বাংলাদেশের ভেঙে পড়ায় বিস্মিত প্লেসি

25

পচেফস্ট্রুম টেস্টের পঞ্চম দিনে বাংলাদেশ উইকেটে টিকতে পারে মাত্র ৮৩ মিনিট। এত কম সময়ে বাংলাদেশকে গুঁড়িয়ে দিতে পেরে একটু যেন বিস্মিত ডু প্লেসি। বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংস প্রসঙ্গে তিনি বলেন,‘ টেস্টের চার দিন বাংলাদেশকে চাপে রেখেছি।  ভেবেছি পঞ্চম দিনে আর এক-দুটি উইকেট নিতে পারলেই তাদের চাপটা আরো কয়েকগুণ বেড়ে যাবে। তবে আমরা সত্যিই এটা ভাবিনি যে, তারা এত তাড়াতাড়ি ভেঙে পড়বে এবং আমরা এত সহজেই রেজাল্ট পেয়ে যাবো।’ প্রোটিয়া অধিনায়ক বলেন, ‘এই ফ্লাট উইকেটে আমাদের বোলাররা অনেক সুযোগ তৈরি করেছে, তারা খুব দারুণভাবে উইকেটে মানিয়ে নিয়েছে। তারা নিয়ন্ত্রিত বোলিং করেছেন। এতে আমরা পাঁচদিনই বাংলাদেশকে চাপে রাখতে পেরেছি।
নিজেদের প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ সব উইকেট হারিয়ে সংগ্রহ করতে পারে ৩২০ রান। কিন্তু দ্বিতীয় ইনিংসে ৪২৪ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে গুটিয়ে যায় মাত্র ৯০ রানে। মাঠ ছাড়ে তারা ৩৩৩ রানের পরাজয় মাথায় নিয়ে।
উইকেটে ছিল না বাড়তি কোনো বাউন্স। ছিল না প্রত্যাশিত গতিও। পচেফস্ট্রমের উইকেট যেন ছিল সফরকারীদের ঘরের মাঠের মতো। আর তাই জয়ের পরেও উইকেট নিয়ে খুব খুশি নন স্বাগতিক দলের অধিনায়ক ফাফ ডু প্লেসি। এমন দাপুটে জয়ের পর ম্যাচ শেষে পিচ নিয়ে জানতে চাইলে প্লেসি তার নেতিবাচক মনোভাবই ব্যক্ত করেন। তার মতে, উইকেট যেভাবে তৈরি করা হয়েছে তাতে মনে হচ্ছিল বাংলাদেশ তাদের ঘরের মাঠে খেলছে।
প্রথমে উইকেটের সমালোচনা করলেও পরে সন্তোষই প্রকাশ পেয়েছে প্লেসির কণ্ঠে, ‘যদিও উইকেট ভালো ছিল। আমি প্রশংসা করছি তাদের যারা এই রকম উইকেট দিয়েছেন এবং সকল প্রশংসার দাবিদার তারাই। কিন্তু কন্ডিশনের (উইকেট) কথা বিবেচনা রাখতেই হবে যদি প্রতিপক্ষ হয় বাংলাদেশের মতো। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে যে আমরা চেষ্টা করেছি উইকেটের সর্বোচ্চ ফায়দা তুলে নিতে।’
স্বাগতিক হিসেবে উইকেটের সুবিধা নিয়ে থাকে সব স্বাগতিক দেশই। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে মাঠে নামার আগে বাংলাদেশও ভেবেছিল উইকেটে থাকবে গতির ঝড় আর বাউন্স। তাই বাংলাদেশ অধিনায়ক টস জিতেও চোখ বুজে নিয়ে নেন ফিল্ডিং। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই নিজেদের ভুলটা বুঝতে পারেন মুশফিক-তামিমরা। পেস দূরে থাক কোনো বাউন্সই আদায় করে নিতে পারেননি মোস্তাফিজ-শফিউলরা। স্পিনেও ছিল না করার মতো কিছু। আর সেই সুবিধা নিয়ে প্রোটিয়ারা গড়ে তোলে রানের পাহাড়। ৪৯৬ রান তোলে তারা মাত্র তিন উইকেট হারিয়ে। আর এই সহজ ব্যাটিংয়ের রহস্য নিয়ে অধিনায়ক বলেন, ‘গ্রাউন্ডসম্যানরা আমাদেরকে বলেছিলেন স্পিন নিয়ে চিন্তিত হওয়ার কিছু নেই। সাড়ে তিন দিন এমনকি চার দিন পর্যন্ত স্পিন ধরার সম্ভাবনা নেই। আমরা বাস্তবে তাই দেখেছি এবং এতে আনন্দিত’।
আগামী শুক্রবার থেকে শুরু হচ্ছে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট ম্যাচ।