বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে পারে ৬ লাখ রোহিঙ্গা শিশু

29

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলা সহিংসতার তোপে এই বছর শেষ হওয়ার আগে মিয়ানমার থেকে প্রায় ৬ লাখ শিশু বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে পারে বলে জানিয়েছে দাতব্য সংস্থা সেভ দ্য চিলড্রেন। কিছু রোহিঙ্গা বিদ্রোহীরা ২৫শে আগস্ট রাখাইনের বেশকিছু পুলিশ পোস্ট ও সেনাবাহিনীর শিবিরে হামলা চালায়। ওই হামলায় ডজনখানেক পুলিশকর্মী নিহত হয়। রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের ওই হামলার জবাবে অঞ্চলটিতে সামরিক অভিযান চালাচ্ছে বলে জানিয়েছে সামরিক বাহিনী। তবে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা শরণার্থীরা জানাচ্ছে ভিন্ন কথা। জাতিসংঘ কর্মকর্তারা এই সামরিক অভিযানকে রোহিঙ্গা নিধনযজ্ঞ হতে পারে বলে জানিয়েছেন। জাতিসংঘ অনুসারে, ইতিমধ্যে ৪ লাখের বেশি রোহিঙ্গা মুসলিম প্রাণ বাঁচাতে এদেশে পালিয়ে এসেছে বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশটি থেকে। পালিয়ে আসা শরণার্থীর অর্ধেকের বেশিই শিশু। এর মধ্যে ১ হাজার ১০০’র বেশি শিশু দুর্গম কাদায় ভরা ও পাহাড়ি রাস্তা পাড়ি দিয়ে একাই পালিয়ে এসেছে। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি। দাতব্য সংস্থা সেভ দ্য চিলড্রেনের বাংলাদেশ প্রধান মার্ক পিয়ের্সে বলেন, ‘জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা অনুসারে, যদি রোহিঙ্গাদের পালিয়ে আসা অব্যাহত থাকে তাহলে এ বছর শেষ হওয়ার আগে বাংলাদেশে মোট রোহিঙ্গা শরণার্থীর সংখ্যা ১০ লাখ ছাড়িয়ে যেতে পারে। এর মধ্যে শুধু শিশুদের সংখ্যাই হবে প্রায় ৬ লাখের মতন।’ জাতিসংঘ আরো জানিয়েছে, এটাও সম্ভব যে রাখাইন থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের সংখ্যা সব মিলিয়ে আনুমানিক ১১ লাখে পৌঁছাতে পারে। প্রতিদিন নতুন করে হাজির হচ্ছে রোহিঙ্গাদের দল। তারা রাস্তার পাশে, পাহাড়ে, কক্সবাজারে অবস্থিত অস্থায়ী শিবিরগুলোর পাশে খোলা জায়গায় আশ্রয় নিচ্ছে। বাংলাদেশ ও ত্রাণ সংস্থাগুলো তাদের প্রয়োজনীয়তা মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে। ত্রাণ সংস্থাগুলো জানিয়েছে, হাজার হাজার রোহিঙ্গা আধা-ক্ষুধার্ত হিসেবে দিন পার করছে। যে কোনো মুহূর্তে একটি বড় ধরনের ‘হেলথ ইমার্জেন্সির’ সৃষ্টি হতে পারে। উল্লেখ্য, হেলথ ইমার্জেন্সি বলতে যে কোনো ধরনের রোগব্যাধি মারাত্মকভাবে ছড়িয়ে পড়াকে বোঝায়। বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ ঘোষণা দিয়েছে, ৪ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীর জন্য ১৪ হাজার আশ্রয়কেন্দ্র তৈরি করা হবে। আবার এটাও বলেছে যে, একটি জনশূন্য দ্বীপ মানুষের বসবাসের উপযোগী করে তোলা হচ্ছে যেখানে তাদেরকে স্থানান্তর করা হতে পারে। পিয়ের্সে বলেন, ‘তার দল বিশেষ করে এতিম ও মানসিকভাবে আঘাত পাওয়া শিশুদের নিয়ে চিন্তিত, যারা বাংলাদেশে একা একা পালিয়ে এসেছে।’ তিনি বলেন, ‘এটি বেশ চিন্তার বিষয়। কারণ এই শিশুরা একটি বিশেষ ভঙ্গুর অবস্থায় রয়েছে। তারা নির্যাতন ও ব্যবহৃত হবার ঝুঁকিতে আছে। পাশাপাশি শিশু পাচারের মতো ঝুঁকিতেও রয়েছে।’ তিনি আরো বলেন,‘কিছু কিছু শিশুরা নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ড দেখেছে। কিছু কিছু শিশুকে গুলি করা হয়েছে। অন্যরা তাদের বাড়িঘর পুড়ে যেতে দেখেছে। এছাড়া খবর মিলেছে, কোনো কোনো শিশু তাদের পিতা-মাতাকে খুন হতে পর্যন্ত দেখেছে।’ দাতব্য সংস্থাটি জানিয়েছে, এটি এরকম শিশুদের জন্য শিবিরে নিরাপদ জায়গা তৈরি করছে। সেখানে তারা ২৪ ঘণ্টা সহায়তা ও সুরক্ষা পাবে। এছাড়া তাদের পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের খুঁজে বের করার চেষ্টাও করা হচ্ছে। বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা রোহিঙ্গা এতিমদের দেখাশোনার জন্য বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।

 

 

 

 

 

সূত্র : মানবজমিন অনলাইন পত্রিকা