বরিশালের সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ

32

খুলনা বিভাগের প্রথম ইনিংসে করা ৪৪৪ রানের জবাবে বরিশাল আগের দিন গুটিয়ে যায় ২৫৮ রানে। পড়ে ফলোঅনের লজ্জাতে। তবে তাদের ব্যাট করতে না পাঠিয়ে ১৮৬ রানে এগিয়ে থাকা খুলনা ব্যাট করতে নেমে ৭ উইকেট হারিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ২১৬ রান সংগ্রহ করে ইনিংস ঘোষণা করে। ফলে বরিশালের সামনে তৃতীয় দিনের শেষ বিকালে জয়ের জন্য লক্ষ্য দাঁড়ায় ৪০৪ রানের। আর ১২ ওভার খেলে ৩২ রান সংগ্রহ করে কোনো উইকেট না হারিয়ে। আজ চতুর্থ ও শেষ দিনে তাদের ৩৭১ রান করতে হবে। তবে প্রথম শ্রেণির ম্যাচের চতুর্থ দিন ব্যাট করা খুব সহজ হবে না খুলনা শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামে। জাতীয় ওয়ানডে দলের অধিনায়ক ও দেশের সেরা পেসার মাশরাফি বিন মুর্তজা ও জাতীয় দল থেকে বাদ পড়া অভিজ্ঞ স্পিনার দলের অধিনায়ক আবদুর রাজ্জাকরা চেপে ধরলে বরিশালের জন্য দিনটি কঠিন চ্যালেঞ্জেই কাটবে।
আগের দিন ১৭১ রানে ৬ উইকেট হারিয়েছিল বরিশাল বিভাগ। সামনে ছিল ফলোঅন এড়ানোর কঠিন চ্যালেঞ্জ। রাফসান আল মাহামুদ ৫৮ ও নুরুজ্জামান ৫২ রানে তৃতীয় দিনের খেলা শুরু করেন। স্কোরবোর্ডে কোনো রান যোগ না করেই সাজঘরের পথ ধরেন রাফসান। তবে নুরুজ্জামান টিকে থেকে প্রথমবারের মতো প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট ক্যারিয়ারে সেঞ্চুরির স্বাদ নেন। তবুও ২৫৮ রানে গুটিয়ে যায় বরিশাল। আগের দিনের ৫২ রানের সঙ্গে আজ ৪৯ রান যোগ করেন নুরুজ্জামান। ১৭৫ বলে ৮ চার ও ৩ ছক্কায় ১০১ রানের ইনিংসটি সাজান ডানহাতি এ ব্যাটসম্যান। ৩৬ রানের জন্য ফলোঅন এড়াতে না পারলেও তাদের ফিল্ডিংয়ে পাঠায় খুলনা। খুলনার হয়ে ৪টি করে উইকেট নেন আল-আমিন হোসেন ও আব্দুর রাজ্জাক। ১টি করে উইকেট পান মাশরাফি বিন মুর্তজা ও মেহেদী হাসান। অন্যদিকে দ্বিতীয় ইনিংসে ৭ উইকেটে ২১৬ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে খুলনা বিভাগ। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৫৭ করে রান করেন উইকেট কিপার ব্যাটসম্যন কাজী নুরুল হাসান সোহান ও তুষার ইমরান। মেহেদী হাসান ২৮ ও রবিউল ইসলাম রবি ২৪ রান করেন। মাশরাফি ও জিয়াউর রহমানের ব্যাট থেকে আসে ১৬ করে রান। বরিশালের হয়ে সর্বোচ্চ ৩টি উইকেট নেন সোহাগ গাজী। কামরুল ইসলাম রাব্বী ও মনির হোসেন ২টি করে উইকেট নেন।

জহুরুলের ব্যাটে ড্র’র পথে রাজশাহী
লীগের দ্বিতীয় স্তরের ম্যাচে রাজশাহীতে গতকাল প্রথম ইনিংসে চট্টগ্রাম অলআউট হয় ৪৩২ রানে। চট্টগ্রামের বড় রানের জবাব দারুণভাবেই দিচ্ছিল রাজশাহী বিভাগ। ব্যাট হাতে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন জহুরুল ইসলাম। কিন্তু বৃষ্টি এসে থামায় জহুরুল ও রাজশাহীকে। ১ উইকেটে ১৪৭ রান তোলার পর বৃষ্টিতে শেষ হয় তৃতীয় দিনের খেলা। ম্যাচের ভাগ্য ড্রর দিকে যাচ্ছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। চট্টগ্রাম দিন শুরু করেছিল ৮ উইকেটে ৪১৯ রান নিয়ে। তবে ১৩ রান যোগ করেই হারায় শেষ দুই উইকেট। জবাব দিতে নেমে রাজশাহীকে ওপেনিং জুটিতেই শতরান এনে দেন জহুরুল ও মাইশুকুর রহমান। ৩৬ রান করা মাইশুকুরকে ফিরিয়ে ১০৩ রানের জুটি ভাঙেন ইমরুল করিম। দ্বিতীয় উইকেটে নাজমুল হোসেন শান্তকে নিয়ে আরেকটি কার্যকর জুটি গড়েন জহুরুল। এই জুটির এগিয়ে চলার পথেই দুপুর সোয়া একটায় নামে বৃষ্টি। এরপর আর মাঠে খেলা গড়ায়নি। ১২ চারে ১১৯ বলে ৭৫ রানে অপরাজিত থাকেন জহুরুল।

অবশেষে বগুড়ায় মাঠে বল গড়ালো
বগুড়ার শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হয়েছে রংপুর বিভাগ ও ঢাকা বিভাগ। কিন্তু প্রথম দুইদিন দুই দলকেই ড্রেসিংরুমে বসে থাকতে হয় বৃষ্টির কারণে মাঠ খেলার অনুপযুক্ত থাকায়। তবে তৃতীয় দিনের শেষ বিকালে মাঠে বল গড়ায়। টস জিতে রংপুর বিভাগ বিকাল ৪টায় ব্যাট করতে নামে। ১৭ ওভার ব্যাট করে কোনো উইকেট না হারিয়ে ৪৯ রান তুলে দিন শেষ করে। ক্রিজে সায়মন ২৮ ও জাহিদ ২০ রানে অপরাজিত থাকেন। ৪৬ বলে ৩টি চার ও ১ ছক্কায় ২৮ রান করেছেন সায়মন। আর ৫৬ বল খেলে ৩টি চারের সাহায্যে ২০ রান করেছেন জাহিদ জাভেদ। ঢাকা বিভাগের পাঁচজন বোলার বল করলেও কোনো সফলতার মুখ দেখেননি।

কক্সবাজারে তৃতীয় দিনও পরিত্যক্ত
দ্বিতীয় স্তরের আরেক ম্যাচে কক্সবাজারের শেখ কামাল আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে ম্যাচের তৃতীয় দিনেও বল গড়ায়নি মাঠে। বৃষ্টি ও ভেজা আউটফিল্ড মিলিয়ে ঢাকা মেট্রো ও সিলেটের ম্যাচে টানা তৃতীয় দিন পরিত্যক্ত হয় খেলা। প্রথম রাউন্ডে এ মাঠে বৃষ্টির কারণে ম্যাচ ড্র হয়। তাই তৃতীয় রাউন্ড থেকে ১৯তম এনসিএলের ম্যাচ এ মাঠে আর হচ্ছে না।