বন্যায় বাড়ছে দুর্ভোগ, উত্তরে অবনতি

24

বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে। প্রধান নদনদীর পানি বাড়ায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে বন্যার পানিতে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন লাখ লাখ মানুষ। বন্যাকবলিত এলাকায় খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে। ত্রাণের জন্য হাহাকার চলছে বানভাসি মানুষের। বন্যাকবলিত এলাকায় পশুখাদ্যেরও সংকট দেখা দিয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র গতকাল জানিয়েছে, উত্তরাঞ্চলের ৮টি নদনদীর ৯০টি পর্যবেক্ষণ স্টেশনের মধ্যে ৬৩ স্টেশনে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে।

এর মধ্যে ১২টি স্টেশনে পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। মঙ্গলবার যমুনা নদীর বাহাদুরাবাদ স্টেশনে পানি বিপদসীমার ৬৪ সে.মি ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও বুধবার ৭৮ সে.মি ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। একই নদীর সারিয়াকান্দি স্টেশনে মঙ্গলবার ৪০ সে.মি ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও বুধবার প্রবাহিত হয়েছে ৫৫ সে.মি ওপর দিয়ে। এছাড়া মঙ্গলবার যেসব নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল বুধবার সেসব নদীর পানি প্রায় প্রত্যেকটিতেই ৫ থেকে ১৬ সে.মি বৃদ্ধি পেয়েছে। হ্রাস পেয়েছে মাত্র তিনটি পয়েন্টে।
নদনদীর পরিস্থিতির রিপোর্টে বলা হয়েছে, ব্রহ্মপুত্র-যমুনা, গঙ্গা-পদ্মা নদীসমূহের পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। এটির বৃদ্ধি আগামী ২৪ ঘণ্টা অব্যাহত থাকতে পারে। অপর দিকে সুরমা-কুশিয়ারা নদীসমূহের পানি হ্রাস পাচ্ছে। এ দুই নদীর পানি আরো কমবে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রে ‘বৃষ্টিপাত ও নদনদীর অবস্থা’র রিপোর্টে বলা হয়, মঙ্গলবার সকাল নয়টা থেকে রাত নয়টা পর্যন্ত দুর্গাপুর স্টেশনে বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ২০০ মিলিমিটার। ভাগ্যকূল স্টেশনে ৮৭ মিলিমিটার, বগুড়া স্টেশনে ১৫২ মিলিমিটার, ঢাকায় ৯৪ মিলিমিটার, দেওয়ানগঞ্জে ৯০ মিলিমিটার, যশোরে ৮০ মিলিমিটার, রাজশাহীতে ৮০ মিলিমিটার, রোহনপুর ৬৯ দশমিক ৫ মিলিমিটার, চাঁপাই নবাবগঞ্জ ৬৭ দশমিক ৫ মিলিমিটার, সাতক্ষীরায় ৬৫ দশমিক ৫ মিলিমিটার, কক্সবাজারে ৬৪ মিলিমিটার, নওগাঁয় ৬২ দশমিক ৩ মিলিমিটার, জামালপুর ৬২ মিলিমিটার, মহাদেবপুর ৫৯ মিলিমিটার, বরগুনায় ৪২ মিলিমিটার, নরসিংদীতে ৩৭ দশমিক ৪ মিলিমিটার ও বৈরববাজার স্টেশনে ৩৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়া অফিস জানায়, মৌসুমি বায়ুর কারণে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মাঝারি থেকে ভারি বর্ষণ অব্যাহত থাকতে পারে। এতে নতুন করে কিছু অঞ্চলে বন্যা হতে পারে। আবার কিছু কিছু অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কমে যাওয়ায় বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।