‘বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৫ লাখ ৮৬ হাজার মানুষ’

38

চলতি বন্যায় ইতিমধ্যে ২০ টি জেলার ৫ লাখ ৮৬ হাজার ৩৯০ জন মানুষ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে হয়েছে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বির বিক্রম। আজ সোমবার রাজধানীর মহাখালীতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরে চলমান বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান। মন্ত্রী বলেন, উজানের পানি নেমে দেশের মধ্য ও নিম্নাঞ্চলের আরও ৯ টি জেলাসহ ঢাকার নিম্বাঞ্চল প্লাবিত হতে পারে। সেভাবে আমরা বন্যা মোকাবিলার প্রস্তুতি নিয়েছি। বন্যা আক্রান্ত অঞ্চলের মানুষের যেন কষ্ট কম হয় সেজন্য আজ ১৪ আগস্ট পর্যন্ত বন্যা প্লাবিত ও বন্যা হতে পারে এমন ৩৩ টি জেলার জন্য ১০ হাজার ৬৩০ মেট্রিক টন চাল ও ৩ কোটি ১০ লাখ টাকা বরা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। আরও প্রচুর পরিমানে খাদ্য আমদানি ও টাকা বরাদ্দ দেয়া হবে। তিনি বলেন, বিভিন্ন স্থানে সাপের কামড়, পানিতে ডুবেসহ নানা কারণে ২০ জন মারা গেছে। পানি আসা কেবল শুরু হয়েছে। পানি চলে না যাওয়া পর্যন্ত আমরা সহায়তা দেবো। পানি নেমে যেতে এক মাস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
মন্ত্রী আরও বলেন, সিলেট, সুনামগঞ্জ, রংপুর, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, লালমনিরহাট, নীলফামারী, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, নেত্রকোনা, খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটিসহ ২০ জেলার ৩৫৬টি উপজেলার ৩৫৮টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। এসব উপজেলায় ইতোমধ্যে ৯৭৩টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৩ লাখ ৬৮ হাজার ৫৮৬ জন লোক আশ্রয় নিয়েছেন। আক্রান্ত অঞ্চল ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ক্রমশ হ্রাস-বৃদ্ধি হতে পারে। সর্বশেষ খবর অনুযায়ী ৯০টি পয়েন্টের মধ্যে ২৭টি পয়েন্টে নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। মন্ত্রী বলেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর, ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি (সিপিপি) এবং মাঠ পর্যায়ের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। ফায়ার সার্ভিস ও সেনাবাহিনীও আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধার কাজে অংশ নিয়েছেন।
বন্যা মোকাবেলায় আমরা ঘরে বসে নেই। জেলা প্রশাসকদের বলেছি তাদের চাহিদামত প্রয়োজনীয় খাদ্যশস্য ও আর্থিক বরাদ্দ দেয়া হবে। একটি লোকও যাতে খাবারের কারণে কষ্ট না পায়।
সংবাদ সম্মেলনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব গোলাম মোস্তফা ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক রিয়াজ আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।