পাশাপাশি বিষয়টি কাউকে না বলার জন্য ভয়ভীতি দেখানো হয়। কিন্তু ধর্ষণের ঘটনাটি ওই কিশোরীর মা জানতে পারে এবং বিভিন্ন মাধ্যম দিয়ে তুফান সরকারের স্ত্রীর কানে যায়। পরে পৌরসভার সংরক্ষিত আসনের নারী কাউন্সিলর মারজিয়া হাসান রুমকির অফিসে কিশোরী ও তার মাকে এনে মারধর করে। একপর্যায় মা-মেয়ের মাথার চুল কেটে দেয়। রাত ১১ টার দিকে সদর থানা পুলিশ বিষয়টি জানতে পেরে হাসপাতালে গিয়ে মা ও মেয়ের বক্তব্য শুনে রাতেই অভিযান শুরু করে। রাত সাড়ে ১১ টার দিকে তুফান সরকারকে তার বাড়ি থেকে গেপ্তার করে পুলিশ। এরপর তার আরও তিন সহযোগিকে গেপ্তার করে। শনিবার এঘটনায় ধর্ষিতার মা মুন্নী বেগম বাদী হয়ে তুফান সরকারসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেন। ওই মামলায় গ্রেফতারকৃত চারজনকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। বগুড়া সদর ওসি এমদাদ হোসেন বলেন, ঘটনার বিস্তারিত তথ্য উদঘাটন করার জন্য গ্রেপ্তারকৃত ৪ আসামীর ৭দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়েছে। পৌর কাউন্সিলর রুমকীসহ তালিকা ভূক্ত আসামীদের গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত আছে।