বঙ্গোপসাগরে নৌকাডুবিতে ২৩ রোহিঙ্গা নিহত, নিখোঁজ অন্তত ৪০

23

রাখাইন সহিংসতায় প্রাণ বাঁচাতে পলায়নপর রোহিঙ্গা শরণার্থীদের বহনকারী একটি নৌকা শুক্রবার ভোররাতে বঙ্গোপসাগরে ডুবে গেছে। এতে কমপক্ষে ২৩ জন নিহত হয়েছেন। নিখোঁজ রয়েছেন ৪০ জনেরও বেশি। জাতিসংঘ জানিয়েছে, মৃতের সংখ্যা ৬০ অতিক্রম করতে পারে। বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে ঝুঁকি নিয়ে উত্তাল সাগর পাড়ি দিতে গিয়ে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনার শিকার হন তারা। প্রাণ নিয়ে কূলে ফিরতে পেরেছেন ১৭ রোহিঙ্গা। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) কর্মকর্তা জো মিলম্যান জেনেভায় এক সংবাদ সম্মেলনে এ খবর নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, এখনো ৪০ জন নিখোঁজ রয়েছে। তাই ধারণা করা হচ্ছে মোট নিহতের সংখ্যা হবে ৬৩। বেঁচে ফিরে আসা আব্দুল কালাম জানান, নৌকাডুবির ঘটনায় তার স্ত্রী, দুই কন্যা ও এক নাতি মারা গেছে। তিনি বলেন, এক সপ্তাহ আগে মিয়ানমার সেনাবাহিনী তাদের গ্রামে আসে এবং তাদের গৃহপালিত পশু ও খাবার দাবার সঙ্গে করে নিয়ে যায়। পরে তাদেরকে সেনাবাহিনীর কার্যালয়ে ডেকে বলা হয়, মিয়ানমারে রোহিঙ্গা বলে কেউ নেই। এর পর তিনি রাখাইন ছেড়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন ও পরিবারকে সঙ্গে নিয়ে পালিয়ে সাগর তীরে উপস্থিত হন। ২৫শে আগস্ট মিয়ানমারে সেনা অভিযান শুরু হওয়ার পরে ৫ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা মুসলিম বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে। এরা তাদেরই অংশ। বাংলাদেশ বর্ডার গার্ডের প্রধান কর্নেল আনিসুল হক রয়টার্সকে বলেছেন, মনে করা হচ্ছিল শরণার্থী আসা বন্ধ হয়ে যাবে। কিন্তু গত দুইদিন আরো শরণার্থী এসেছে। বৃহস্পতিবার প্রায় ১০০০ রোহিঙ্গা বাংলাদেশ উপকূলে পৌঁছেছে। সাহায্যকারী সংস্থাগুলো জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত মোট ৫ লাখ ২ হাজার শরণার্থী বাংলাদেশে পৌঁছেছে।
এদিকে, রাখাইন সহিংসতার ঘটনায় মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপ ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন দূত নিকি হ্যালি রাখাইন সহিংসতার কারণে মিয়ানমার সেনাবাহিনীকে অস্ত্র সরবরাহ স্থগিত করার জন্য অন্য দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। এই প্রথম যুক্তরাষ্ট্র মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক কোনো ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানালো। তবে এ সময় নিকি হ্যালি দেশটির প্রতি ওবামা প্রশাসনের সময় বাতিলকৃত নিষেধাজ্ঞা পুনরায় কার্যকর করার ব্যাপারে কিছু বলেননি। এছাড়া জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তনিও গুতেরাঁ নিরাপত্তা পরিষদের সভায় বলেছেন, রাখাইন সহিংসতা বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত বেড়ে ওঠা শরণার্থী সংকটে পরিণত হয়েছে। জাতি নিধন ও মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ বরাবরই প্রত্যাখ্যান করে আসছে বৌদ্ধ প্রধান দেশ মিয়ানমার। রাখাইনে মানবাধিকারের অবমাননা হচ্ছে সেটিও মানতে নারাজ তারা। নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর রোহিঙ্গাদের সংঘবদ্ধ হামলার প্রতিক্রিয়ায় মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ২৫শে আগস্ট রাখাইনের উত্তরাঞ্চলে অভিযান শুরু করে।

 

 

 

 

সূত্র : মানবজমিন অনলাইন পত্রিকা